দু'জন লোক তার দু'কাধে, যেখানে দুই ফেরেশতা হালখাতা নিয়ে, তার ভালমন্দ হিসাব-নিকাশ করছে, সেখানে খামচে ধরে। শরীর ঝাঁকুনি খায়। চিৎকার করতে যেয়ে ক্ষান্ত হয়। এই সব যেন স্বাভাবিক। মনে সাহসও পায়। যে কোন উথাল-পাথালে খাপ খাওয়ার সমর্থ অর্জন করে। নিজেরে ছেড়ে দেয় বিশাল খোলামাঠে, তারপর যেন চোখ বুঝে পা চলা। এই সব পরিবর্তন তাকে অবাক করে। অবাক হয়ে নিজেই নিজেকে দেখে। লোক দু'টো যারা আগে আসমানী রঙের সার্ট পড়তো আর খাকি প্যান্ট, তারা এখন নীল প্যান্ট পড়ে। আর রঙ না জানা এক কালারের সার্ট পড়ে, তারা তাকে টেনে হেঁচড়ে লাইট-পোষ্টের নিচে এনে দাঁড় করায়। দাঁড় করিয়ে তার চারদিকে ঘুরে। মোহাম্মদ নুরুজ্জামান কিছুণ স্থির থাকে। তারপর সে-ও ঘোরে। অতপর স্থির, সবাই। লোক দ'ুটোর হাতে রাইফেল, ওজন একটু বেশী, বহনকারীদের একদিকে হেলে যাওয়ার ভঙ্গিতে তা বুঝা যায়। নুরুজ্জামান আরও ল করে তাদের চোয়াল ভাঙা, চামড়া কুচকানো, গায়ের রং কালচে পোড় খাওয়া। কোমরে পেচানো মোটা কালো বেল্ট শরীরে একেবারে ঢেবে গেছে। লোকগুলো তাকে কিছু বলে না, শুধু একটা বলয়ের মধ্যে আটকে রেখেছে। আর দাঁতে দাঁত ঘষে, কখনো শব্দ করে চো চো, যেন কিছু চিবুচ্ছে, যদিও মুখে কিছু নেই। লোকগুলো কর্তৃত্ব ফলানোর ব্যক্তিত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে, তা যদিও কাকের ময়ূর হওয়ার মতো। নুরুজ্জামানের হাসি পায়। তার হাসিতে তারা গর্জে ওঠে। _ এই মিয়া এত্তো হাসেন ক্যান? _ আমারে ক্যান আটকাইয়া রাখছেন? _ তুমি এত্তো রাইত কি কামে বাইর অইছ? _ শহর দেখতে! _ শহর দেখতে! _ হ, রাইতের শহর... _ এই সব আকাইম্মা কথা বাদ দেও, আসলে আকাম করতে বাইর অইছ। _ তয়, এখন আমারে কী করবেন? _ চুপচাপ খারাইয়া থাহ, দেখি তোমারে কি করা যায়। (আংশিক)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




