somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম ফিল্মে যেভাবে সেট নিয়ন্ত্রণ করবেনঃ (বেগিনার ইন্ডি-মেকার দের জন্য)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ফিচার ফিল্মে প্রত্যেকটা কাজের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্টের লোকজন কাজ করে থাকে । ডিরেক্টর ক্যারেক্টার ও, সীন কেমন হবে বোঝানোর পর সিনেমাটোগ্রাফার, মেক আপ আর্টিস্ট, আর্ট ডিজাইনার, লাইট ম্যান, ও এডিরা যার যার গ্রুপ নিয়ে কাজ শুরু করে ।

ডিরেক্টরের কাজ হয়ে থাকে ঠান্ডামাথায় সীন বুঝিয়ে শট নেওয়া, মনিটরে স্ক্রিপ্ট, অভিনয় ও লুক পারফেক্ট হয়েছে কিনা অবজার্ভ করা। সবাই অভিজ্ঞ হওয়াতে তাকে সব কিছু নিয়ে ভাবতে হয়না ।

কিন্তু যখন ইনডিপেন্ডেন্ট শর্ট ফিল্ম করবেন তখন টিমে লোক থাকবে কম । কেউ ই অভিজ্ঞ থাকবে না । তখন সেটে গিয়ে শ্যুট শুরু করার পর একটা কনফিউজিং অবস্থার তৈরি হয় । এর ফলে আপনাকে ছোটাছুটি করতে হয়, আর্টিস্টরা আন কমফোর্ট ফিল করে, ক্যামেরাতে শট মিলে না । মোট কথা কাজে একেবারেই প্রফেশনালিজম থাকে না ।

আজ অনেকদিন পর পোস্ট লিখছি শুধু এটা বলতে কিভাবে ঠান্ডা মাথায় সব ম্যানেজ করে সেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন । আমি নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতা গুলোর আলোকে লিখছি ।

১. স্ক্রিপ্টঃ

ফিল্ম মেকিংয়ের প্রথম শর্ত হলো কাজ হতে হবে একেবারে বাই দ্য বুক । হলিউডের অনেক মুভির ব্রেক ডাউনে দেখবেন একটা লাইন ও স্ক্রিপ্টের বাইরে থাকে না ।

প্রথমেই সব প্রি প্ল্যানড রাখতে হবে যেন লোকেশনে গিয়ে সময় নষ্ট না হয় । স্ক্রিপ্ট ফিনিশ করার পর ই সিনেমাটোগ্রাফার কে নিয়ে লোকেশন দেখতে হবে । আপনি বলার পর সিকোয়েন্স কোনদিক থেকে কোনদিকে হবে সে আপনাকে বলবে ।

তখন আপনি প্রতিটা ডায়লগের শট ডিভাইড করে রাখতে পারবেন । এতে হবে কি, আপনার মাথায় ভিজুয়ালি ছবিটা তৈরি হয়ে যাবে । অন সেটে একেকটা শট পড়ে পড়ে শ্যুট করবেন । পুরো ফোকাসটা অভিনয়ে দিতে পারবেন ।

২. লীডারশিপঃ

একটা ফিল্ম প্রোডাকশনে সবার ভূমিকা থাকলেও অরগ্যানাইজ করার দায়িত্ব ডিরেক্টর এর । প্রফেশনাল কাজে যে ডিরেক্টর তার কথা অনুযায়ী প্ল্যান করা হয় সব । অন্যরা অনেক সাজেশন দিতে পারে । কিন্তু মেইন কনসেপ্ট ডিরেক্টর এপ্রুভ করলেই সেটা কাজে লাগে ।
অ্যান্থনি রুশো ও জন ফ্যাভ্রু দুজনেই ফেমাস ডিরেক্টর । কিন্তু রুশোর মুভিতে ফ্যাভ্রু অভিনয় করে তার প্ল্যান শুনে, তার কথামত । এটাই প্রফেশনালিজম ।

আমাদের যে সমস্যা হয় বন্ধুদের নিয়ে আমরা কাজ করি । তখন সবাই যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে আইডিয়া দিতেই থাকে, দিতেই থাকে । এতে ডিরেক্টরের মোটিভেশন টা চলে যায় । আবার মন খারাপ হয় কিনা এটা ভেবে বন্ধুর কথা রাখা হয় । নেভার ডু ইট ।

হ্যা, মুভিতে ইমপ্রোভাইজ করা যায় অনেক কিছু । কিন্তু সেটা সবার কথা মেনে নয় । সবাই আপনার মত মুভি মেকিং নিয়ে ভাবেনি, স্টাডি করেনি, শুধু দেখেই অভ্যস্থ । আপনি শুট ও এডিটিং দুটোই ভেবে রেখেছেন । সবার কথা মানলে মিসম্যাচের ফলে মুভি খিচুড়ি হয়ে যাবে ।

আপনাকে সবাইকে কনভিন্স করতে হবে আবার বাজে আইডিয়া এড়িয়ে চলতে হবে ।

৩. অ্যাসিস্ট ও ক্রুঃ

আপনার কথা শুনে হেল্প করবে এমন বন্ধুদের সাথে রাখবেন । তবে কখনোই অতিরিক্ত মানুষ রাখবেন না । প্রথমত বন্ধুর কাজ বলে প্রফেশনাল সেটের মত সবাই সাইলেন্ট থাকবে না । এতে ফোকাস চলে যাবে । পাবলিক প্লেস হলে ঝামেলা হবে ।

ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন জিনিস প্লেসিং ও এক্টরকে সাজানো ও কোনো খারাপ পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জন্য যে কয়জন দরকার ঠিক সেই কয়জন ই রাখবেন । খুব দুষ্টুমি ও প্রাংক করে এমন কাউকে রাখবেন না, সে শুধু ঝামেলা করে সময় ও ফোকাস নষ্ট করবে ।

যারা অ্যাসিস্ট করবে তাদেরকে আপ্যায়ন করুন । যাতায়াতের খরচের বিষয়টা খেয়াল রাখুন । এরা আপনার দুঃসময়ের সাথী, তাই কৃতজ্ঞ থাকতে হবে ।

৪. অভিনয়ঃ

মেইন শ্যুটের আগে অ্যাক্টর কে নিয়ে একবার শট রিহার্সাল করবেন । ওইসময় সিনেমাটোগ্রাফার ফ্রেমিং চেক করবে । এক্টরকে বলবেন কোন শট থেকে কোন শট টুকু ক্যামেরাতে যাবে । তারা সেটুকু করবে ।

এভাবে আগে থেকে লেখা শট বাই শট নিবেন । যেহেতু সবাই নতুন তাই সিকোয়েন্সে সিরিয়াল মেইন টেইন করবেন । প্রফেশনাল সেটে সুবিধা মত অংশ আগে শুট নেয়া যায় । কিন্তু বেগিনারদের কাজে এক্টর ও ডিরেক্টর দুজনেই গুলিয়ে ফেলবে । তাই স্ক্রিপ্টের ধারাবাহিকতা মেনে কাজ করতে হবে ।

এক্টর একটু ভূল করলে সাথে সাথেই থামাবেন না । এতে সে থতমত খেয়ে যাবে । পুরো টেক ফিনিশ করবেন । দেখা যাবে যেটুকু খারাপ হয়েছে অন্য এংগেল থেকে নিতে পারবেন, এতে সময় বাঁচবে । অথবা সেম শট আবার নিলে এক্টর ভালো ফ্লো নিয়ে করতে পারবে ।

এনকারেজ করবেন । খারাপ করলেও বলবেন যে গুড শট, কিন্তু আরেকবার নিব আমরা, এই জায়গা টুকু আরেকটু এভাবে করতে হবে । সবসময় এক্সপ্রেসন কম দিতে বলবেন । বেশি দিলে ওভার এক্টিং লাগে । যত হালকা ও বাস্তবিক অভিনয় হবে বেটার ।

৫. আর্ট ডিজাইনঃ

একটা বন্ধু বা বান্ধবীকে রাখবেন যে ক্যামেরা টেস্ট করার সময় ইনটেরিয়রে কি কি থাকবে ভাল বুঝে । বিলিভ মি, আপনি সব ম্যানেজ করার ফলে প্রতিটা মোমেন্টে অনেক ছোটখাট জিনিস ভূলে যাবেন । এজন্য প্রফেশনাল কাজে সব কাজের মেইন পার্সনের সাথে গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সুপারভাইজর থাকে ।

আরো অনেক ব্যাপার আছে । তবে আজ এই কয়টার বেশি বলব না । এগুলো শুটিংয়ের গতি অনেক এগিয়ে দেবে,। ক্যামেরা ওয়র্ক বেশি করলে ফল্ট ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফার এক্সপার্ট না হলে শট যত পারেন কম নেবেন । পাঁচ টা খারাপ শটের চেয়ে দুই টা ভালো শট থাকলে দৃষ্টিনন্দন হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×