
আপনি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যান সফল হবার জন্য । সেটা চাকরি ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে । কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন, সফল হবার পর আপনার প্ল্যান কি ? মানে আপনি যা হতে চাচ্ছেন , তা হয়ে গেলে, এর পর কি করবেন ? খুব সম্ভবত এই অংশটুকু নিয়ে আপনি এখন ভাবছেন না । কারণ সফল হওয়াটা আগে দরকার , তারপর ভাবা যাবে , সফল মানুষ হিসাবে আপনি কি করবেন । ঠিক এমনটিই হয়তো ভেবেছিলেন, জন্যপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমেদ । উনার সফলতা এতো তাড়াতাড়ি আসে , উনি সফল হবার পর কিভাবে কি করবেন তার প্ল্যান করে উঠতে পারেন নি । আর স্যার এর এই প্ল্যান টুকু করে বসে অন্য একজন ।
এই একজন হয়তো হতে পারতেন উনার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ অথবা উনার কোনো মেয়ে । কিন্তু সফলতার গতি এতো দ্রুত ছিল উনার , কেও বুজে উঠতে পারেনি যথা সময়ে । আর সময়ের এই সুযোগে প্ল্যান করে বসে অন্য একজন ।এই অন্য একজন, শাওন,আক্ষরিক অর্থে তার সব কিছু দিয়ে স্যার এর মন জয় করে নিয়েছেন । যেহেতু স্যার এর কোনো প্ল্যান ছিল না , একটা শূন্যতা তৈরী হয়েছিল সফলতার এই সময়। কাউকে না কাউকে শূন্যতা পুরুন করতে হয় , আর শাওন এই শূন্যতা পুরুন করছে ।
প্রত্যেক সফল মানুষের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা তৈরী হয় সফলতার এই মুহূর্তে । ধরুন বেবসা বাণিজ্যে যারা সফল , তাদেরও এই একই শূন্যতা হয় , তবে পার্থক্য এই যে , বেবসা বা চাকরি বাকরিতে থাকা মানুষ গুলো, kotler এর বই পরে বড়ো হয়া মানুষ ।এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ করতে হয় তা তাদের জানা । কবি সাহিত্যিকদের জীবনে তো আর kotler নেই আর উনাদের মনও অনেক কোমল । তাই খুব সহজে , উনাদের মনের ভিতর শূন্যস্থানে অন্য কেয় ঢুকে যেতে পারে । মন নরম হবে এটা খুবই স্বাভাবিক । আপনি নিশ্চই হিটলারের কাছে কাব্য আশা করেন না ।
ভাবুন একবার, যে কবি নিজের মন উজাড় করে লিখে আপনার জন্য, তারই মনে শূন্যতা আর এই শূন্যতা পূরণে কবির কোন প্ল্যান নেই । উনি অবাধে সবাইকে ঢুকতে দেয় উনার শূন্যতায় । আপনার কি মনে হয় , এমনটি হয়া উচিত ? কবি সাহিত্যিকদের Kotler এর বই পড়া যাবে না এমন কথা কি কোথাও লিখা আছে ? বা নরম মনের কবিদের কি "How to deal with women " এই জাতীয় বই পড়া নিষেধ ?খুব সম্ভব না । আমি প্রকারান্তে, কবি সাহিত্যিকদের ভালোবাসার দোষ দেই না । ভালোবাসার অধিকার সবার আছে । কিন্তু যে ভালোবাসা আপনি হযবরল করে ফেলেন , আর যেই ভালোবাসার জন্য আপনার হৃদয়ের রোগ হয়, সেই ভালোবাসা কি ভালো ?
যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাথে অনেক ভালোবাসা হজম করতে পারে আর সফলও হতে পারে, তাহলে কবি সাহিত্যিকদের তো আরো ভালো ভাবে ভালোবাসা মানিয়ে নিতে পারার কথা । চিত্রশিল্পী ভ্যান গঘ এর মতো নিজের কান কেটে ভালোবাসার প্রকাশ করে নিজের মনের দুর্বলতা প্রকাশ করুক, এমন শিল্পমনা আজকের দিনে কি খুব একটা মনে দাগ কাটতে পারবে ?
এদেশে জন্মানো কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে স্যার হুমায়ুন আহমেদ সর্বকালের সেরা , তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা না । উনার মদ্ধবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে উঠা , অসাধারণ মেধা , আমেরিকা তে লেখাপড়া , সব কিছু অন্য রকম একটা ব্লেন্ড তৈরী করছে উনার মাজে ।আপনি যখন শার্লক হোমসকে , বঙ্কেশ বাবুর সাথে মিশিয়ে ফেলবেন , আশ্চর্য ভাবে আপনি মিসির আলীকে দেখবেন চোখের সামনে । অসাধারণ এই সব ব্লেন্ডিং স্যারের পক্ষে সম্ভব হয়েছে কারণ উনি নিচের দিক থেকে উপরে উঠেছেন । কিন্তু উপরের জগতের সাথে কেন জানি উনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন নি । এর কারন হয়তো উনি উপরের পর আর উপর খুঁজে পান নি ।
একজন নিন্ম মদ্ধবিত্ত কবির কাছে উপরের সংঘা এক রকম আর এর পর কিছু ভাবা তার পক্ষে সম্ভব নয় । কিন্তু তার আসে পাশে শাওন এর মতো অনেকের উপর আর অনেক উপরে , আর যারা স্যারের মনে অন্য এক উপরের স্বপ্ন দেয় । স্যার আমার হারিয়ে যায় সেই উপরে । এটা মোটেও দোষের কিছু না ।তবে স্যার এর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ যদি এই উপরের স্বপ্ন গুলো স্যারকে দেখাতে পারতেন তবে গুগল এ স্যার এর নাম ঘটলে নোংরা কিছু হয়তো আজকে বের হতো না । সময়, হয়তো গুগলের এই search ক্যাটাগরি বদলে দেবে ।
অবাক হয়ে একবার ভাবুন , যে সঙ্গিনী আপনার কষ্টের সময় আপনার সাথে ছিল আর যার সার্বক্ষণিক তদারকিতে আপনি উপরের সিঁড়ি বেয়ে উঠলেন , সে সঙ্গিনী এক সময় আপনার শূন্যতার কথা বেমালুম ভুলে যায় । অদ্ভুত আচরণ আমাদের ।মিসির আলীর সাথে Kotler এর মিশ্রণ খুবই জরুরি ।কবি সাহিত্যিকদের বেবসা জ্ঞান থাকবে না এটা মেনে নেয়া যায় না । জীবনের জন্য যেমন কাব্য প্রয়োজন , কাব্যের সংরক্ষনের জন্য Kotler এর প্রয়োজন ।
আর তা যদি করতে না পারেন তবে , আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে বলুন আপনাকে লক্ষ্য রাখতে । কারণ একদিন আপনি যখন অনেক উপরে উঠে যাবেন, আরো উপরের স্বপ্ন যেন আপনার কাছের মানুষটাই দেখায় আপনাকে । । ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



