somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবননগর

২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম সুর্দশন 'মিনারেল ওযাটার'!
আমাদের ক্লান্তি দেখে দৌড়ে চলে এলেন 'এনার্জি ড্রিংক'!

অথচ আমরা ক'জন স্মৃতিকাতর স্রেফ দেখতে গিয়েছিলাম-
স্মৃতিতে প্রোথিত গ্রাম। নামটাই আছে শুধু জীবননগর!
ওখানে একটা দেশি বড়ই, তার পাশে দেশি পেয়ারা আর কুয়ার পাশে-
বিস্তীর্ণ ছায়া ছড়িয়ে রাখা নেই কামরাঙ্গা গাছ!
যে কুয়ার জল পান করেছি সেখানে গড়ে উঠেছে,
নতুন বেখাপ্পা শক্তপোক্ত বসতবাটি!
জানালা দিয়ে আর দেখার সুযোগ নেই সোনালি ধানের ক্ষেত বা
আরেকটু দূরে নদীর ছায়া বা পাখি সঙ্গীত!
আরো চড়া হলো ক্লান্তির পারদ!

উন্নয়ন অবশ্যই ইতিবাচক তবে-
তথাকথিত উন্নয়নের প্রাবল্যে বিলোপ পেয়েছে সরলতা!
তারা এখন সব জানে এবং এতকিছু জানে যে,
আমরা অনেকেই জানি না তার কিয়দংশ!
গুগল বাবাজি পৌঁছে গেছেন ঘরে-ঘরে অন্দরমহলে!
আমাদের মধ্যে একজন বিচক্ষণ আহাম্মক সর পড়া দুধ পান করতে গিয়ে-
জানলো প্যাকেটজাত দুধে জমে না সর!
গরু নাকি নোংরা করে বাড়িঘর কিন্তু জানিই না কখন যে,
আমরা গড়ে তুলেছি নোংরা গ্রাম!
চাষবাসশূন্য খা খা জমি কেননা প্রবাসে আছেন রেমিট্যান্স ফাইটার!

ফিরে আসার আগে মধ্যাহ্নভোজে গিয়ে টের পেলাম-
আছি শহরের কোলাহলেই!
দূরের কোনো সাপ্তাহিক হাটে কদাচিৎ মেলে বটে নদীর মাছ বা দেশি মুরগি।
তৃপ্তির ভান করে অতৃপ্তি নিয়ে খেলাম বিয়েবাড়ির খাবার!
আসছে বিদেশি ভিডিও কল!
কোল্ড ড্রিঙ্কসের বিষ একপাশে সরিয়ে-
সন্ধ্যার কাছাকাছি কান পেতে শুনতে চাইলাম-
হুক্কাহুয়া বা ডাহুকের অভিমানী গান।

না কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম; এখানেও কলরবমূখর কোলাহল।
প্রার্থনাতেও লাগে এখন শীততাপনিয়ন্ত্রক!
যারা যারা আমরা গিয়েছিলাম তারা একপর্যায়ে-
ভুলেই গেলাম এসেছিলাম জীবননগর!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×