
এসএসসি-এইচএসসি-তে আমার একটা পাঠ্য বিষয় ছিলো বানিজ্যিক ভূগোল। লোকজন যতটা অপছন্দ করে বিষয়টা ততটা খারাপ না। যাই হোক, পরীক্ষায় উক্ত বিষয়টি পাশ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের একটি ছিলো--বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও তার প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তরে অসংখ্য পয়েন্টস ছিলো। যেমনঃ
-শিক্ষার অভাব
-জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত ধারণার অভাব
-নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
-শিশু মৃত্যু হার রোধে সাফল্য
-চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন
-বাল্য বিবাহ
-ধর্মীয় অনুভূতি…
এরকম আরও গোটা বিশেক।
তবে একটা পয়েন্ট নিয়ে মনে মনে খুব দ্বিধাদ্বন্দে ছিলাম। তা হলো--চিত্তবিনোদনের অভাব! জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে চিত্তবিনোদনের অভাবের রসায়ন সেই কিশোর বয়সে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। এমনকি বিস্তারিত পড়েও বুঝিনি।
বিস্তারিত আলোচনা ছিলো অনেকটা এরকম--
(১৮) চিত্তবিনোদনের অভাবঃ এদেশের গরীব জনসাধারনের চিত্তবিনোদনের কোন সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এর ফলে তারা বিবাহিত জীবনকেই চিত্তবিনোদনের একমাত্র ব্যবস্থা হিসেবে মনে করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এটিও একটি অন্যতম কারন।
বই এর লেখকের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারছিলাম না। কিন্তু এটাও বুঝতে পারছিলাম, লেখক তো কখনও ভুল করতে পারেন না।
আজ এতদিন পর নিশ্চিত হলাম, আমার ধারণা সঠিকই ছিলো, সেদিনের সেই লেখক আসলেই ভুল করেন নি। তিনি ঠিকই বলেছিলেন--এ দেশে চিত্তবিনোদনের বড়ই অভাব।
নইলে দিন-রাত এভাবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মানুষ রাস্তা খনন দেখবে কেন?
তার পরও মেট্রোরেলের কাছে আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা; মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে চিত্তবিনোদন খুঁজে না পেলে এই দর্শকেরাই হয়তো ঘরে ফিরে গিয়ে আরও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতেন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






