somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধারণ ভাবে অসাধারণ

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"প্রধানমন্ত্রী অতি সাধারণ ভাবে নিজের ছেলেকে অসাধারণ করে দিলেন ।এটাকে বলে এন্ডর্সমেন্ট । আজকের দিনে এমনটিই হয় । ক্ষমতা দেখাবার বিষয় না , ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয় । এরপর জয় যদি আগামী কাল সাধারণ সম্পাদক হয় , সবাই অতি সাধারণ ভাবে মেনে নিবে ।"

আপনার কি হিজাব পড়া কোনো ছবি তোলা আছে ? না থাকলে আজকেই একটা তুলে নিন ।কারণ হটাৎ করে আপনার সাথে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটলে, সাংবাদিকরা আপনার একটা হিজাব পড়া ছবি খুঁজবে সবার আগে ।এর কারণ একটা কিন্তু আছে । এটাকে বলা হয় সেলফ ব্র্যান্ডিং ।সামাজিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল সব খানে সবাই আহত বা নিহত নারীদের হিজাব পড়া ছবি দেখতে চায় । আমাদের মনের মধ্যে নিজেদের অজান্তেই একটা ধারণার জন্ম হয়ে গেছে । হিজাব পড়া মানেই সুশীল এবং শালীন ।সামাজিক মাধ্যম গুলোর আন্দোলনের প্রথম সর্থ আপনার এই রকম হিজাব পড়া একটা হাই রেসুলেশন ছবি থাকতে হবে । তাই তর্ক না করে আজকেই ভালো একটা DSLR এ হিজাব পরে ছবিটা তুলে ফেলুন ।যে কোনো সময় আপনার সাথে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে, আর এই রকম একটা ছবি না থাকলে কেও আপনার জন্য আন্দোলনে নামবে না ।

শুধু যে ছবি থাকলে হবে তাও না । আপনাকে নিজের এমন একটা প্রোফাইল তৈরী করতে হবে, যা কিনা সাধারণ মানুষের কাছে অসাধারণ মনে হয় । মানে অনেকটা ওবায়দুল কাদের সাহেবের মতো । কষ্ট করে হলেও গাড়ি থেকে নেমে বাসে উঠে একটা সেলফি তুলে FB তে পোস্ট করে দিন ।পরে কাজে লাগবে । একটু খেয়াল করে দেখুন ,সময়ের সাথে সাথে , আমাদের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাপকাঠি বদলে গেছে । ধরুন এক সময় বিয়ের বাজারে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছেলেদের সেই রকম একটা ডিমান্ড ছিল , আর আজকের দিনে মেয়েরা পছন্দ করে MBA করা মাল্টিন্যাশনাল এ চাকরি করে এমন একটা ছেলে ।এর মানে মানুষের পছন্দের মাপকাঠি নির্ভর করে সময়ের সাথে আর ব্র্যান্ডিং এর সাথে ।

আপনি যত সাধারণ জীবন জাপন করতে পারবেন তত আপনার ব্র্যান্ডিং হাই হবে ।মাত্র কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে অফিস বলতে আমরা বুজতাম , বড় সাহেবদের বিশাল চেম্বার আর ছোট ছোট চেয়ার টেবিল ছোটখাটো কর্মচারীদের জন্য । আজকে যদি আপনি দেখেন, দেখবেন ঢাকার মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলোর অফিস ভাবনা বদলেছে ।ডাইনিং টেবিলের মতো টেবিলে বড় সাহেব , ছোট সাহেব সবাই একসাথে বসে অফিস করছে । অনেক অফিসে কর্মচারীরা এখন আর আগের মতো কোট টাই পরে না । অতি সাধারণ ভাবে নিজেদের পছন্দ মতো ড্রেস পরে অফিসে করছে সবাই , আবার অনেকে পাঞ্জাবি পরে অফিসে করে প্রতিদিন ।ভাবতে পারেন আজ থেকে ১০ বছর আগে পাঞ্জাবি পরে অফিসে করার কথা ।সবই সম্ভব হয়েছে নিজেদের সেলফ ব্র্যান্ডিং এর কারণে ।

আপনি যত সাধারণ তত আপনার অসাধারণ ব্র্যান্ডিং । বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই ব্র্যান্ডিং কাজে লাগাচ্ছেন । একদিকে তিনি অতি সাধারণ আচরণের মাদ্ধমে অসাধারণ হয়ে উঠছেন অন্যদিকে সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া নিজেকে অসাধারণ ভাবতে ভাবতে অতি সাধারণ হয়ে গেছেন । আচরণগত এই ভাবমূর্তি নিজের ব্র্যান্ডিং এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । উন্নত দেশে এই সেলফ ব্র্যান্ডিং এর জন্য কাউন্সিলর আছে ।এদের কাছে গেলে এরা আপনাকে বলে দিবে আপনি কিভাবে চললে সবাই অনেকে পছন্দ করবে বা সবার মাজে আপনি মাথা উঁচু করা দাঁড়াতে পারবেন । আমাদের দেশে আছে কিনা জানি না কিন্তু থাকাটা প্রয়োজন ।

এখন কথা হচ্ছে আপনি এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন কিনা ? সাধারণত ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা যেকোনো পরিবর্তন সহজে মেনে নিতে পারি , এরপর আমাদের মন আর পরিবর্তন মানতে চায় না / এইজন্যই দেখবেন বুড়ো মানুষরা খিট খিটে মেজাজের হয়ে থাকে । পরিবর্তন মেনে নেয়ার সহজ উপায় প্রাকটিস করা । আজকে থেকেই লেগে পরুন,যা আপনার পছন্দ না এমন জিনিস পছন্দ করতে শিখুন ।দেখবেন আপনি সাধারণ ভাবে অসাধারণ হয়ে উঠছেন ।এছাড়া যে অন্য কোনো উপায়ও যে আছে তেমন একটা না । নাহলে আপনার অবস্থা বেগম খালেদা জিয়ার মতো হবে ।

আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে সবাই আশা করছিলো জয় এবার একটা ভালো পোস্ট পাবে । কিন্তু দেখা গেলো , ওবায়দুল কাদেরকে ভালো পোস্টে দিয়ে জয় আর বন্ধুদের কিছুই দেয়া হলো না । আপনি কি বুজতে পারছেন কি হলো ? প্রধানমন্ত্রী অতি সাধারণ ভাবে নিজের ছেলেকে অসাধারণ করে দিলেন ।এটাকে বলে এন্ডর্সমেন্ট । আজকের দিনে এমনটিই হয় । ক্ষমতা দেখাবার বিষয় না , ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয় । এরপর জয় যদি আগামী কাল সাধারণ সম্পাদক হয় , সবাই অতি সাধারণ ভাবে মেনে নিবে ।

আসুন একটু ভাবি, আপনার চাল চলন,আচার বেবহার আপনার জন্য অনেক কিছু বয়ে আন্তে পারে । যে জামাকাপড় আপনি পড়ছেন, কার জন্য ? আপনার জন্য , নাকি আশেপাশের সবাইকে দেখাবার জন্য ? একটু ভাবুন, দেখবেন,আপনি অন্যদের দেখাবার জন্য করছেন সব । যদি তাই হয় তাহলে অন্যরা যা দেখতে চায় , তাই পড়ুন । একবার চিন্তা করে দেখুন , যে জুতো আপনি পরে আছেন , সেটা কতটা শক্ত ভাবে আপনার পা দুটুকে আটকে রেখেছে । সারা দিন অফিস করে বাসায় যাবার পর আপনার পা ব্যথা করে । এক মাত্র আমাদের দেশে এরকম জুতো পাওয়া যায় । কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করছেন, অযথা কেন এই শক্ত জুতো পরে আছেন আপনি ? পরিবর্তন করুন নিজেকে সময়ের সাথে ।ভালো লাগবে । প্রচন্ড গরমের সময় আপনার হাতে একটা পানির বোতল থাকলে কি খুব বেমানান লাগবে ? মোটেও না ।তাহলে একবার হিসাব করে দেখুন দিনের বেলা কত গ্লাস পানি আপনি খান প্রতিদিন ? কারণ একটা বোতল হাতে নিয়ে ঘুরতে আপনার খারাপ লাগে আর এর ফলে জন্ডিসে ভুগতে আপনি গর্ভ বোধ করেন ।

খুব সাধারণ জীবন যাপন করতে কিন্তু অনেক টাকা পয়সার দরকার হয় না । বরং অসাধারণ জীবন যাপনে পয়সা খরচ । চাইলেই আপনি সাধারণ হয়ে যেতে পারেন এক মুহূর্তে । জীবনের জটিলতা কমে যাবে । কারণ আপনি হয়তো জানেন না, লন্ডন , আমেরিকাতে গরমের সময় সবার হাতে একটা পানির বোতল থাকে । আর এইভাবে ভাবলে দেখবেন , আপনিও পানির বোতল হাতে চলতে আর লজ্জা পাবেন না ।

আসেপাশে অসাধারণ সবার মাজে , নিজেকে সাধারণ ভাবে তুলে ধরুন, দেখবেন আপনিই অসাধারণ হবেন //
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:১২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×