somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাঁজা দিয়ে পান্তাভাত

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভাবুন আপনার বাসায় ইলেক্ট্রিসিটি নেই , প্রচন্ড গরমে আপনি হাঁশফাঁশ করছেন । এই সময় আপনাকে যদি কেয় এসে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে লেকচার দেয়, তা কি আপনি খুব ভালো ভাবে নিবেন ? বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আপনাকে যে পরিস্থিতিতে যেতে হবে তা কি আপনার আছে ? ভালো খারাপের সংঘা অত্যন্ত আপেক্ষিক একটা বেপার ? আপনি যা ভালো মনে করছেন , অনেকে তা মনে নাও করতে পারে । আপনি হয়তো বলতে পারেন , যা ভালো বা সত্য , তা সব সময় ভালো আর সত্য, অন্য কেও মানুক বা না মানুক । মোটের উপর বেশির ভাগ আমরা এরকমই ভাবি ।



নিউ ইয়র্কে গাজা মানে "গঞ্জিকা" সেবনে কোনো বাধা নিষেধ নেই । দোকানে অবাধে গাজা বা কোকেইন কিনতে পাওয়া যায় । সমানে লোকজন রাস্তায় - পাবলিক প্লেসে গাজা খায় আর আমার মতো নিরীহ মাঁনুষের, বাসে বা ট্রেনে সেই গাজার গন্ধ সহ্য করে চলতে হয় ।এখানেই অবাক হবার কিছু নেই, নকল গাজা বা কোকেইনে ভোরে গেছে নিউইয়র্ক শহর . সরকারি ভাবে বাসে- ট্রেনে, সাধারণ জনগণকে আসল গাজা বা কোকেইন সেবনের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয় । হারবাল গাজা বা কোকেইন শরীরের জন্য ভালো, অনেকটা এই রকম । কি মনে হচ্ছে, গাঁজাখুরি কিছু লিখে ফেলেছি ? এই গাঁজাখুরি ভাবার জন্যই গাজার গল্পটা বললাম ।কারণ আপনি যেটাকে গাঁজাখুরি ভাবছেন , সেটা পৃথিবির এই প্রান্তে পান্তা ভাত , আর আপনার পান্তা ভাত এখানে অবাস্তব একটা মেনু ।

তাহলে মানতে বাধা নেই, সব সময় আপনি যা ভালো মনে করেন তা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ভালো নাও হতে পারে । মানুষে চাহিদা অনুযায়ী ভালো খারাপের নির্ধারণ হয় । ঠিক কি কারণে আপনি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কে ভালো মনে করছেন না , তা কি ঠিক করে বলতে পারবেন ?? মনে হয় না । পৃথিবীর এই প্রান্তের মানুষগুলোর কাছে এই মুহূর্তে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা সুন্দরবন নিয়ে যে আগ্রহ সেটা আসলে কেন, তা কি আপনি ওই প্রান্তে বসে বুজতে পারবেন ? বোজার কি কথা ? যেখানে আপনি গাজা আর পান্তা ভাতের মিল করতে পারবেন না, সেখানে কিভাবে আপনি এদের চাহিদা আর আপনার চাহিদা এক করছেন ?

টক্ শো গুলোতে দেখলাম পুরো ডাটাবেস নিয়ে বসে একদল বলছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের জন্য হুমকি , আর একদল বলছে আমাদের এখন ইলেকট্রিসিটি দরকার হারিকেন না । আপনি কখনই গাজা আর পান্তাভাত এক সাথে মিলাতে পারবেন না । দুইটা দুই রকমের মেনু , দুই প্রান্তের । কোন পক্ষ না নিয়ে বলছি, লন্ডন আর নিউইয়র্কের পাওয়ার প্লান্ট গুলো কি দেখেছেন, দেখেছেন বায়ু দূষণ ? কিন্তু এই দেশগুলোতে পরিবেশ নিয়ে কথা বলার কেয় নেই । কারণ কি জানেন , পৃথিবীর এই প্রান্তে আন্দোলন একটা নিয়ম মাফিক ব্যায়াম। আপনার বয়েস যদি ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে হয় ,আপনার ড্রেস কোড, আচার আচরণ আন্দোলনের ধারা সবই একই রকম হবে । আপনি WORLD BANK , WTO , UN , এর অফিসার সামনে তাবু টাঙিয়ে আন্দোলন করবেন, এটাকে বলা হয় PANK লাইফ স্টাইল এর একটা অংশ । এদের প্রত্যেকের জীবনে এই বয়েসের এই ধরণের কিছু ছবি আপনি পাবেন এদের FB তে । আর বয়েস যদি ৪০ উর্ধে হয় , এই একই মানুষটি এই সবের মধ্যে আর থাকে না , হয়তো যে WORLD BANK বা UN অফিসের সামনে বসে একদিন আন্দোলন করছে , এখন সে সেই UN এতে জব করছে ।



আর অদ্ভুত ভাবে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আপনি এদের এই লাইফ স্টাইলকে ভাবছেন সম্পূরূক চিন্তা । একবার কেন ভাবছেন না, আপনার কি প্রয়োজন ? গাজা বা পান্তা ভাত যাই আপনি চান নিজের মতো করে হালাল করে নিন । আপেক্ষিক এই বাস্তবতায় দূরের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের দিকে তাকান, সরকার এই মুহূর্তে আপনার জন্য গাজা , আর পান্তা ভাত দুটোই হালাল করে রেখেছে । আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি পছন্দ করে নেন , কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কাওকে রেফারেন্স টানবেন না, কারণ আপনার কোনো আইডিয়া নেই, যাকে আপনি রেফারেন্স টানছেন, সে কতটুকু আপনার মতো । । ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:২৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×