শৈশব পেরুনোর আগেই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম যে চিকিৎসাসেবার এক যুগান্তরের মাঝে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এক-দু জেনারেশন আগেই শতাব্দীর পরে শতাব্দী যেগুলো মানুষের জন্য মরণব্যাধি হয়ে ছিল তার বেশিরভাগেরই দফারফা করে ফেলা হয়েছে। পোলিও আর স্মলপক্সের মত বেশকিছুকে তো বিভিন্ন ভৌগলিক এলাকায় এক্কেবারে ঝাড়েবংশে নিকেশ করে দেয়া হয়েছে বা হয়েছিল। যদিও কভি কভি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ওগুলো। তাই আমার দাদারা চারভাই মিলে যেগুলোর ডাক্তারী করতেন, আজকাল ফার্মেসীর কম্পাউন্ডারের ওষুধেই তার অদ্ধেক সিধা হয়ে যায়।
তাই আমাদের জেনারেশন আর পরবর্তী জেনারেশনের জন্য সভ্যতার নতুন উপহার লাইফস্টাইল ডিজিজ। তিনবেলা নিশ্চিত খাদ্যের নিশ্চয়তা, জিরো ফিজিকাল এক্টিভিটি আর আধুনিক জীবনের স্ট্রেস, সব মিলিয়ে এখন আমরা উপহার পেয়েছি স্থুলত্ব, ডায়েবেটিস, ক্যান্সার, প্রেশারের মত বড়লোকী অসুখ। নিউজউইকে কবে যেন পড়ছিলাম পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারী হিসেবে ম্যালেরিয়াকে ওভারটেক করে যাবে স্থুলত্ব কিছুদিন পরেই (নাকি এতদিনে করে ফেলেছে)। আর নাদুসনুদুস বডি পাইলে অসুখবিসুখও আরাম করে বেড়াতে পারে, একবার ঢুকলে অনেক দিনে থেকে যায়।
যেটা নিয়ে লিখতে বসেছিলাম, আমার ধারণা ছিল যে আমাদের প্রজন্মেই, (মতলব হুট করে আজিমপুরে ডুব না দিলে আরকি) আমরা অন্ততঃ দুটো ক্ষেত্রে কিছুটা এডভান্টেজ পাব। এদুটো হল দাঁত আর চোখ। দাঁতে কোনদিন সমস্যা হয়নি এরকম মানুষ আজকাল কমই চোখে পড়ে (রাগুদি খুশ!!!), সবারই দুচারটা পোকাসমৃদ্ধ দাঁত তো আছেই আর ফেলতেও হয় এক দুটা। আর পিচ্চিকাল থেকেই চশমা পরতে হয় এরকম মানুষের সংখ্যাও কম না। আর চল্লিশ পেরোনো চশমাবিহীন মানুষ তো আজকাল কমেই যাচ্ছে। দাঁতের ব্যাপারে একবার পড়েছিলাম যে, মানুষের যে দুবার দাঁত গজায়, সেটা নাকি তিন চারবার করানো একেবারে অসম্ভব না। আর তাই নিয়ে নাকি ভারী গবেষণাও চলছে। দোয়া করি গবেষকদের, আমারগুলো বেসাইজ হতে হতেই যেন সিস্টেমটা ঠিকঠাক করে ফেলে। তাহলে আরামসে বয়সকালে দাঁতের ফরম্যাট করে একখান রিইন্সটলেশন করা যাবে। তবে মাইনষের দাঁত না উইঠা যদি গরুছাগলের দাঁত বাইর হয় তাইলে আবার সমস্যা।
তবে চোখের ব্যাপারে একটা চমৎকার খবর দেখে ভাবলাম পোস্ট দেই। চোখকে ভাল রাখার জন্য অলরেডী বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। চশমা ব্যাবহার করে স্বল্পদৃষ্টি সম্পষচোখকে ভাল রাখার জন্য অলরেডী বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। মলা ঢ্যালা মাছেরে আমরা ভূলি নাই, কিন্তু তারা আমাদেরকে ভূলে বাজারে থেকে হাওয়া হয়ে গেছেন। চশমা ব্যাবহার করে স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষও নিজেকে আগিয়ে নিতে পারছেন। আর ছানি অপারেশন, কর্ণিয়া রিপ্লেসমেন্ট আর লেজার সার্জারী তো আছেই। কিন্তু তারপরেও মন্দ চোখকে একেবারে ভাল করতে কোনোটাই যথেষ্ট না। সেজন্যই একখান জব্বর খবর পেয়ে ভাবলাম শেয়ার করি।
চীনেরা চশমা আবিষ্কার করেই ছাড়েনি, ঐ পিচকি চোখ চশমা ছাড়াও কিভাবে সাইজ করা যায় তার সিস্টেমও বের করে দিয়ে গেছে। যারা দূরের জিনিষ দেখেন না, অর্থাত ক্ষীণদৃষ্টি, (বেশী না বুঝলে কেলাশ এইটের বই খুলেন, আমি ওইখান থেকে শিখসিলাম), তাদের সংখ্যাই মূলত বেশী। আর এক হিসাবে তাদের চোখ বেশী পাওয়ারফুল, লেন্সের আলোকে রেটিনার যেখানে ফোকাস করার কথা তার আগেই ফোকাস করে ফেলে, ফলে ঝাপসা ঝাপসা লাগে ( উল্টা কইলাম নি? ঠিক কইরা দিয়েন)। এখন বডির মধ্যে চোখ নরম সরম জিনিষ, আর তাই চাইলে সেটারে টিপটুপ দিয়ে ঠিক করে নেয়া যায়। হাইসেন না, তিন হাজার বছরের পুরান বিজ্ঞান বলচি। চীনে ডাক্তাররা যেটা করত সেটা হল, রুগীর চোখে ভেজা বালিভর্তি ছোটছোট ঠুলি পরিয়ে দিত ঘুমের আগে। সেই পুঁটলির ওজনে সারা রাতে চোখের লেন্স কিছুটা ডেবে যেত, সকাল বেলায় ঘর থেকে বেরুলে একেবারে ফকফকা নজর। আজকাল বিজ্ঞানীরা সেটারেই খুঁজে বের করেছেন নতুন ভাবে, যথারীতি চাইনিজদের ছাড়াই। এটার আজকালকার নাম হল অর্থোকেরাটোলজী। আধুনিক সিস্টেম হল, আপনার চোখের আন্দাজমতন কন্ট্যাক্ট লেন্স বানানো হবে। সেই লেন্স পরে ঘুম দিবেন ঘোলা চোখ নিয়ে, ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সব ফকফকা। গত সপ্তাহে সেই সম্পর্কে একটা লম্বা চওড়া আর্টিকেল পড়লাম। তারপরে দুঘন্টার মিনি গবেষণার ফসল এইটুকু। যাদের হাতে আজাইরা টাইম, পড়ে দেখেন প্রতিবেদনটি।
বিজনেসটা গোরাদের দখলে, তাই চিকিৎসাটা এখনো মহা এক্সপেন্সিভ করে রেখেছে। সেই বিখ্যাত কন্ট্যাক্ট লেনস অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়, আর কদিন পরে পরেই পাল্টাতে হয়। আমাদের দেশী একটা ভার্শন বের করতে পারলে ভালই হত। কারণ যেই হারে কম্পুসেবী হিসেবে আছি, কদিন পরে তো মনে হয় ডানবাম চেনার জন্যেও চশমা লাগবে। তার আগেই দরকার।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রতিবেদন
উইকি কি বলে
আলোচিত ব্লগ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা
.

শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুসা নবী এবং ফেরাউন

মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন
৭২০১৪
"ভাই, এইখানেই নামবেন?"
হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ১৯২

বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।