somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়নের PHILIP KOTLER

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যান সফল হবার জন্য । সেটা চাকরি ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে । কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন, সফল হবার পর আপনার প্ল্যান কি ? মানে আপনি যা হতে চাচ্ছেন , তা হয়ে গেলে, এর পর কি করবেন ? খুব সম্ভবত এই অংশটুকু নিয়ে আপনি এখন ভাবছেন না । কারণ সফল হওয়াটা আগে দরকার , তারপর ভাবা যাবে , সফল মানুষ হিসাবে আপনি কি করবেন । ঠিক এমনটিই হয়তো ভেবেছিলেন, জন্যপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমেদ । উনার সফলতা এতো তাড়াতাড়ি আসে , উনি সফল হবার পর কিভাবে কি করবেন তার প্ল্যান করে উঠতে পারেন নি । আর স্যার এর এই প্ল্যান টুকু করে বসে অন্য একজন ।

এই একজন হয়তো হতে পারতেন উনার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ অথবা উনার কোনো মেয়ে । কিন্তু সফলতার গতি এতো দ্রুত ছিল উনার , কেও বুজে উঠতে পারেনি যথা সময়ে । আর সময়ের এই সুযোগে প্ল্যান করে বসে অন্য একজন ।এই অন্য একজন, শাওন,আক্ষরিক অর্থে তার সব কিছু দিয়ে স্যার এর মন জয় করে নিয়েছেন । যেহেতু স্যার এর কোনো প্ল্যান ছিল না , একটা শূন্যতা তৈরী হয়েছিল সফলতার এই সময়। কাউকে না কাউকে শূন্যতা পুরুন করতে হয় , আর শাওন এই শূন্যতা পুরুন করছে ।

প্রত্যেক সফল মানুষের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা তৈরী হয় সফলতার এই মুহূর্তে । ধরুন বেবসা বাণিজ্যে যারা সফল , তাদেরও এই একই শূন্যতা হয় , তবে পার্থক্য এই যে , বেবসা বা চাকরি বাকরিতে থাকা মানুষ গুলো, kotler এর বই পরে বড়ো হয়া মানুষ ।এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ করতে হয় তা তাদের জানা । কবি সাহিত্যিকদের জীবনে তো আর kotler নেই আর উনাদের মনও অনেক কোমল । তাই খুব সহজে , উনাদের মনের ভিতর শূন্যস্থানে অন্য কেয় ঢুকে যেতে পারে । মন নরম হবে এটা খুবই স্বাভাবিক । আপনি নিশ্চই হিটলারের কাছে কাব্য আশা করেন না ।

ভাবুন একবার, যে কবি নিজের মন উজাড় করে লিখে আপনার জন্য, তারই মনে শূন্যতা আর এই শূন্যতা পূরণে কবির কোন প্ল্যান নেই । উনি অবাধে সবাইকে ঢুকতে দেয় উনার শূন্যতায় । আপনার কি মনে হয় , এমনটি হয়া উচিত ? কবি সাহিত্যিকদের Kotler এর বই পড়া যাবে না এমন কথা কি কোথাও লিখা আছে ? বা নরম মনের কবিদের কি "How to deal with women " এই জাতীয় বই পড়া নিষেধ ?খুব সম্ভব না । আমি প্রকারান্তে, কবি সাহিত্যিকদের ভালোবাসার দোষ দেই না । ভালোবাসার অধিকার সবার আছে । কিন্তু যে ভালোবাসা আপনি হযবরল করে ফেলেন , আর যেই ভালোবাসার জন্য আপনার হৃদয়ের রোগ হয়, সেই ভালোবাসা কি ভালো ?

যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাথে অনেক ভালোবাসা হজম করতে পারে আর সফলও হতে পারে, তাহলে কবি সাহিত্যিকদের তো আরো ভালো ভাবে ভালোবাসা মানিয়ে নিতে পারার কথা । চিত্রশিল্পী ভ্যান গঘ এর মতো নিজের কান কেটে ভালোবাসার প্রকাশ করে নিজের মনের দুর্বলতা প্রকাশ করুক, এমন শিল্পমনা আজকের দিনে কি খুব একটা মনে দাগ কাটতে পারবে ?

এদেশে জন্মানো কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে স্যার হুমায়ুন আহমেদ সর্বকালের সেরা , তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা না । উনার মদ্ধবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে উঠা , অসাধারণ মেধা , আমেরিকা তে লেখাপড়া , সব কিছু অন্য রকম একটা ব্লেন্ড তৈরী করছে উনার মাজে ।আপনি যখন শার্লক হোমসকে , বঙ্কেশ বাবুর সাথে মিশিয়ে ফেলবেন , আশ্চর্য ভাবে আপনি মিসির আলীকে দেখবেন চোখের সামনে । অসাধারণ এই সব ব্লেন্ডিং স্যারের পক্ষে সম্ভব হয়েছে কারণ উনি নিচের দিক থেকে উপরে উঠেছেন । কিন্তু উপরের জগতের সাথে কেন জানি উনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন নি । এর কারন হয়তো উনি উপরের পর আর উপর খুঁজে পান নি ।

একজন নিন্ম মদ্ধবিত্ত কবির কাছে উপরের সংঘা এক রকম আর এর পর কিছু ভাবা তার পক্ষে সম্ভব নয় । কিন্তু তার আসে পাশে শাওন এর মতো অনেকের উপর আর অনেক উপরে , আর যারা স্যারের মনে অন্য এক উপরের স্বপ্ন দেয় । স্যার আমার হারিয়ে যায় সেই উপরে । এটা মোটেও দোষের কিছু না ।তবে স্যার এর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ যদি এই উপরের স্বপ্ন গুলো স্যারকে দেখাতে পারতেন তবে গুগল এ স্যার এর নাম ঘটলে নোংরা কিছু হয়তো আজকে বের হতো না । সময়, হয়তো গুগলের এই search ক্যাটাগরি বদলে দেবে ।

অবাক হয়ে একবার ভাবুন , যে সঙ্গিনী আপনার কষ্টের সময় আপনার সাথে ছিল আর যার সার্বক্ষণিক তদারকিতে আপনি উপরের সিঁড়ি বেয়ে উঠলেন , সে সঙ্গিনী এক সময় আপনার শূন্যতার কথা বেমালুম ভুলে যায় । অদ্ভুত আচরণ আমাদের ।মিসির আলীর সাথে Kotler এর মিশ্রণ খুবই জরুরি ।কবি সাহিত্যিকদের বেবসা জ্ঞান থাকবে না এটা মেনে নেয়া যায় না । জীবনের জন্য যেমন কাব্য প্রয়োজন , কাব্যের সংরক্ষনের জন্য Kotler এর প্রয়োজন ।

আর তা যদি করতে না পারেন তবে , আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে বলুন আপনাকে লক্ষ্য রাখতে । কারণ একদিন আপনি যখন অনেক উপরে উঠে যাবেন, আরো উপরের স্বপ্ন যেন আপনার কাছের মানুষটাই দেখায় আপনাকে । । ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৭
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×