অরিন, ফারিন - একই দিনে জন্ম। যৌথ পরিবারে থাকার সুবাদে একই সাথে বেড়ে ওঠা। জন্মটা একই দিনে হলেও ক্ষণটা ছিল ভিন্ন - সকাল আর দুপুর। দুইজন একেবারেই বিপরীত চরিত্রের - একজন যদি আকাশ হয় তো আরেকজন পাতাল।
আমি ফারিন আর ও হচ্ছে অরিন । ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব দুঃসাহসী, ডানপিটে, টমবয়গোছের। এক জায়গায় স্থির থাকতো না কখনোই। আমি এতটা অস্থির স্বভাবের ছিলাম না। হয়ত সিঁড়িঘরের এক কোণায় বসে বই পড়ছি, ও এসে পিছন থেকে আমাকে চমকে দিয়ে বলবে, "কি পড়িস? ভ্যাদভ্যাদে প্রেমের কবিতার বই?" অথবা কোনও উপন্যাস পড়ে হয়ত কাঁদছি, ধমক দিয়ে বলে উঠবে, "খবরদার ফ্যাঁচফ্যাঁচ করবি না। কি সব পড়িস, আর সারারাত কান্নাকাটি করে আমার ঘুমের ১২টা বাজাস।"
তবে আমাদের দুইজনেরই তিনটা ব্যাপারে মিল আছে- আমরা দুইজনেই ঘুরতে, খেতে আর গান শুনতে ভীষণ পছন্দ করি। যদিও গানের পছন্দের ধরণ আলাদা কিন্তু ঘুরতে যাওয়া আর খাবারের পছন্দ আমাদের একেবারে এক। তবে আমরা দুইজন স্বভাবে রাত আর দিন হলেও একটা কথা সত্যি যে, কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। দেখা যেত ছুটিতে ও নানাবাড়ি যাচ্ছে , আমাকে নিত সাথে অথবা আমি যাচ্ছি, ওকেও সাথে নিতাম। মানিকজোড় উপাধি দেয়া হয়েছে আমাদের।
গল্প-কবিতা পড়তে ভালোবাসি বলে আমার এক বন্ধু একদিন সামুর লিঙ্ক দিয়ে বলে, এখানে অনেকের লেখা পড়তে পারবে।
মন্তব্য করতে হলে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে দেখে আ্যকাউন্ট খুলে ফেলি। পরে কি ভেবে অরিনেরও একটা অ্যাকাউন্ট খুলে দেই (যদিও ও ভূতের গল্প আর রম্য ছাড়া আর কিছু পড়তে খুব একটা আগ্রহ পায় না) । কিন্তু বিপত্তি বাধে নিক নিয়ে। আমি 'বৃষ্টি পরী' নিক নেই আর ওকে খুলে দেই 'জ্যোৎস্না পরী' নামে । এইনিক দেখে ও তো চোখ কপালে তুলে বলে , "এইটা কি নাম দিলি আমার!! আমার সাথে কি মিল দেখে এই নাম দিলি?? " এখন তো আর নিক বদলানো যাচ্ছে না। তাই ব্লগে ঢুকলেই নিয়ম করে একবার ওর বকা খেতে হয়।
অরিন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১২ ভোর ৬:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


