বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং ভবন নির্মাণের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাজউক (RAJUK) জনমনে ক্রমেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
রাজউকের অনুমোদন ও সনদের ভিত্তিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় একের পর এক ভবন ও বহুতল স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—নির্মাণকাজ চলাকালীন কার্যকর তদারকি কোথায়? কাগজে-কলমে অনুমোদন থাকলেই কোনো ভবন নিরাপদ হয়ে যায় না। অনুমোদিত নকশা, কাঠামোগত specifications, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কঠোর ও ধারাবাহিক পরিদর্শন।
কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগের অভাব একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মানবসৃষ্ট মহাবিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে। শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ঢাকা এবং অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকাগুলো নজিরবিহীন মানবিক সংকটে পড়তে পারে। হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তখন বিপর্যয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাভাবিক প্রচেষ্টার চেয়েও অসাধারণ পরিস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে। এখনই যদি নির্মাণবিধির কঠোর প্রয়োগ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিদর্শন, নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি এবং প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে একদিন এই শহরকে এমন এক অকল্পনীয় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হতে পারে, যার মূল্য শুধু ধসে পড়া ভবন দিয়ে নয়—অগণিত মানুষের জীবন দিয়ে পরিশোধ করতে হবে।
এটি নিছক কোনো সতর্কবার্তা নয়; এটি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান। কারণ, আজ যে দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব, আগামীকাল সেটিই পরিণত হতে পারে একটি অপূরণীয় জাতীয় বিপর্যয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



