
জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।
দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা ভালো না, চাকরির বাজার খারাপ, নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে না। এর মধ্যেই আজকে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন।
অবশ্য এর জন্যও একটা সহজ ব্যাখ্যা আছে - সব দোষ শেখ হাসিনার, তিনি দেশ ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন!
দেশে গ্যাস সংকট? সব দোষ শেখ হাসিনার।
LNG এর ওপর চাপ? সব দোষ শেখ হাসিনার।
অর্থনীতি দুর্বল? সব দোষ শেখ হাসিনার।
চাকরি হচ্ছে না? সব দোষ শেখ হাসিনার।
আগামীতে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে? এটাও শেখ হাসিনার দোষের ফলাফল।
জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর "চাকরির বন্যা বয়ে যাবে", কিন্তু ছোট একটা সমস্যা - তখন কিন্তু বলা হয় নাই যে বন্যা আসার আগে চাকরির বাজারে খরা দেখা দিবে! প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার এত বড় ব্যবধান কেন? সরকার সফল হলে কৃতিত্ব বর্তমান সরকারের, আর সমস্যা হলেই সব শেখ হাসিনার দোষ - এই হিসাবটা জনগনকে আর কতদিন খাওয়ানো যাবে?
যুদ্ধ বাংলাদেশ সরকার করেনি, কিন্তু যুদ্ধের ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান - এগুলা তো সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে "মুসলিম ন্যাটো"তে যোগদানের জন মক্কার কাছে অনুনয় বিনয় করছে আর যুদ্ধ বিমান কিনছে। আগের সরকার কি রেখে গেছে, তার হিসাব অবশ্যই হবে। কিন্তু আগের সরকার তো এখন আর ক্ষমতায় নাই। সবচেয়ে বড় কথা, আগের সরকার যেসব সেক্টরে উন্নতি করতে পেরেছিল, সেইসব প্রত্যেকটি সেক্টরেই বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েই যাচ্ছে আর সাথে সুন্দরভাবে সব দোষ হাসিনার বলে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



