দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতাদের দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
খুলনা অভিমুখে চারদলীয় জোটের রোডমার্চের প্রথম দিনে গতকাল শনিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় এক পথসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যাঁরা দেশপ্রেমিক আছেন, দল ছেড়ে চলে আসুন। আপনারা বিএনপিতে যোগ দিন। দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের সঙ্গে কাজ করুন। আমরা আপনাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেব, যথাযোগ্য পদ দেব।’ তাঁর দাবি, দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারবে না। যত উন্নয়ন হয়েছে, সব বিএনপি করেছে।
এরপর সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় বক্তৃতায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রব্যমূল্য কমানো, গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, পদ্মা নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন খালেদা জিয়া। তিনি রোডমার্চ কর্মসূচি শেষে সরকার হটাও কর্মসূচিতে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনব। বিদ্যুৎ, গ্যাসের চাহিদা পূরণ করব। যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করব। পদ্মা নদীর মাওয়া ও পাটুরিয়ায় দুটি সেতু নির্মাণ করব এবং কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেব।’ তিনি বলেন, এই সরকার কোনো দিন পদ্মা সেতু করতে পারবে না।
খালেদা জিয়া ধান ও পাটের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি মূল্য নির্ধারণ করে ক্রয়নীতি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃষককে বাঁচাতে হবে। এ জন্য তাঁদের লাভ দিয়ে সরকারকে ধান-চাল ক্রয় করতে হবে।
ঈশ্বরদীর পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুস সোবহান মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নিজামী, মুজাহিদ, সাইদীসহ জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।
সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। এর আগে সিলেট ও উত্তরাঞ্চল অভিমুখে দুটি রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। রোডমার্চে বিএনপি ছাড়াও চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
খালেদা জিয়া গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় তাঁর গুলশানের বাসা থেকে যাত্রা শুরু করেন। রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তিনি পাঁচ শতাধিক গাড়ির রোডমার্চ বহরের নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
গতকাল বেলা সাড়ে তিনটায় জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে পৌঁছান সন্ধ্যা ছয়টায়। কুষ্টিয়ার জনসভার পর রাতে ঝিনাইদহে একটি পথসভা শেষ করে খালেদা জিয়া যশোরে পৌঁছান। যশোরে তিনি রাত যাপন করেন।
আজ রোববার বিকেলে খুলনায় জনসভার মধ্য দিয়ে রোডমার্চ শেষ হবে। এর আগে সকালে যশোরে একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন খালেদা জিয়া। সময় থাকলে তিনি বাগেরহাটে খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন।
কুষ্টিয়ার জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের নাম বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বলেছে। আমরাও জানি, এর সঙ্গে কারা জড়িত। ক্ষমতায় এলে এদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। সরকারের নানা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে পালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।’
বিরোধীদলীয় নেতা টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে বলেন, ‘এই সরকার এর প্রতিবাদ করেনি। তাই জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিরোধী দল হয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির উত্তর পাঠানো হয়েছে বলে শুনেছি। ঢাকায় গিয়ে দেখব, কী লেখা আছে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের বারোটা বাজিয়েছেন। এঁরা কোনো কাজ করতে পারেন না। নিজেদের দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পারেন না, অথচ অন্য দেশে গ্যাস পাচারের চেষ্টা করছেন।’
বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁর যাত্রাপথে সড়কের বিভিন্ন অংশের খারাপ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, সারা দেশের সড়কের বেহাল অবস্থা। অথচ যোগাযোগমন্ত্রী বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের রাস্তাঘাট ভালো হচ্ছে না। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সরকার বলছে, টাকা জোগাড় করতে পারছে না। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারতের যানবাহন চলাচলের জন্য সেই দেশের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রাস্তা বানাচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয়, এই সরকার জনগণের নয়, এরা ভারতের। এই সরকার অযোগ্য ও অপদার্থ।’
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুস সোবহান, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


