somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত তুমি লেখাপড়ায় ভালো করবে। সব সময় ভালো রেজাল্ট করবে। লেখাপড়া শেষ করে তুমি ভালো চাকরি করবে। পথ তো খোলা। বড় হয়ে তুমি কি হবে, সেটা তোমাকেই ঠিক করতে হবে। ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যাংকার। কিছু না কিছু করতেই হবে। লেখাপড়া শেষ করে চুপচাপ বসে থাকলে হবে না। হ্যা বিয়ে করবে, ঘরসংসার করবে। কিন্তু টাকা ইনকাম করতে হবে। টাকা তোমাকে সাহস ও শক্তি দিবে। বিয়েই জীবনের সব না। যে রাধে সে চুলও বাঁধে। যে দুই হাত সমান দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারেন তাকে ইংরেজিতে বলা হয়- Amnidextrous person. বহু গুণে গুণান্বিতকে বলা হয় A person of versatile parts.

ফারাজা তাবাসসুম খান-
ফাজ্জা, আমি তোমার জন্য কিছুই রেখে যাবো না। টাকা, বাড়ি, গাড়ি, জমিজমা। তোমার যা প্রয়োজন সেটা তুমি ব্যবস্থা করে নিবে। তুমি ইনকাম করবে। তোমার যা যা প্রয়োজন তুমি তোমার যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে করে নিবে। আমি শুধু তোমাকে পথ দেখাবো। সিড়ি দেখাবো। তোমাকে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর জন্য তোমাকে দেশের সেরা স্কুল কলেজে পড়াবো। মানুষের শিক্ষা থাকলে আর কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। শিক্ষাই তোমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তোমার শিক্ষাই তোমাকে পথ দেখাবে। আমি যদি তোমার জন্য অনেক টাকা রেখে যাই, গাড়ি, বাড়ি আর ব্যাংক ব্যালেন্স রেখে যাই, তাহলে তুমি অলস হয়ে যাবে। হয়তো তোমার মধ্যে কিছুটা অহংকারও প্রকাশ পাবে। বেশির ভাগ মেয়েরা বাবা অথবা স্বামীর উপর নির্ভর করে। তুমি কারো উপর নির্ভর করবে না। তোমার বিশ্বাস থাকবে শুধু তোমার নিজের উপর। তাহলেই এগিয়ে যেতে পারবে।

ফাজ্জা, দেশ ও সমাজের জন্য প্রত্যেক মানুষের কিছু করা প্রয়োজন।
আমি বলছি না তুমি রাজনীতি করো। বাংলাদেশের রাজনীতি বড় নোংরা। রাজনীতি যারা করে তারাও নোংরা। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে বদ হতে হবে। রাজনীতি না করেও ইচ্ছা থাকলে দেশে জন্য ভালো ভালো কিছু করা যায়। তুমি মানুষ। এজন্য তোমাকে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। দেশের কথা ভাবতে হবে। দেশ ভালো থাকলেই তুমি ভালো থাকবে। সবাই ভালো থাকবে। শুধু স্বার্থপরের মতো নিজে একা ভালো থাকলে হবে না। মাদার তেরেসা রাজনীতি করেন নাই। তবু বিশ্বের সবাই তাকে ভালোবাসে। ফাজ্জা তুমি অন্য দশজনের মতো হয়ো না। তুমি সবার থেকে আলাদা হও। দশজন যেদিকে সেদিকে তোমার যাওয়ার দরকার নেই। তুমি যাবে মঙ্গলময় মহা সত্যের দিকে।

ফাজ্জা মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি?
শুধু কোনো রকমে বেচে থাকা? শুধু খাওয়া-দাওয়া করা? লেখাপড়া করা? বিয়ে করা? ঘর সংসার করা? ঘুরে বেড়ানো? আমার মনে হয়- মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য উপভোগ করা। জীবনটাকে উপভোগ করা। মানুষ তো আর বেশি দিন বাচে না। গড়ে একজন মানুষ ৬০ বা ৭০ বছর বাচে। এই সময়ের মধ্যেই জীবনটা উপভোগ করাই শ্রেয়। জীবন সুন্দর, নির্মমও বটে। নির্মমতাকে পাশ কাটিয়ে সৌন্দর্য্যকে উপভোগ করতে হয়। সেই সুযোগটুকুও যদি না থাকে কল্পনায় একটা জগৎ সৃষ্টি করে হলেও ভালো থাকতে হয়। 'লাইফ ইজ বিউটিফুল' মুভিটা আমার ভীষন পছন্দের। শেষের দিকে মুভিটা দেখতে দেখতে আমার চোখ ভিজে উঠেছিলো। মুভিটা দেখো। আরেকটা মুভি আছে- দ্য পারসুইট অব হ্যাপিনেস। আহ কি মুভি! সময় সুযোগ হলে মুভিটা দেখো।

প্রিয় কন্যা আমার- এখন বর্ষাকাল।
আকাশ কালো করে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি তোমাকে দেখতে এসেছি তোমার নানা বাড়ি। দুপুরে এখানেই খাওয়া-দাওয়া করলাম। তোমার মায়ের জন্য আরাম করে খেতেও পারি না। বলে যে কম কম খাও। তোমার ডায়বেটিস। ভাত, রুটি আর চা না খেয়ে কি কি খেতে হবে সেসব আমাকে শুনায়। আমাকে বলে শশা খেতে, বাদাম খেতে, সবজি খেতে। চিরকালের আমার পছন্দ ভাত। সেই ভাত আমাকে তোমার মা বেশি খেতে দেয় না। সামনে বসে থাকে, যেন বেশি খেতে না পারি। আমাকে পরামর্শ দেয় হাঁটতে। যাইহোক, ফাজ্জা এই মুহুর্তে তুমি আমার পাশে বসে ছাতা দিয়ে খেলছো। বৃষ্টি কমলে তোমাকে নিয়ে বাইরে যেতে হবে। এমনটাই তুমি বলে রেখেছো। আইসক্রিম আর চিকেন ফ্রাই খাবে। বাইরে খেতে তোমারও মাও অনেক পছন্দ করে। তোমার জন্মের আগে আমি আর তোমার মা প্রতি সপ্তাহে একদিন বাইরে ডিনার করতাম। তুমি হওয়ার পর তোমাকে ছাড়া আমাদের আর বাইরে যাওয়া হয় না।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×