অক্টোবর ১, ২০১১
অ্যাসেম্বলি হলে নিম্নপ্রাণ দর্শক
জাতিসংঘ বিশ্ববাসীর জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠন হলেও বিশ্ববাসী এখানে দেয়া ভাষণগুলোকে সাধারণত গুরুত্ববিহীন মনে করে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য রূপে একবার যোগ দেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। জাতিসংঘের অ্যাসেম্বলি হলে উপস্থিতির সংখ্যা আমাকে অবাক করেছিল। আমি জানতাম ১৯৩ সদস্যদেশ বিশিষ্ট জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আসেন বহু দেশের সরকারপ্রধান এবং তাদের সঙ্গে বড় প্রতিনিধিদল। কিন্তু অধিবেশন চলার সময়ে তাদের কম উপস্থিতি আমাকে বুঝিয়ে দেয় যে নিউ ইয়র্কে আগত বহু প্রতিনিধি জাতিসংঘ ভবনে এসে বক্তৃতা শোনার চাইতে নিউ ইয়র্ক শহর দেখা অথবা শপিং করাই পছন্দ করেন।
এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা কত ছিল? একটি পত্রিকার মতে সদস্যসংখ্যা ছিল ৪০জন। তবে অধিবেশনের সময়ে এদের সবার ভেতরে ঢোকার অনুমতিপত্র থাকে না। তা যদি থাকত তাহলে ভালো হতো। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভাষণ শোনারত শ্রোতার সংখ্যা বাড়ত। বাংলাদেশে টিভি দর্শকরা লক্ষ্য করেন শেখ হাসিনার ভাষণের সময়ে দর্শক সংখ্যা ছিল মাত্র শ’ খানেক এবং তারা ছিল নিম্নপ্রাণ।
ব্যতিক্রম হয় বিশ্ব ইসুতে
মাঝে মধ্যে অবশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। যেমন, অক্টোবর ১৯৬৮-তে সভিয়েট নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ যখন এসেছিলেন এবং টেবিলে জুতা চাপড়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আমেরিকানদের নাতি-নাতনিরা একটি সমাজতান্ত্রিক বা সোশালিস্ট দেশে বাস করবে। এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ইসরেলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্যালেস্টাইনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। জাতিসংঘে প্যালেস্টাইনের সদস্যপদের আবেদনের পক্ষে ও বিপক্ষে এরা কী যুক্তি দেন সেটা জানতে বিশ্ববাসীর আগ্রহ ছিল। কারণ মিডল ইস্টে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বের সামগ্রিক শান্তি। এদের ছাড়াও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে কর্নেল গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রতি বৃটিশ তথা নেটোর সমর্থন দান বিষয়ে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন জাতিসংঘে কী যুক্তি দেন সেটা জানতেও বিশ্ববাসী আগ্রহী ছিল। কারণ লিবিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে তেলের দামের স্থিতি অবস্থা।
দুঃখের বিষয় বিশ্ব মঞ্চে শান্তির নতুন দূত রূপে আবির্ভূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ভূমিকা সম্পর্কে বিশ্ববাসী ছিল অজ্ঞাত। হয়তো তাই তার ভাষণ শোনায় ছিল তাদের অনাগ্রহ।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাহসী বক্তব্য
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের প্রতি স্বদেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশিদের ছিল অপরিসীম আগ্রহ। বিশেষত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরেই ঢাকায় ইনডিয়ান প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের একতরফা সফল (ইনডিয়ানদের দৃষ্টিকোণ থেকে) সফরের পর তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে কী বলবেন, সেটা শোনার জন্য বাংলাদেশিরা ছিল অধীর। তাদের মনে পড়ে যাচ্ছিল, ৩৪ বছর আগে জাতিসংঘের ৩২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের পানির অধিকার সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার সেই বক্তব্য ছিল বিদ্বেষবিহীন কিন্তু যুক্তিপূর্ণ, আক্রোশবিহীন কিন্তু আবেগময়। এর ফলে পরবর্তীতে গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশ পানি পেয়েছিল।
অনুচ্চারিত তিস্তা
কিন্তু শেখ হাসিনার এই প্রায় ১৬৫০ শব্দবিশিষ্ট ভাষণে তিস্তা শব্দটি ছিল অনুচ্চারিত এবং নির্মিতব্য অথবা নির্মীয়মান টিপাইমুখ বাধ শব্দগুলো ছিল অনুপস্থিত। ইনডিয়ার সঙ্গে নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে বর্তমান সমস্যাগুলো যেখানে উল্লেখযোগ্য মনে হয়নি, সেখানে শেখ হাসিনা ফারাক্কা-গঙ্গা বিষয়ে অতীত সমস্যার কথা যে আবার টেনে আনেন নি, সেটাও তার পক্ষে স্বাভাবিক ও মানানসই ছিল।
তাহলে শেখ হাসিনার ভাষণের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল?
শান্তির নতুন দূত
এই ভাষণের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ বা ৮০ শতাংশ ছিল তার সরকারের সাফল্যের ফিরিশতি যা অনেকটা বাজেট ভাষণের মতো মনে হয়েছে। বলা বাহুল্য জাতিসংঘে সেদিন কেউ বাংলাদেশের বাজেট কাহিনী শোনার জন্য উপস্থিত ছিলেন না। ভাষণের বাকি এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ ছিল স্বদেশে তার শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাফল্য এবং বিদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার উদ্যোগের বিষয়। এই শান্তিকাহিনী দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল।
ভাষণের প্রারম্ভে প্রয়োজনীয় সৌজন্য প্রকাশের পরই ছিল শেখ হাসিনার পিতা প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি প্রচেষ্টার উল্লেখ। তারপরে আবার ভাষণের শেষের দিকে ছিল শেখ হাসিনার নিজস্ব শান্তি প্রচেষ্টার উল্লেখ। তার ভাষণের এই শেষাংশের কিছুটা নিচে উল্লেখ করছি :
সম্মানিত সভাপতি
গত অর্ধ শতাব্দি ধরে আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। পুরো সময় জুড়ে আমি ছিলাম শান্তির পক্ষে একজন অগ্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


