somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চর্যাপদ ও দেড়শ বছরের অন্ধকার

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন ধরা হয়
চর্যাপদকে। বইটির নাম বেশ রহস্যময়। কেউ
একে "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়" বলে থাকে।
বইটির কথা ২০ শতকের গোঁড়ার দিকেও
কেউ জানত না। বইটির সন্ধান মিলে ১৯০৭
সালে।
চর্যাপদ শব্দের অর্থ জীবন যাপনের পদ্ধতি
যে কবিতা বা চরনে লিখা থাকে। জীবন
যাপনের পদ্ধতিকে চর্যা বলে।‘চর্যা’
থেকে বর্তমানে ‘চর্চা’ শব্দটির
উৎপত্তি।‘পদ’ অর্থ চরণ বা পা।‘
বাংলায় মুসলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবার
আগে ব্রাহ্মণ্য হিন্দুসমাজের পীড়নে এবং
মুসলমান শাসনে ধর্মচ্যুত হবার আশংকায়
বাংলার বৌদ্ধগণ তাঁদের ধর্মীয় পুঁথিপত্র
নিয়ে শিষ্যদেরকে সঙ্গী করে নেপাল,
ভুটান ও তিব্বতে পলায়ন করেছিলেন– এই
ধারণার বশবর্তী হয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
চারবার নেপাল পরিভ্রমণ করেন। ১৯০৭
খ্রিস্টাব্দে তৃতীয়বার নেপাল
ভ্রমণকালে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় নামক একটি
পুঁথি নেপাল রাজদরবারের
অভিলিপিশালায় আবিষ্কার করেন।
চর্যাপদ নিয়ে অনেক বিতর্ক। ১৯১৬ সালে
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষার
বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে একটি বই প্রকাশ
করেন পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। যার মধ্যে
এই বইয়ের কথা উল্লেখ ছিল। বইটি প্রকাশ
করার মত তুমুল আলোচনা হয়। বাঙালি
পণ্ডিতরা দাবি করে এটি বাংলা ভাষার
আদি নিদর্শন, অন্যদিকে অসমিয় পণ্ডিতরা
দাবি করে একে অসমিয় ভাষার বলে,
উড়িয়া পণ্ডিতরা দাবি করেন এটা তাদের
ভাষার, বাদ পড়েনি মৈথিলী, হিন্দিও।
তখন এগিয়ে আসেন বাংলার সেরা
পণ্ডিতরা। ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
১৯২৬ সালে ইংরেজিতে একটি ভয়াবহ
বিশাল বই লিখেন " বাংলা ভাষার
উৎপত্তি ও বিকাশ" নামে আর প্রমান করেন
"চর্যাপদ" বাংলার অধিকার। তাছাড়া ডক্টর
প্রবোধচন্দ্র বাগচি, ডক্টর মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ,
ডক্টর সুকুমার রায়, ডক্টর শশিভূষণ দাশগুপ্ত
আলোচনা করে প্রমান করেন চর্যাপদের
উৎস। চর্যাপদ জলে উঠে বাংলা বাসার
প্রদীপের মত।
চর্যাপদের কবিতা আছে মত সাড়ে ৪৬ টি
( পূর্ণ ৪৬টি, আর একটি ছেঁড়া খণ্ডিত
কবিতা ), কবিতাগুলো লিখেছে ২৪ জন
বৌদ্ধ বাউল কবি। যাদের ছিল না ঘরবাড়ি,
তারা ছিলেন সমাজের নিচুতলার
অধিবাসি। তারা জানুক না জানুক এখন
তাদের গণ্য করা হয় বাংলা সাহিত্যের
প্রথম কবিকুল হিসেবে। কবিদের মধ্যে
কাহ্নপাদ সবচেয়ে বেশি কবিতা
লিখেছেন। তার অপর নাম কৃষ্ণাচার্জ। তার
লেখা কবিতা পাওয়া যায় ১২টি। তাছাড়া
আছেন লুইপাদ, শরহপাদ,চাতিল্লপাদ,
ডোম্বিপাদ, শরবপাদ, শান্তিপাদ, লুইপাদ,
কুক্কুরিপাদ।
চর্যাপদের সবগুলো কবিতা ছন্দে রচিত,
পঙ্কির শেষে আছে মিল। এগুলো আসলে
গান। তাই কবিরা প্রতিটি কবিতার শুরুতে
কোন সুরে কবিতাটি গাওয়া হবে তার
উল্লেখ করেছেন।
চর্যাপদ ৯৫০ থেকে ১২০০ অব্দের মধ্যে
রচিত হয়েছিল। এর পর ১২০০ থেকে ১৩৫০
সালের মাঝে পাওয়া যায়নি কোন
সাহিত্যের নিদর্শন। অনেকে বলে
থাকেন শূণ্যপুরাণ - রামাই পন্ডিত রচিত ধর্ম
পূজার শাস্ত্রগ্রন্থ ও -শেফশুভদয়া- রাজা
লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র কর্তৃক
রচিত এ সময়ের সাহিত্য। তবুই সাহিত্যের
বিবর্তনের ধারায় এ সময়টাকে সাহিত্যের
অন্ধকার যুগ বলা হয়।
১২০৭ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ
বিন বখতিয়ার খিলজি লক্ষন সেনকে
পরাজিত করে বাংলার সিংহাসনে
বসেন। অনেকে মনে করেন নতুন যুগের
শাসকরা এত অত্যাচারী ছিল যে কারো
মনে সাহিত্য রচনার কথা জাগেনি। কিন্তু
এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা ইতিহাস
থেকে আমরা জানতে পারি মুসলিমরা
আমাদের দেশের সাহিত্যের বেশ উৎসাহ
দিয়েছে। যারা প্রথমে সাহিত্যকে
দমিয়ে রেখেছে তারা তো পরবর্তীতে
সাহিত্যকে উৎসাহ দিবে এটা তো হতে
পারে না। আসলে এই সময়ের মানুষ সাহিত্য
চর্চা করত তা ছিল মুলত মুখে মুখে গাওয়া
গান, পুথি লিখে রাখার জন্য ছিল না
ছাপাখানা।
তাহলে প্রশ্ন জাগবে চর্যাপদ তাহলে
লিখা অবস্থায় পাওয়া গেল কিভাবে?
আসলে সেটা পাওয়া গিয়েছে
নেপালে। নেপালের ভাষা বাংলা না,
তখন বাংলা ভাষাকে ধরে রাখার জন্য
প্রয়োজন হয়েছিল একে বর্ণমালায় লিখে
রাখা।
হুমায়ুন আজাদ তার " লাল নীল দিপাবলি"
বইতে যদিও বলেছেন যে এই সময় আসলে
কিছুই নাই। আসলে মূল কথা হচ্ছে সেই
সময়ে এই সাহিত্য দুটির সন্ধান পাওয়া
যায়নি। তবে শূণ্যপুরাণ ও শেফশুভদয়া এর
সন্ধান পাওয়ার পর ১২০০ থেকে ১৩৫০ কে
অন্ধকারযুগ বলা আসলে যুক্তিযুক্ত নয়। এখন
আমরা ৯৫০ থেকে ১৩৫০ সাল সময়কে
প্রাচীন যুগ হিসেবে বলতে পারি।
উৎসঃ
১- লাল নীল দিপাবলি- হুমায়ুন আজাদ
২-ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:১১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×