আমার বাসা থেকে ভাসমান ভাইয়ের বাড়ির দিকে কেউ যদি রওনা দেন তাহলে মাঝপথে এসে কনফিউজ হয়ে যাবার ভাল সম্ভাবনা আছে। কারন হল, স্ট্যামফোর্ড হিল নামে এই এলাকায় সামনে, পিছনে, ডানে বামে সবদিকে কঠিন দাঁড়ি টুপি দেয়া মানুষজন দেখা যাবে। নতুন মানুষজন দেখে প্রথমে মনে করে এতগুলা হুজুর তো আমাদের দেশেও দেখা যায় না, তবে কয়দিন পুরান হলেই মানুষজন বুঝে যায় যে ইনারা অন্য জাত। তেনারা মুহম্মদী না তেনারা মুসাবী। ইউরোপের সবচেয়ে বড় আর প্রাচীন ইহুদী বসতিগুলোর মাঝে একটা হল এই এলাকা। আর অত্যান্ত ধার্মিক হিসাবে এদের নামডাক আছে। এদের অনেককেই এদের সুন্নতি পোষাকে আর বড় বড় দাঁড়ি গোঁফ আর জুলফিতে দেখা যায়। এখানে বেশকিছু ইহুদী স্কুল (মাদ্রাসা) ও আছে। সেখানে সম্পুর্ণ হিব্রুতে পড়াশোনা হয়। যাই হোক তারা তাদের দুনিয়াতে থাকে আর আমরা ছাপোষা বিদেশীরা আমাদের ধান্দায় থাকি। আজকে গেছিলাম ওই এলাকায় বাজার করতে। দেখি রাস্তাঘাটে জ্যাম। বাস একটু আগাতেই দেখি এক দুই যায়গার রাস্তায় কাজ চলছে আর মেলা যায়গায় এই পেঙ্গুইনের দল ম্যালা আনন্দফুর্তি করছে। বাস টাস ভাড়া করে পোলাপান ঘুরছে, কতগুলো পিকাপের পেছনে ভোমা সাইজের লাউডস্পীকার লাগিয়ে হাউকাউ করছে, আবার দুই তিনটারে দেখলাম বিশাল সাইজের মুখোশ পরে ঘুরছে। তাই বাসায় এসে একটু ঘাটাঘাটি করতেই দেখলাম আজকে বেচারাদের উৎসবের দিন। এই উৎসবের নাম হল পুরিম। পার্সীরা যখন ব্যাবিলন দখল করে নেয়, তখন তাদের নেতা হামান সমগ্র পার্সী সম্রাজ্য থেকে ইহুদীদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেই দুর্যোগ থেকে কোনমতে এইদিনে বেচারারা মুক্তি পেয়েছিল।
মরলে পরে তো খারাবী আছেঃ( করে নিক কয়দিন ফুর্তি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০