somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধাবমান জীবনের গল্প

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফকরুল চৌধুরী

শিল্প কী? এ এক উত্তরহীন প্রশ্ন। এর কোনো সঠিক জবাব নেই। তবে মহৎ শিল্পের কতিপয় লক্ষণ আমরা বুঝতে পারি। মহৎ শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে মানুষ। মানুষের ফিগর। এই মানুষকে যতটা সময়, স্পেস ও মহাকালের পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টিগ্রাহ্য করা যায়, তা ততটাই আমাদের কাছে শিল্প হয়ে ওঠে। এর জন্য দরকার পড়ে দৃষ্টিবৈভব। চারপাশের হাজারো মোটিভ, বস্তু, সম্ভাবনা থেকে সঠিক জিনিস শিল্পীকে নির্ণয় করতে হয়। অতঃপর নির্ণয়কৃত উপলক্ষকে যথার্থভাবে দৃষ্টির গোচরীভূত করা। এ কৌশল যে যতটা রপ্ত করতে পারেন, তিনিই তত বড় শিল্পী হয়ে ওঠেন। এর জন্য প্রথমেই দরকার পড়ে অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা দিয়ে মানুষ তার দৃষ্টিগোচরতায় অস্তিত্ব সংলগ্ন বাস্তবতাকে নিজস্ব অনুভবে আনেন। অর্থাৎ এখন আমরা বুঝতে পারছি, শিল্পের সঙ্গে চৈতন্যের একটি যোগ রয়েছে। অতএব বলতে পারি, শিল্প একটি সাধনার বিষয়। তবে কিছু কিছু ঘটনা সাধনাকে হঠাৎ ত্বরান্বিত করে, শিল্পের জিয়নকাঠি সহজেই শিল্পীর হাতে তুলে দেয়। এমনই একটি ঘটনা হলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধ আমাদের শিল্পের পরতে পরতে স্পর্শ করেছে, বাঙালি শিল্পীর অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে যেসব শিল্পীর উত্থান ঘটেছে তাদের মধ্যে একজন হলেন মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বড় ক্যানভাসে গতিশীল মানুষের ছবি আঁকেন। মোটা দাগে এই পরিচয়ে আমরা তাঁকে চিনি। তাঁর পূর্বসূরি হিসেবে এরূপ সবেমাত্র একজন বাঙালি শিল্পীকে আমরা পাই। তিনি হলেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। নড়াইলের সাধারণ মানুষের কাছে যিনি লাল মিয়া নামে পরিচিত। এই লাল মিয়া বাঙালির হাজার বছরের চিত্র-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শিল্পে নতুন এক সংযোজন ঘটান। বাঙালির নিজস্ব আধুনিকতার সংজ্ঞা আমরা তাঁর শিল্পের মধ্যে পাই। তিনি বাঙালির এমন এক কাম্য জগতের কথা ভাবেন, যা বাঙালির মধ্যে সুপ্ত রয়েছে। তিনি উঠন্ত বৃক্ষের মতো বাঙালির উত্থান চান। বাঙালি কৃষকের স্বরাজ চান। সুলতানের এই চাওয়াটা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বলশালী হয়। শিল্পী শাহাবুদ্দিনও একাত্তরের সংগ্রাম থেকে উত্থিত শিল্পী। বড় ক্যানভাস আর পেশল ধাবমান মানুষের ফিগর নিয়ে তার কারবার। এবং বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে দৃশ্যরূপ দিতে তিনিই সবচেয়ে সফল হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সজীব উপস্থাপনা, চিরকালীনতায় একে প্রতিস্থাপন সার্থকভাবেই করতে পেরেছেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন। শাহাবুদ্দিনের ছবিতে ইউরোপীয় চিত্র-ঐতিহ্যের অনুরণন, শিল্পের মিথস্ক্রিয়তা ও অনুপ্রেরণা লক্ষণীয়। কিন্তু মোটিভ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বদেশীয়। বলা যায় প্রতীচ্যের চিত্র-ঐতিহ্য বাঙালির জনজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে-মিশিয়ে উতরে যেতে পেরেছেন তিনি। কবি রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে ‘দেবে এবং নেবে’ আদান-প্রদানের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন বলা যায় শিল্পী শাহাবুদ্দিন তার এক উদাহরণ হয়ে আছেন।

বাকী অংশ পড়তে
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×