কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।
কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!
তাহলে কে ভেঙেছিল?

ছবিঃ ইশরাত মঞ্জিল, সূত্রঃ উইকিপিডিয়া।
ভেঙেছিল তাদের সেই পরম পূজনীয় 'মুসলিম লীগ' সরকার!
তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের (সবচেয়ে বড় আইরনি হলো— নাজিমুদ্দিন নিজেই ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান ছিলেন!) সরাসরি নির্দেশে শাহবাগ এস্টেট অধিগ্রহণ করা হয়।
যে ভবনটিকে "উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণের কেন্দ্র" বা "৩০০ বছরের শ্রেষ্ঠ স্পেস" বলে ফেনা তোলা হচ্ছে, তাদের সেই মুসলিম লীগের নেতারাই বুলডোজার চালিয়ে সেটা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।
উদ্দেশ্য কী ছিল? তাদের সেই "পবিত্র রাজনৈতিক দরবার" ভেঙে সেখানে একটা কমার্শিয়াল থ্রি-স্টার 'হোটেল শাহবাগ' বানানো!
দোষ যদি দিতেই হয়, তবে কাঠগড়ায় দাঁড় করান নুরুল আমিন আর খাজা নাজিমুদ্দিনকে।
যে মুসলিম লীগ আর নবাব পরিবারের বংশধরেরা নিজেরাই নিজেদের 'ঐতিহাসিক আঁতুড়ঘর' আর 'জিনিওলজিক্যাল সাইট' ভেঙে হোটেল বানালো,
তাদের অপকর্মের দায় ৭১-এর পর ডাকসু, মধু দা বা সেক্যুলারদের ঘাড়ে চাপানোটা চরম লজিক্যাল হিপোক্রেসি।
নিজেদের আইডলরাই ইতিহাস ধ্বংসকারী, আর তারা ভিকটিম কার্ড খেলছে অন্যের নামে!
যেই বিএনপি কর্মীরা বা অ্যাক্টিভিস্টরা ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট ধারণ করে মুসলিম লীগের এই প্রেতাত্মা তত্ত্বের বিরোধিতা করছে, তাদেরকে "কলকাতার বাইজি" বা "ভালো আওয়ামী লীগ" বলাটা চরম লজিক্যাল দেউলিয়াত্ব।
লজিকাল ডেটা না থাকলে প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা জামাতি প্রপাগান্ডা মেশিনের পুরনো সিলেবাস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



