somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি!!!

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তাকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি, কথা বলিনি, এমনকি তিনি আমাকে চিনতেনও না। অথচ আমার মতো অসংখ্য তরুন-তরুনীর জীবনে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। হ্যাঁ, আমি হুমায়ুন আহমেদের কথা বলছি। আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি।
চিনতেন না বলাটা কি পুরোপুরি ঠিক হলো? সম্ভবত না। তিনি কি আমাদেরই একজন ছিলেন না, অনেক কাছের একজন? “আমার ছেলেবেলা”তে ‘জোছনার ফুল’ ছোয়ার ঘটনাটি কি আমাদের জীবনেও ঘটে নি? ‘চাঁদের আলোয় কয়েকটি যুবক’ এর মধ্যে কি আমি-আপনিও ছিলাম না? বাকের ভাই আজো আমাদের চার পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে না?

ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘কিশোর সমগ্র’. হারিয়ে যাওয়া ‘নীল হাতি’, ‘বোতল ভূতে’র র জন্য আমিও কেদেছিলাম তখন, বড় হয়ে যেমন কেদেছিলাম ‘এপিটাফ’ পড়ে। একবার অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি থাকার সময় মা কিনে দিয়েছিল ‘তোমাদের এই নগরে’. হ্যাপিদার কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলাম ‘তিথির নীল তোয়ালে’ সহ আরো অনেক অনেক বই। লূকু মামা আমার সবগুলো বই ক্যালেন্ডারের সাদা পাতা দিয়ে মলাট করে দিয়েছিল; একটা একটা করে বইগুলো কারা যেন নিয়ে গেছে, ফিরিয়ে দেয় নি। থাক না কিছু তাদের কাছে, হয়তো তাদের কেউই আজ হয়ে উঠছে ‘কবি’র আতাহার।
‘সূর্যের দিনগুলি’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ পড়ে ঘৃণা করতে শিখেছি পাক হানাদার ‘ইবলিশ’দের, আর বেঈমান ‘অমানুষ’ ‘পোকা’ গুলোকে বলেছি- তুই রাজাকার । আবার ‘বহুব্রীহি’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ পড়ে অন্তরে জেগে উঠেছে ‘তোমাদের জন্য ভালবাসা’ . সায়েন্স ফিকশন ‘নিউটনের ভূল সূত্র’, ‘ওমেগা পয়েন্ট’ এবং ‘ফিহা সমীকরণ’ নিয়ে পড়ে ছিলাম কিছুদিন। ‘নুহাশ ও আলাউদ্দিনের আশ্চর্য চেরাগ’ পড়ে বিস্ময়ে ভেবেছিলাম ‘একি কান্ড’! ‘পারুল ও তিনটি কুকুর’ নাড়া দিয়ে গেছে কখনো, আবার কখনো ‘তন্দ্রাবিলাস’ পড়ে ‘অন্যভূবনে’ গিয়ে বলেছি ‘আমিই মিসির আলী’. প্যারালাস ইউনিভার্স এবং সিরিয়াল কিলার নিয়ে ‘অতিপ্রাকৃত’ মমস্তাত্ত্বিক উপন্যাস পড়ার পর ‘আপনারে আমি খুজিয়া বেড়াই’. পাঁচটি নীলপদ্ম নিয়ে ‘রূপা’ ‘ইমা’ ‘রুমালী’ ‘মৃন্ময়ী’ দের মতো ‘পেন্সিলে আকা পরী’ খুজে বেড়িয়েছি কোন এক ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’এ। বাসার সবাই মিলে একসাথে দেখেছি ‘আজ রবিবার’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘কোথাও কেউ নেই’ . কোন এক গভীর ‘রজনী’তে কারো জন্য ‘অপেক্ষা’ করতে করতে অবশেষে মনে হয়েছে ‘দরজার ওপাশে’ ‘কোথাও কেউ নেই’। চশমাটা চোখে দিয়ে মাঝে মাঝে নিজেকে ‘শুভ্র’ মনে হয়, যেন কেউ ডেকে উঠবে এখনি ‘এই শুভ্র এই’ বলে! আজো আমি একাকী ভীড় বাসে হিমু’র মতো ‘‘ময়ুরাক্ষী’ নদী তৈরী করে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেই চারিপাশ থেকে।

তিনি আমাদেরকে ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ খুজতে শিখিয়েছেন, ‘অরণ্য’তে জোছনা দেখা শিখিয়েছেন, তাইতো “জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’. তিনি আমাদেরকে ‘রহস্য’ময় ‘রূপালী রাত্রী’তে খালি পায়ে হাটতে শিখিয়েছেন হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে, ‘দেখা না দেখা’ পৃথিবীটাকে ‘তৃ্তীয় নয়ন’ দিয়ে দেখতে শিখিয়েছেন তিনি, শিখিয়েছেন সকল বাধা অমান্য করে ‘বৃষ্টি বিলাস’ করতে। তিনি আমাদেরকে দেখিয়েছেন ‘এইসব দিনরাত্রি’তে কিভাবে শত কষ্টের মধ্যেও হাসতে হয়, হাসাতে হয়, বাঁচতে হয়।

ভেবেছিলাম ছোট করে লিখব, কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের যে প্রভাব জীবনে রয়েছে তার ব্যপ্তি এক লাইনে হয় না। আজ হঠাৎ ইচ্ছে করলো তার পুরো কালেকশনটা কিনব, রকমারি থেকে কিনতে ৩৬,৬১২ টাকা প্রয়োজন। হয়তো পুরোটা একবারে পারব না, বিকেলে ‘হিমু সমগ্র’টা কিনে আনব ভাবছি। পাগলামীটাও তো তিনিই শিখিয়েছিলেন!
মানুষটা শেষ দিকে অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন এই ‘নন্দিত নরকে’. যে ‘মহাপুরুষ’ সবাইকে এত আনন্দ দিয়েছেন এই ‘নির্বাসন’ তার প্রাপ্য ছিল না। ক্যান্সারের চিকিৎসা চলার সময় ‘নিউইয়ার্কের আকাশে ঝকঝকে রোদ’ এ উনি লিখেছিলেন শাওনকে বিয়ে করায় তাকে কি পরিমাণ অপমান সহ্য করতে হয়েছে। আমি তার প্রতি এই অবিচার কখনই মানতে পারিনি, তার জীবনদর্শন হয়তো তাকে এমন দর্শনের সন্ধান দিয়েছিল যা তার দৃষ্টিভঙ্গীকে আমাদের সাদা চোখের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। ‘শঙ্খনীল কারাগার’এর বাধা ভাঙ্গার, ‘ভয়’ কে জয় করার, অসম প্রেমকে বরণ করার, এক জীবনে নিজেকে বঞ্চিত না করার সাহসের কথা তিনি যখন তার বইয়ে লিখেছেন তখন আমরা তাকে বাহবা দিয়েছি। মনের গভীরে নিজেরাও কি চাইনি ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’ ‘ ‘বাঘবন্দী মিসির আলী’ ‘এবং হিমু’ হতে? অথচ...।

শুভ জন্মদিন গল্পের ‘জাদুকর’. ভক্তদের হৃদয়ের ‘অনন্ত নক্ষত্রবিথী’তে আপনার স্থান। ভাল থাকুন ‘অন্যভূবনে’।

`````‘আলোটুকু তোমায় দিলাম,
`````ছায়া থাক আমার কাছে’-
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×