somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি প্রজাপতি

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রজাপতির জাতের নাম কমন মরমন । এই প্রজাপতি বাঙলাদেশ সহ দক্ষিণ ও দক্ষিন-পূর্ব এশয়িার দেশগুলোতে পাওয়া যায় । প্রজাপতির আকার মাঝারি ।বর্ষার শুরুতে ও শেষে সাধারণত এই প্রজাপতির দেখা মেলে । এর শুয়োপোকা লেবু গাছে সাধারণত হয় । তবে কামিনী ফুলের গাছ,বেল গাছ,জামবুড়া গাছেও এর শুয়োপোকা হয় । প্রজাপতি সাধারণত রঙ্গন,নয়নতারা ফুলরে রস খায় ।
একদিন টিফিন সময়ে স্কুলের ঐ লেবু গাছের কাছে গেলাম পোকা খুঁজতে । দেখলাম একটি কমন মরমন প্রজাপতি সেই গাছের কচি পাতায় ডিম পারছে । বিরক্ত না করে বা প্রজাপতিটি ধরতে না গিয়ে গাছের আড়াল থেকে দেখলাম কেমন করে ডিম পারছে । তারপর ডিম পাড়া শেষ হলে আমি দেখলাম একটি কচি ডালে মা প্রজাপতিটি চারটি পাতায় চারটি ডিম পেরেছে । ডালটি অাসতে করে ভেঙ্গে ক্লাসে নিয়ে আসলাম । বোতলের পানিতে ডালের গোড়া রাখলাম যেন ডালটি শুকিয়ে না যায় । একদিন পর দেখলাম ডিম থেকে চারটিই শুয়োপোকা হয়েছে । কোন ডিম নষ্ট হয়নি । শুয়োপোকা গুলো ২ মিলিমিটারের বেশী হবে না । মাইক্রোস্কপ ছাড়া দেখা অস্ভব । পরেরদিন দেখলাম এই পোকা সাইজে দ্বীগুণ হয়েছে এবং খোলস বদলিয়েছে । চারটি শুয়োপোকা প্রায় কচি ডালটি এর পাতা শেষই করে ফেলেছে । সেদিন স্কুল থেকে আরেকটি কচি ডাল এনে বোতলের পানিতে ডালের গোড়া চুবিয়ে রাখরাম এবং পোকাগুলোকে সে ডালে দিয়ে দিলাম । ভয়ংকর ব্যাপার হলো যে এই শুয়োপোকা যে গাছরে সে জাতের গাছের পাতাই তিনি একমাত্র খাবেন ! যেমন লেবু গাছের কমন মরমন এর শুযোপোকা শুধু লেবু গাছেরই পাতা খাবেন । না খেয়ে মারা যায় তাও তিনি অন্য গাছের পাতা খাবেন না ! দু' দিন পর শুয়োপোকা চামড়া বদলিয়ে আরও বড় হলো । পজাপতি বা কীটপতঙ্গ অমেরুদণ্ডী প্রাণী । পোকামাকড়ের হাড় হলো বাইরের চামড়া । বাইরের চামড়া এদের দেহের আকৃতি ঠিক রাখা ও আর বিপদ থকেে রক্ষা করে । তাই বড় হতে হলে এদের চামড়া বদলাতে হয় । এ সময়ের শুয়োপোকা আনেকটা পাখি এর পায়খানার মতো । পাখি তো নিজের পায়খানা খায় না, তাই পাখি এদের নিজের দেহবর্জ্য মনে করে এড়িয়ে চলে । দু 'দিন পর দেখলাম এ শুয়োপোকা অাবার খোলস বদলিয়ে সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে । যখন আমি একে ধরলাম তখন ধরা মাত্রই এটি মাথার পেছনে থেকে সাপের জিহ্বার মতো লাল জিনিস বের করলো এবং এখান থেকে বাজে গণ্ধ আসতে থাকলো । এটা হলো আসমেটেরিয়াম । এ জিনিস দ্বারা এই শুয়োপোকা এর শত্রুকে তাড়ায় । আর চদ্মবেশী পাখির পায়খানার বর্ণ না থাকায় এই পোকা সাধারণত পাতার নিচে থাকে । এ সময় এ পোকা একদিনে প্রায় নিজের সাইজের দ্বীগুণ সাইজের পাতা খায় । এ সময় এরা প্রচুর বর্জ্য্ও উ ৎপণ্ন্ও করে। পাঁচ দিন পরে দেখলাম শুয়োপোকাটি গুটিপোকায় রুপান্তরিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থাৎ ঝুলে আছে সিল্কের নিজস্ব তৈরী প্যাডের সাথে ।
১২ ঘন্টা পরে দেখলাম শুয়োপোকাটি খোলস বদলাচ্ছে । ৫ মিনিট লাগলো বদলাতে । একটু আগেই কেমন ছিল আর এখন কেমন ।অবশেষে একটি বাদামি বর্ণের গুটিপোকা হলো । সাধারণত এই প্রজাপতির গুটিপোকা সবুজ হয় । বাদামি হওয়াতে আমি মনে করআম এই গুটিপোকা চারটি কী অসুস্থই নাকি । নয় দিন পরে দেখলাম গুটিপোকার স্বচ্ছ চামড়া হয়ে গেছে এবং ভীতরে প্রজাপতি রয়েছে । কিছুক্ষণের মধ্যে দেখলাম একটি রঙিন প্রজাপতি হয়েছে । আবশেষে চারটি প্রজাপতি হলো । একটি পুরুষ ও ৩টি স্ত্রী প্রজাপতি হয়েছে । শুরুতেই প্রজাপতির পাখা সম্পূর্ণ বড় থাকে না । এক প্রকার তরল পদার্থ পাখায় সঞ্চারিত করে পাখা বড় করে সেই তরল পদার্থ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয় । যখন প্রজাপতি চারটির পাখা শক্ত হলো ও ওড়ার চেষ্টা করলো তখন সে প্রজাপতিকে আমি ছেড়ে দিলাম । প্রজপতিগুলো নিকটতম নার্সারী যেদিকে সেদিকে উড়ে গেল । হয়ত বা সেখানে গিয়ে ফুলের রস কিংবা সেখাানকার লেবু গাছে ডিম পারবে ।
কমন মরমন সম্পর্কে বিস্তারিত

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×