দশম সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে আগামী অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাইবে নির্বাচন কমিশন।
এর মধ্যে সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫০০ কোটি। উপজেলা নির্বাচনেও প্রায় সমান অর্থ ব্যয় হবে বলে কমিশনের ধারণা।
কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী সপ্তাহে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক শেষে ইসির এই প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে।”
ইসি সচিবালয়ের একজন উপ সচিব জানান, সম্ভাব্য এ ব্যয় অতীতের যে কোনো নির্বাচনকে ছাড়িয়ে যাবে। সর্বশেষ নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৫০ হাজার ৬৮৭ টাকা।
এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলায় সশস্ত্রবাহিনীর দৈনিকভাতা, কন্টিনজেন্সি, জ্বালানি ও অতিরিক্ত সময়ের জন্য মোতায়েন বাবদ ব্যয় হয় ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৪ টাকা। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ৮৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৩ টাকা ব্যয় হয়।
আইন-শৃঙ্খলায় ব্যয় হওয়া এই ৯৮ কোটি টাকার মধ্যে এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রমেই।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে।
ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিকের সভাপতিত্বে গত ১৭ জানুয়ারি ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের প্রাক্কলন এবং মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো নিয়ে বৈঠক হয়। এ বৈঠকে দশম সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের বিষয়টিই গুরুত্ব পায়।
কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য চলতি অর্থবছরের অতিরিক্ত ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হচ্ছে।
বড় ব্যয় আইন-শৃঙ্খলায়
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি), ১৯৯৬ (জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালে মোট নয়টি সংসদ নির্বাচন হয় বাংলাদেশে।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, ভোট গ্রহণে যতোজন নির্বাচনী কর্মকর্তা লাগে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োগ দিতে হয় তার তিনগুণ। এ কারণে পুরো নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় আইন শৃঙ্খলা খাতে।
গত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইন শৃঙ্খলা খাতে ব্যয় হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ের দেড়গুণ।
পঞ্চম সংসদে নির্বাচন পরিচালনা ও আইন শৃঙ্খলাখাতে ব্যয় হয় ২৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৭ টাকা। এর মধ্যে পরিচালনায় ৭ কোটি ২১ লাখ ৯৩ হাজার ১০৭ টাকা ও আইন শৃঙ্খলায় ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকা।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে ব্যয় হওয়া ৩৭ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩০ টাকার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা খাতেই যায় ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৯ টাকা।
একই বছরের জুনে সপ্তম সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় ১১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৩৪৭ টাকা এবং আইন শৃঙ্খলায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার টাকা নিয়ে মোট ব্যয় হয় ৪০ কোটি ৬ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা খরচ হয়।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয় ৭২ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার ২২০ টাকা। এর মধ্যে পরিচালনায় ৩০ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৮ টাকা এবং আইন শৃঙ্খলায় ৪২ কোটি ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা খরচ হয়।
নবম সংসদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচন আয়োজনের ব্যয়ও বাড়ছে। আর আইন শৃঙ্খলাখাতেই তো বেশি খরচ হবে। সেনা, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ছাড়া কেউ নির্বাচন করতে চায় না। এ জন্য তাদের ডাকতে হয় । বিপুল বরাদ্দ তাদের পিছনে দিতে হয়।”
সংবিধান অনুযায়ী, এ বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নিবাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিডি নিউজ থেকে কপি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


