এই প্রথম কোন চিঠি লিখছি তোমার কাছে । মোবাইল এবং ইন্টারনেটের যুগে আজকাল তো কেউ চিঠি লেখে না। এর জন্য অনেক আফসোস হয়। তোমার সাথে আমার কথোপকথনগুলো কোথাও লেখা নেই। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি চিঠি লেখার প্রচলনটা থেকে যেত, কত্ত ভালো হতো! মাঝে মাঝে পড়তাম তোমার-আমার কথোপকথন।
A walk to remember - আমার খুব প্রিয় একটা মুভি। একসাথে দেখেছিলাম আমরা। তোমার মনে আছে, মুভিটা দেখার পর বলেছিলাম, “মেয়েটা অনেক লাকী! তার ছোট্ট জীবনের শেষ কয়টা দিন কী সুন্দরভাবে কাটিয়ে দিল। প্রিয় মানুষটার সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর স্মৃতি নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। কত সুখী! আমারও খুব ইচ্ছে হয় ,জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিছু সময়ের স্মৃতি নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেই।“ তুমি হেসেছিলে। বলেছিলে, “তুমি একদম ছেলেমানুষ!”
জানো, আমি যা চেয়েছিলাম, ঠিক তেমনটাই হতে চলেছে। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টুকুকে সাথে নিয়ে আমি চলে যাচ্ছি। কিন্তু একটাই অপূর্ণতা রয়ে গেছে। তা হলো, আমার শেষ সময়টুকুতে তোমাকে পাশে পাবো না আমি। তাতে কি! তোমার স্মৃতিগুলো তো রয়ে গেছে। তাই নিয়েই না হয় সুখে থাকবো একয়টা দিন।
জানি, তোমার জন্য এখন রয়েছে অন্য কেউ অথবা তুমি রয়েছ অন্য কারো জন্য; অন্য কারো পাশে ,তার হাত ধরে। এই ভালো। একা তো থাকছো না। আমিও একা নই। আমার মনে তুমি আছো না! হোক না মনে মনে। তবু আছো তো। ওতেই আমি সুখী।
একটা খবর তোমার অজানা, আমার শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে। এ খবরটা অজানাই থাকুক।
আর কিছু লিখতে পারছি না। এ চিঠি কোনওদিনই তোমার কাছে পৌঁছবে না। কারন, চিঠিটা আমি পোস্টই করবো না। এ তো আমার ডায়েরীতে লেখা চিঠি। এ শুধু আমারই।
ভালো থেকো। অনেক ... অ-নে-ক ...
[এই লেখাটা আমার খুব কাছের এক বন্ধুর। বন্ধুটি একেবারেই নিরুদ্দেশে গেছে। চলে যাওয়ার কিছুদিন আগে তার ডায়েরীটা আমাকে দিয়ে যায়। সেই ডায়েরীর একটা পাতা তুলে দিলাম এখানে। ওকে অনেক মিস করছি। ওর কথা মনে রেখেই আজকের এই পোস্টটা।
ভালো থাকিস, সুখী থাকিস, যেখানেই আছিস! ]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ বিকাল ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


