somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখি বৃত্তান্ত [3]

২০ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টুনটুনি গো, টুনটুনি, তোমাকে আজ এমন লাগছে কেন? কি এত দুঃখ তোমার ঐ ছোট্ট বুকে? কার জন্য এত কষ্ট তোমর? তুমি কী জান, এ তোমার মূল্যহীন কষ্ট? তোমার এই কষ্টের বালকণা পরিমান দামও কেউ দেবে না। তুমি কী ভেবেছ ঐ মেয়ের মতো_'ওগো বুষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ে না/সে যেন এসে দেখে তার বিহনে আমি কেমন কাঁদন কেঁদেছি' গান গাইলেই সে তোমর কষ্টে পাগল হয়ে যাবে? কখনো না। তুমি কেন ভুলে যাও তুমি তুচ্ছ এক পাখি। তোমার সুখ-দুঃখ, আনন্দ বেদনা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। মানুষের এত সময় কোথায়? বকুলের কথা শুনে টুনটুনির মন তো আরো খারাপ হয়ে গেল। সে ভেজা গলায় বলল_ বকুল তুমি সত্যি বলছো তো? সত্যি, সত্যি। সে এক মুহূর্তের জন্যও তোমার কথা ভাবেনি। কেন ভাববে বল, সে-ত মানুষ পুরুষ মানুষ, ওদের মনে এত আবেগ নেই, ওরা নিজেদের লাভ ছাড়া কিইবা বোঝে?
তাহরে আমাকে যে এত কিছু বলল, এত আদর করল?
টুনটুনির কথা শুনে বকুল তো হেসে কুটিকুটি। বললো-টুনটুনি লো টুনটুনি, তুমি এখনো এত বোকা! এই যে আমি, এত সুন্দর-সুবাসিত ফুল, আমাকে দেখলে ওরা পাগর প্রায় হয়ে যায় গন্ধে হয় মাতাল। কিন্তু কত সময়ের জন্যে? একটু মলিন হয়েই ফেলে দেয়।
-তাই ।
-হঁ্যা, তাই।
-তাহলে আমি অন্য কিছু হব?
-কি হবে তুমি?
-আমি রূপসী নারী হবো, তাহলে তো সে আমার কথা ভাববে, আমাকে অনেক অ-নে-ক-ভালবাসবে?
-হায় টুনটুনি, তুমি কী আরো কষ্ট বাড়াতে চাও?
-কেন গো?
-তুমি একটা টুনটুনি। টুনটুনি হয়েই থাকো। নারী হতে যেও না। নারীর কষ্ট সহ্য করতে পারবে না। একজন নারীকে কেউ ভালবাসে না, ভালবাসে তার অন্য কিছুকে। তাই পুরুষের কাছে সকল নারীই এক। তারা কোনো নারীকেই আলাদা করে দেখতে পারে না। ওরা দ্রুত নারী বদলায়।
-পুরুষেরা এত নিষ্ঠুর হয় কেন?
-জানি না, তোমার যদি কখনো ঈশ্বরের সাথে দেখা হয় তাকেই জিজ্ঞেস করো।
-তবুও তুমি তোমার মতো করে বলো?
-পুরুষ মানুষের মন হল কচুপাতা। কোনো ভালবাসাই সেখানে দাগ ফেলার সুগোগ পায় না। যতই গভীর হোক না কেন সে ভালোবাসা। বৃষ্টির পানির মতো সব ভালবাসাই গড়িয়ে পড়ে ওদের বুক থেকে।
-এই জন্যেই বুঝি সে একটি বারের জন্যও আমার খোঁজ নেয়নি। অথচ কথা ছিল... এখন আমি কী করব, বলো ত..?
-কি আর করবে, টুনটুনি তুমি তোমার মতো থাক, খামোখা কষ্ট বাড়িয়ে লাভ কি?
-হঁ্যা, আজীবন তো সে ভাবেই থাকতে চেয়েছিলাম, সে আমাকে ডেকে নিল কেন? কেন আমার কষ্ট বাড়াল? আমি কষ্ট পেলে কাঁদবো, দুঃখ পেলে বিলাপ করব। সেটা তো নিজের দুঃখ কষ্ট, কিন্তু অন্য কেউ এসে কেন আমাকে কষ্ট দেবে. অন্য কারও কথা ভেবে কেন আমি কাঁদব?
-সেটা তুমি ভেবে দেখ।
-হঁ্যা, তাই দেখব। শোন বকুল, আমি শেষ বারের মতো তার কাছে যাব। তাকে বলবো, শোন ছেলে তুমি এমন কী... যে, আমাকে অবহেলা কর, কথা দিয়ে কথা রাখ না। মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী ...প্রতারক...। তুমি আমার কাছে স্পষ্ট হও, নিজেকে এতটা গুটিয়ে রেখো না, আমি জালের মতো তোমাকে খুলতে পারবো না, আমি তো ুদ্র টুনটুনি আমার এত শক্তি কোথায়।
সত্যি আমি খুব বেহায়া হয়ে গেছি, নইলে...এই ছেলে তুমি আমার একটা কথা রাখবে? তুমি পুরুষ হয়ো না, অন্যের কাছে হও, আমার কাছে নয়।
শোন, তুমি না আকাশও হও। ওমা চমকে ওঠলে, ভয় পেলে নাকি? না গো, অত বিরাট মাপের আকাশ হতে তোমাকে বলছি না। ুদ্র একটা টুনটুনির উড়াওড়ি করতে আর কতটুকু জায়াগাই বা লাগবে। ছেলে তুমি হও সূনীল আকাশ, যে আকাশে কখনো মেঘ জমবে না। ওখানে চাঁদ তারা ভেসে বেড়ানোরও কোনো দরকার নেই। আকাশে কেবল একটি পাখিই থাকবে, টুনটুনি পাখি। সে সারাণ ঐ আকাশে জুড়ে উড়ে বেড়াবে-ইচ্ছে মতো। কী বললে, কান্ত হয়ে গেলে কী হবে? ভালোবাসা কী কান্তিকর জিনিস নাকি! যদিও বা কখনো সে কান্ত হয় তাহরে তুমি আদর করে দিও, তখন সে আবার নতুন হয়ে উঠবে, কি হলো আমার কথাটা তোমার মনে ধরেনি? ঠিক আছে তাহলে তুমি অন্য কিছু হও। কি হবে? দাঁড়াও একটু ভেবে বলছি। এই ছেলে তুমি না হয় একটা সবুজ বনানী হও। তুমি তো জানই বনের আদিম সন্ধ্যাটা আমি কেমন পছন্দ করি। না খুব বেশি বৃরে দরকার নেই, ুদ্র একটাা টুনটুনি বসার জন্য কটা গাছই বা লাগবে, আমি সারাণ বনে লুটোপুটি খব, দু'চোখে মাখবো সবুজ কাজল।
কী বললে? তোমার এই সব ভাল্লাগে না? ঠিক আছে তুমি তোমার মতো থাক, আমি আমার মতো থাকব।
হঁ্যা, এবার আমি দূরে চলে যাব। কোথায় যাব জান আমি যাব সাইবেরিয়া। সাইবেরিয়ায় সারাণ তুষার ঝড়ে। সেখানে এক পাইন বনে লুকিযে থাকব। হাসব না, খেলব না, গান গাইব না। শুধু হাত-পা মুড়ে বসে থাকব। তুষারপাতে ভিজব আর ভিজব একটু কাঁপব না, ডানা ঝাপটাব না, কাঁদবো না।

যদি কখনো কোনো তুষার কন্যা এসে আমাকে বলে_এটা যে নাতিশীতোষ্ণ দেশের পাখি? ওগো এতো আদুরী পাখি হয়ে তুমি এই কান্নার রাজ্যে কেন এলে! আমি তাকে বলবো_ আমি আসিনি তো, আমার নিয়তি আমাকে এই কান্নার দেশে টেনে এনেছে।... এ আমার ভুলের মাসুল, আমার পাপের ফল। অতপর ঐ তুষার কন্যাকে একটা গান শোনাব:
বেগুন গাছের টুনটুনি
উঠতে গেলি তাল গাছে
ডানা ভেঙ্গে পড়লি তাই
এই ছিলো তোর কাপালে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×