আমার মেন্টর প্রফেসর ম্যাকের সাথে কিছুক্ষণ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ছুটির দিনে ভোর ৪:৫০ এ ঘুম থেকে উঠেছি। কিছু সময় আল্লাহকে ডেকে রওনা দিলাম ম্যাকের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে, তার অফিসে। এদেশে খুব সম্ভব একজন প্রফেসরই আছেন যিনি ভোর ৫:৩০ টা বা তারও আগে অফিস শুরু করেন। ব্লগে আমার শুরু দিকে প্রফেসর ম্যাককে নিয়ে চারটি ধারাবাহিক পোস্ট আছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হিসেবে ম্যাক ২৫,০০০ টাকা স্কেলে বেতন পান। ৫,০০০ টাকা নিজের পকেটে রেখে বাকিটা দান করেন বিশ্ববিদ্যালয়, আমজনতার মাঝে। সেইন্ট ম্যাকের সাথে ইতিপূর্বে আমার কখনও কথা হয়নি। পার্থিব জীবনের প্রতি আসক্তিশূণ্য, চিরকুমার, সম্পূর্ণ প্রচার বিমুখ প্রফেসর ম্যাক পরিচিত মহলে এক বিশালতা ও উচ্চতার নাম।
ভোর ৫:৪৫ এ ওল্ড একাডেমিক বিল্ডিং এ পৌছলাম। ফ্যাকাল্টির মূল ভবন ফেলে ম্যাক এখানেই নিভৃতে তার অফিসে বসেন। ছুটির দিনে এই ভোরে যথারীতি একাডেমিক ভবনের মূল ফটকে তালা পেলাম। উপস্থিত দারোয়ানকে শুধালাম,
-” ম্যাক স্যারকে এদিকে দেখেছেন?”,
-” উনি তো ভিতরেই আছেন।”
আমি হতভম্ব।
- ”তা স্যারকে ভিতরে রেখে গেটে তালা কেন?”
- ”বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বলে কথা, বন্ধ থাকলে তালা দিতেই হবে... ভিতরে যান।”
ভিতরে গিয়ে দেখি ম্যাক গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন লিখছেন। প্রথমে ঢুকার সাহস হলোনা। তারপর আস্তে করে দরজার সামনে দাড়িয়ে সালাম দিলাম। ম্যাক মাথা নাড়লেন। এ প্রথম খেয়াল করলাম নামায পড়ে মাথায় বিশাল কালো দাগ পড়ে গিয়েছে।
-”স্যার আমি এসেছিলাম ক্যারিয়ার প্ল্যান নিতে, আমরা এবার..”
-”চাকুরি খুজেন, চাকুরি খুজেন (সেই অসাধারণ গম্ভীর, যান্ত্রিক কন্ঠ)।”
-”স্যার দেশের বাইরে পড়াশোরা করার ইচ্ছা...”
-”পারলে চলে যান। এদেশে কোন কিছু হবেনা। (সবাইকে উনি আপনি সম্বোধন করেন)”
-”স্যার একটা পেপার হলে স্কলারশীপ পেতে সুবিধা হতো”
-”কিছু করতে চাইলে কামরুল হাসানের (ডি এস পি র মেগা বস) আন্ডারে করেন”
-”স্যার আমার বায়ো মেডিক্যালের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা... ”
-”ঐ আয়নাল হককে (বায়ো মেডিক্যালের প্রফেসর) দিয়ে হবেনা, কামরুল হাসান ছাড়া হবেনা..”
-”স্যার এখন কি করবো?”
-”ভার্সিটি গুলোতে এপ্লাই করেন... সি জি পি এ কতো? ”
আমি বললাম।
-”হু, এপ্লাই করে দেখেন”
এক বুক তৃপ্তি আর সাহস নিয়ে স্যারকে সালাম দিয়ে বেরিয়ে গেলাম। ঘড়িতে তখন ভোর ৫ বেজে ৫৭।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন
হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
গোসাইপুর ১৯৭১

জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ মোহমায়া

খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।
ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।
হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।