somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Biniamin Piash
আমি স্বেচ্ছাচারী; করি মন যা চায়! শাসন কিংবা শঙ্কায় নয়, আমি স্থির হই ভালোবাসায়।

পরী এবং ঝাঁটা সমাচার

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে।আমি গায়ে কালো ব্লেজার পরে,চোখে কালো চশমা লাগিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছি।যদিও এই বৃষ্টির ভিতরে রেইনকোর্ট না পরে ব্লেজার পরার কি ফায়দা আছে তা আমি বুঝতে পারতেছি না।আর এই মেঘলা দিনে চোখে কালো চশমা পড়ার উপকারিতাও আমার জানা নেই,কিন্তু আমি বিষয়টা খুব উপভোগ করছি।আশেপাশের লোকজন আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে,মনে হচ্ছে যেন তারা চিড়িয়াখানার বানর দেখছে।কিছু কিছু উত্সাহী জনতা তো পারলে আমাকে বাদাম ছুড়ে মারে!কিন্তু,আমি কাউকে পাত্তা দিলাম না।কারণ আমি হচ্ছি এখন সবার সেন্টার অফ এটেনশন,আমার দিকেই সবার নজর দিবে আমি অন্যদের পাত্তা দিলে জনপ্রিয়তা হারাবো!হঠাতই খেয়াল করলাম যে আমি আসলে একা না আমার সাথে এক অপরূপা সুন্দরী ষোড়শী বৃষ্টিতে ভিজছে।প্রথমে কিছুক্ষণ ভাবলাম কেমিষ্ট্রি ল্যাবে গিয়ে হয়তো ভুলভাল কিছু খেয়েছি অথবা কোল্ড ড্রিংকসে হয়তো অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি ছিল তাই এখন চোখে উল্টাপাল্টা দেখছি,কিন্তু ক্ষাণিকক্ষণ দুই হাত দিয়ে চোখ রগড়ে লাল করে ফেলার পরও যখন রমণীকে দেখলাম তখন মনের ভিতরটা একদম বাক বাকুম করে উঠলো।আমি আড়চোখে বারবার সেই রমণীকে দেখছি।এমন সময়ে সেই অপরূপা সুন্দরী আমার দিকে তাকিয়ে শীতের সকালের মত একটা স্নিগ্ধ হাসি দিলো!সাথে সাথে আমার শরীরে যেন ৪৪০ ভোল্টের শক খেলাম!আমার হার্টবিট বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল,ব্লাড প্রেশার একবার হাই একবার লো হতে লাগলো,পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো,চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করলাম,কানের চারপাশে ভনভন শব্দ শুনতে লাগলাম,হাত-পা অবশ হয়ে যেতে লাগলো,মাথা ঘুড়ে পরে যাবো ঠিক সেই মূহুর্তেই একজোড়া কোমল হাত আমাকে ধরে ফেললো।চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি স্বর্গ থেকে ভুল করে নেমে আসা এক পরী আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।যদিও দাতগুলো একটু হলুদ লাগছিলো,কিন্তু ব্যাপার না।এর আগে যেহেতু কোন মেয়ের হাতে মাথা রাখিনি তাই এখন হলুদ,কালো বা লাল যে দাতওয়ালা মেয়েই হোক না কেন আমাকে মানিয়ে নিতে হবে।আমার ইচ্ছে করতেছিল এক দৌড়ে বাসায় গিয়ে পিসি অন করে ফেসবুকে রিলেশনশীপ স্ট্যাটাসটা চেইন্জ করে দিতে,কিন্তু এই মূহুর্তে একটা পরীকে একা ফেলে যাওয়া ঠিক হবে না,তার উপর এই ষোড়শীর উদ্দেশ্য কি তাও ঠিকমত জানি না।তাই অনেক ভেবে-চিন্তে এই ইচ্ছাটাকে দমন করলাম।আমি পরীর দিকে তাকিয়ে আছি,পরী আমার দিকে,পিছনে Elle Goulding এর Love Me Like You Do গান বাজছে!খুবই রোমান্টিক পরিবেশ,বৃষ্টির মাত্রা আস্তে আস্তে্ বাড়ছে।আমি ধীরে ধীরে পরীর দিকে এগুচ্ছি।বৃষ্টির মাত্রা আরো বাড়ছে,সাথে পানির তাপমাত্রাও।আমিও প্রবল বেগে পরীর দিকে এগুচ্ছি।বৃষ্টির পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরীও কেন যেন ক্রমশ আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।নাহ,অনেক বেশিই বৃষ্টি পরছে এখন আর অনেক গরম,গা যেন পুড়ে যাচ্ছে।পরীও এখন আমার থেকে অনেক দূরে।জীবনে প্রথমবার পাওয়া ফ্রি উপহার হারাতে হবে ভাবতেই যেন আমার শরীরে শিহরণ বয়ে গেল।তাই পরীকে ধরার জন্য শরীরের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে বাংলা সিনেমার নায়কদের মত প্রাণপণ দৌড় দিলাম।কিন্তু কিছুদূর যেতেই একটা কিছু পায়ের সাথে পেচিয়ে যাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলাম।মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে রইলাম।এরপর যখন চোখ খুললাম তখন দেখি আমি খাটের নিচে আর পানির বালতি নিয়ে আমার পাশেই আম্মু দাড়িয়ে আছে।
এরপর আম্মু ঘটনার সমস্ত বিবরণ জানালো।এতক্ষণ আমি আসলে স্বপ্ন দেখছিলাম।স্বপ্নের ভিতরে যে বৃষ্টি পড়ছিলো সেটা আসলে আম্মু আমার ঘুম ভাঙানোর জন্য পানি দিচ্ছিলো।প্রথমে ঠান্ডা পানি দিয়ে না হওয়ায় পরে গরম পানি ঢেলে দিয়েছে।যার ফলশ্রুতিতে আমার এমন সুন্দর রোমান্টিক মূহুর্তটা ভেস্তে গেল।আমি প্রথমে কিছুটা দুঃখ পেলেও পরবর্তীতে অবশ্য খুশিই হলাম।কারণ,গরম পানিতে কাজ না হলে আম্মু তার ব্রক্ষ্মাস্ত্র,খাটি বাংলায় যাকে বলে 'ঝাঁটা',সেটা ব্যবহার করত।পরী তো ঘুমালেই দেখা যাবে,তাই পরী হারানোটা দুঃখের কিছু না,বরং এ যাত্রায় ঝাঁটাপেটা থেকে বেঁচে গেছি এটাই অনেক খুশির খবর!

বিনিয়ামীন পিয়াস
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:১২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×