somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাঝরাতে

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দু'জন লোক তার দু'কাধে, যেখানে দুই ফেরেশতা হালখাতা নিয়ে, তার ভালমন্দ হিসাব-নিকাশ করছে, সেখানে খামচে ধরে। শরীর ঝাঁকুনি খায়। চিৎকার করতে যেয়ে ক্ষান্ত হয়। এই সব যেন স্বাভাবিক। মনে সাহসও পায়। যে কোন উথাল-পাথালে খাপ খাওয়ার সমর্থ অর্জন করে। নিজেরে ছেড়ে দেয় বিশাল খোলামাঠে, তারপর যেন চোখ বুঝে পা চলা। এই সব পরিবর্তন তাকে অবাক করে। অবাক হয়ে নিজেই নিজেকে দেখে। লোক দু'টো যারা আগে আসমানী রঙের সার্ট পড়তো আর খাকি প্যান্ট, তারা এখন নীল প্যান্ট পড়ে। আর রঙ না জানা এক কালারের সার্ট পড়ে, তারা তাকে টেনে হেঁচড়ে লাইট-পোষ্টের নিচে এনে দাঁড় করায়। দাঁড় করিয়ে তার চারদিকে ঘুরে। মোহাম্মদ নুরুজ্জামান কিছুণ স্থির থাকে। তারপর সে-ও ঘোরে। অতপর স্থির, সবাই। লোক দ'ুটোর হাতে রাইফেল, ওজন একটু বেশী, বহনকারীদের একদিকে হেলে যাওয়ার ভঙ্গিতে তা বুঝা যায়। নুরুজ্জামান আরও ল করে তাদের চোয়াল ভাঙা, চামড়া কুচকানো, গায়ের রং কালচে পোড় খাওয়া। কোমরে পেচানো মোটা কালো বেল্ট শরীরে একেবারে ঢেবে গেছে। লোকগুলো তাকে কিছু বলে না, শুধু একটা বলয়ের মধ্যে আটকে রেখেছে। আর দাঁতে দাঁত ঘষে, কখনো শব্দ করে চো চো, যেন কিছু চিবুচ্ছে, যদিও মুখে কিছু নেই। লোকগুলো কর্তৃত্ব ফলানোর ব্যক্তিত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে, তা যদিও কাকের ময়ূর হওয়ার মতো। নুরুজ্জামানের হাসি পায়। তার হাসিতে তারা গর্জে ওঠে। _ এই মিয়া এত্তো হাসেন ক্যান? _ আমারে ক্যান আটকাইয়া রাখছেন? _ তুমি এত্তো রাইত কি কামে বাইর অইছ? _ শহর দেখতে! _ শহর দেখতে! _ হ, রাইতের শহর... _ এই সব আকাইম্মা কথা বাদ দেও, আসলে আকাম করতে বাইর অইছ। _ তয়, এখন আমারে কী করবেন? _ চুপচাপ খারাইয়া থাহ, দেখি তোমারে কি করা যায়। (আংশিক)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:৪৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×