somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখি বৃত্তান্ত [4]

২০ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট্ট টনুটুনি পাখি। চঞ্চল আর অস্থির। সারাদিন এখানে টুকটাক করে লাফাত, উড়ে বেড়াত বনে বাদারে। ভারি স্ফূর্তি ছিল মনে।
একদিন টুনটুনির উপর এক পাখি শিকারির নজর পড়ল। ছটফটে পাখিটা নিয়ে তার খেলতে ইচ্ছা হলো। সে দু'হাতের তালুতে ভাল লাগার শষ্যদানা ছড়িয়ে দিয়ে পাখিটির দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। নির্বোধ পাখি কী আর তার মনের খবর জানত। সে উড়তে গিয়ে নিশ্চিত বিশ্বাসে পাখি-শিকারির তালুবন্দি হলো। শিকারি এত সহজে পাখিটিকে মুঠো বন্দি করে তো মহাখুশি। নিজের জাদুকরি কৃতিত্বে নিজেই মুগ্ধ্ সে পাখিটিকে দু'হাতে বুকে জড়িয়ে ধরল, চুমো খেল ঠোঁটে।
বেশী কিছুদিন পর তার অন্য রকম অনুভুতি হল। এত সহজে টুনটুনিদের কাছে পাওয়া যায়, এহ্ তো তবে কোনো পাখিই নয়। তার সঙ্গীরা বলল_এ আাবর কেমন সখ! শেষ পর্যন্ত টুনি পাগল। আরে পাখিই যদি পুষতে হয় তবে ময়না টিয়ে হীরামন ধরে আনো, টুনটুনি কেন পুষবে। শিকারির সখ মিটল শীঘ্রই, খেলতেও আর ইচ্ছা হলো না। পাখিটির ডানা ধরে ছুঁড়ে ফেলল কাঁটঝোপে। দূর হ বাজে পাখি। এরপর সে হীরামন পাখির সন্ধানে বের হল। ওদিকে কাঁটাবনে পড়ে টুনটুনির তো মৃতবৎ অবস্থা। তার পা ভাঙল, পাখা ছিড়ল কাঁটার ঘায়ে রক্তাক্ত হল সারা অঙ্গ। সে কোনো রকমে ঝোপ থেকে ওঠে নদীর ধারে গেল, নিজেকে পরিষ্কার করতে।
নদী ধমকে বলল- 'খবরদার টুনি তোর নোংরা শরীর নিয়ে আমাকে স্পর্শ করবি না, তোর গায়ের রক্তে আমি লাল হয়ে যাব যে,। লজ্জিত পাখি তখন নতমুখে তার স্বজাতির কাছে উড়ে গেল। কিন্তু অন্য টুনটুনিরা তাকে পাত্তাই দিল না। বলল-বেশ হয়েছে, বোকা কোথাকার! তুমি স্বাধীন পাখি, ফুরফুর করে উড়ে বেড়াবে, তুমি তালুবন্ধি, হতে গেলে কেন? ছিঃ তুমি নিজেই অপমানিত হওনি, তুমি আমাদের মান-সম্মান ধুলোয় লুটিয়েছ। যাও তুমি, তোমার সঙ্গে আমরা মিশবা না। টুনটুনিরা তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল।
ব্যাথার উপর ব্যাথা, দুঃখের উপর দুঃখ। এত ব্যাথা আর দুঃখের কষ্ট সে রাখে কোথায়। তার বুক উপচিয়ে কষ্টরা গড়িয়ে পড়তে চায়। কিন্ত পারে না। কষ্টেরা বিছার মতো ওর বুকটাই কামড়ে ধরে। সে ভাবল, কষ্টগুলো বিলাতে পারলে হয়তো কিছুটা শান্তি আসবে তার বিপ্তি হৃদয়ে। সে কষ্ট ফেরি করতে বের হলো। চারদিকে ঘুরে ঘুরে সে বলতে লাগল_ 'কষ্ট নিবে কষ্ট? একদম খাঁটি কষ্ট, একটুও ভেজাল নেই। নাও-নাও-গো তোমরা আমার একটু কষ্টের ভাগ'।
টুনটুনির কষ্টের কথা শুনে অনেকে অনেক মন্তব্য করল। সাগর বলল_ 'নিজের বিশাল বুকে যে কষ্ট জমে আছে, তাই বইতে পারিনা, তোর কষ্ট নেব কোথায়? টুনটুনি তু্ই দূরে সরে যা, শান্তি পাবি। পাতা নাড়িয়ে বৃ বলল_ কষ্ট বিলি করে কি আর মনে শান্তি আসবে? আগুনে পুড়ে তোর হৃদপিন্ড যে ভাজা ভাজা হয়ে গেছে। টুনটুনি তুই বরং মরে যা, এতো দুঃখ নিয়ে বেঁচে থেকে কী করবি?
কেবল চাঁদ-ই যা একটু সহনুভূতি দেখাল। সে বলল_'মা গো, কি নিষ্ঠুর পাখিঅলা। ওটা ব্যাটা ছেলে তো ...তোমাকে ওর ভালো লাগছিল না, সেটা তোমাকে বললো তো তুমি চলে আসতে'। চাঁদের কথায় টুনটুনির চোখে পানি এসে গেল। 'ওসব কথা থাক। খমোখা ওকে দোষ দিয়ে কী লাভ, আমি যদি ভালবাসার খুদ দেখে লোভী না হতাম, ওর করতলে না বসতাম তাহলে কী ওর সাধ্য ছিল আমাকে ছুড়ে মারা। চাঁদ গো, তুমি আমার কষ্ট নাও। সবটা না হলেও একটু।'
চাঁদ বলল_ কষ্ট কখনো কাউকে এমনি করে দেয়া যায় না। আমৃতু্য তোমাকে এই কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে।
টুনটুনি তখন আকাশের কাছে গেল। আকাশ বলল, 'আমি তো এমনিই নীল হয়ে আছি। তোর কষ্ট রাখার জায়গা কোথায়। যার জন্যে তোর এত কষ্ট তাকেই তুই ফিরিয়ে দিয়ে আয় সব কষ্ট।'
তাকে কোথায় পাবে টুনটুনি?
দুঃখী টুনটুনি তখন শূন্যে ঘুরতে লাগল। কষ্টে তার গোটা শরীর নীল হয়ে গেল। এক এক করে ঝড়ে পড়ল সমস্ত পালক। বুকের রক্তে লাল হলো আকাশ। চোখের জলে ভিজে গেল পৃথিবীর সব ক'টি মাঠের ঘাস।
ধীরে ধীরে টুনটুনির সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল। চোখের জল আর বুকের রক্তও শেষ হলো। অতপর টুনটুনি তারা খসার মতো শূন্য থেকে নিচে গড়িয়ে পড়তে লাগল। পড়তে পড়তে হঠাৎ সে শুনতে পেল কে যেন বলছে_'আরে এই যে দেখছি যে টুনুটনিটা, সে একদিন আমার করতলে এসে বসেছিল। আমি ওক দুদিনের জন্য পছন্দ করেছিলাম, আদরও করেছিলাম।'
টুনটুনিটা ঝুপ করে কলমী বিলে পড়তেই শিকারি করতালি দিয়ে বলল,_'বাঃ চমৎকার, টুনটুনির নৃত্য দেখতে তো ভালোই লাগে।'
শিকারির হাতে তখন ধরা ছিল একটা সোনার খাঁচা। খাঁচায় একটা হীরামন পাখি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×