somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি জামদানী কিনুন :) :)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমি আপনাকে একটা জামদানী শাড়ি কেনার জন্য অনুরোধ করছি - আপনার মা, মেয়ে কিংবা প্রিয়তমার জন্য। এটা মৃত্যু পথযাত্রী এক শিল্প। এভাবে চলতে থাকলে জামদানী শাড়ি নাও থাকতে পারে বিশ বছর পর।

আমাদের বাঙালির তৈরী কয়েকটা মাত্র মাস প্রোডিউসড জিনিস আমাকে বিস্মিত করে। জামদানি আমাকে বিস্মিত করে এর ভার্সেটায়েলিটি, সফিসটিকেশান আর সাবলাইম বিউটির জন্য। একটা সুন্দর জামদানী শাড়ি একটা পিস অফ আর্ট। আমার আশংকা এই বিশেষ ধরনের শাড়িটি খুব বেশীদিন টিকবে না।

কেন?

যেকোনো তাঁতীকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন তারা এই একই আশংকার কথা বলছে কি না? প্রথমেই বলে নি যে জামদানির উইভিং বা বুনট মেশিনে করা সম্ভব না। ভারতে করাও হয় মেশিনে। একটা ভয়াবহ কুৎসিত জিনিস তৈরী হয়। কিছু কিছু জিনিস হাতের ছোয়া ছাড়া তৈরী করা সম্ভব না। ইন ফ্যাক্ট অল দ্যা বেস্ট থিংস আর মেড বাই হ্যান্ড। জামদানীর মতো অনবদ্য শিল্প তাঁতীর হাত দিয়েই শুধু বের হওয়া সম্ভব, আর কোনো ভাবেই নয়।

কী রকম খরচ হয় একটা জামদানীর জন্য। কাঁচামাল কটন সুতা এমন কোনো দামী জিনিস না। সেটার কথা আপাতত বাদ দিই। আমি একদম ক্রেম ডে লা ক্রেম - মানে ধরা যাক প্রধানমন্ত্রী নিশা দেশাইকে যে জামদানীটি উপহার দেবেন সেই শাড়িটার কথা বলছি। দু'জন তাঁতী দিনে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা খাটবে - এর মধ্যে একজন হয়তো এপ্রেন্টিস আরেকজন এক্সপার্ট তাঁতী থাকবে। কতোদিন লাগবে ধারণা আছে আপনার? ৬ থেকে ৮ মাস। জ্বী ঠিক শুনছেন ৬ থেকে ৮ মাস দুজন আর্টিস্টের ফুল টাইম (আসলে তিনজনের - ওয়েস্টের ফুল টাইম ধরে বিচার করলে) শ্রমের শাড়িটার জন্য তাঁতী পাবে দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি। যে শাড়ির জন্য তাঁতী পায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার তার জন্য দু জনের সময় লাগে মোটামুটি তিন মাস (শাড়ির দাম বাড়ে উইভিংএর ডেনসিটি এবং ডিজাইনের জটিলতার জন্য। আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে না - ৫টা জামদানী হাতে ধরে ফিল করলেই বুঝবেন আমি কী বলছি)।

এইরকম শোষণ পৃথিবীতে কমই আছে। কেন বলি।

পানামা হ্যাটের কথা অনেকেই শুনেছেন নিশ্চই। মোটামুটি ভালো একটা হ্যাট আপনি দুশ থেকে পাঁচ শ ডলারের মধ্যে কিনতে পারবেন। বানানো হয় মূলত একোয়েডোরে। কাঁচামাল এক ধরনের গাছের বাকল থেকে তৈরী স্ট্র যা খুব একটা দামী না। জামদানীর মতোই এর দাম নির্ধারণ হয় তাঁতীর সময়ের জন্য।

একদম বেস্ট কোয়ালিটির পানামা হ্যাটের কথা বলি। এই হ্যাটকে বলে সুপারফিনো মনটিক্রিস্টো। সুপারফিনো কারণ এর একটা নির্দিষ্ট গ্রেডেশান আছে যেটা আমাদের জামদানীর নেই (কিন্তু অনায়াসেই করা যায়)। তা সুপারফিনোর গ্রেডেশান হয় কীভাবে? আপনি যখন উইভ করবেন তখন এক ইঞ্চের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ এমন কি ৬০ টি পর্যন্ত বুনট থাকবে। তার মানে এক বর্গ ইঞ্চে সর্বমোট ১৬০০ থেকে ২৫০০ বুনট থাকবে। এলাহী কারবার - বুঝতেই পারছেন - সুপারফিনোর বুনট এতোই সূক্ষ ও জমাট যে দেখলে মনে হবে এটা কাপড়, স্ট্র এর তৈরী না । এই উইভিংপুরোটাই হাতে করতে হয়। কাজটা করতে এতোই উচু পর্যায়ের স্কিল দরকার যে পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকজন উইভারই শুধু সুপারফিনো মনটিক্রিস্টো তৈরী করতে পারে। সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ মাস। বোঝাই যাচ্ছে এই হ্যাটটা দামী। কতো দাম হতে পারে কল্পনা করুন তো?

২৫ হাজার ডলার।

হ্যা ঠিকই শুনেছেন। একজন উইভারের ৪ মাসের কাজের ফলাফল সুপারফিনো মনটিক্রিস্টোর দাম ২৫ হাজার ডলার (উইভার পায় ৬ থেকে ১০ হাজার ডলার) আর দুইজন উইভারের ৮ মাসের কাজের ফলাফল আলা জামদানীর দাম ২ থেকে ৩ হাজার ডলার।

বলাই বাহুল্য তাঁতীরা সংখ্যায় লোপ পাচ্ছেন, খুব দ্রুত লোপ পাচ্ছেন। কারণ একটা ডিসেন্ট জামদানীর দাম হওয়া উচিত এক লাখ টাকা কিন্তু আপনি কিনছেন তিরিশ হাজার টাকায়। স্বভাবতই তাঁতীরা তাদের ছেলেদের এই পেশায় আনছেন না। পাগলে না কামড়ালে আনার কথাও না। একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন তো জামদানী যদি বাংলাদেশে তৈরী না হয়ে ইন্ডিয়ায় তৈরী হতো শুধু আপনি কি এই মানের শাড়ি এক লাখ টাকায় কিনে বলতেন না যে দাও মারলাম ভাই দারুণ একটা।

হ্যা ঠিকই বলছি আমি। জামদানীর সবচেয়ে বড় সমস্যা - এটা বাংলাদেশে তৈরী। এরকম আর্ট ইন্ডিয়ায় তৈরী হলেই কেবল আপনি এর মর্ম বুঝতেন। আপনি যদি চান যে আপনার মেয়েটিও বড় হয়ে জামদানীর সৌন্দর্যের তরফদার হবে তাহলে আজকেই একটা জামদানী কিনুন, সম্ভব হলে কোনো একজন উইভার থেকে। সে যে দামটি চায় সে দামেই কিনুন। বিশ্বাস করুন আপনি ঠকবেন না।

জামদানী কিনে কেউ কোনোদিন ঠকে না।

----


লেখাটা ফেসবুকে ফাহাম আবদুস সালাম ভাইয়ের ওয়াল থেকে কপিপেষ্ট করা। আকর্ষনীয় ডিজাইনের জামদানী পাওয়া যাবে এমন কয়েকটা স্টোর এর মধ্যে রুপকথা জামদানী অন্যতম যার উদ্যোক্তা ব্লগার শারমিন । জামদানী কিনে তাতীদের বাঁচান। :):)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩১
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নূর হোসেন বা ডা. মিলনের যে দেশপ্রেম ও কৃতিত্ব, তার শতভাগের এক ভাগও কি হাদীর আছে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

নূর হোসেন বা ডা. মিলনের যে দেশপ্রেম ও কৃতিত্ব, তার শতভাগের এক ভাগও কি হাদীর আছে?
নূর হোসেন ও ডা. মিলনের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁদের অবদান ইতিহাসে অমলিন হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বনাম জনগণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

১.
বাংলা সিনেমা দিয়েই শুরু করি, নিরপরাধ ধরা প্রসঙ্গে সিনেমাতেই প্রথম অজুহাত হিসেবে বলা হয়, আগাছা নিরানোর সময় দুয়েকটা ভালো চারা তো কাটা পড়বেই! এই যে তার নমুনা! দশজন পতিতার সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কমলাপুর টু নারায়ণগঞ্জ - ৩ : (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭




সময়টা ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ।
উত্তর বাড্ডা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১১টার দিকে পৌছাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। উদ্দেশ্য রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাবো

হাঁটা শুরু হবে কমলাপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং মোরাল পুলিশিং বন্ধ করতে হবে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



১.
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ছেলে পুলিশের সাথে তর্কের জেরে পুলিশ তাকে পিটাইছে দেখলাম।

ছেলেটা যে আর্গুমেন্ট পুলিশের সাথে করছিলো তা খুবই ভ্যালিড। পুলিশই অন্যায়ভাবে তাকে নৈতিকতা শেখাইতে চাচ্ছিলো। অথচ পুলিশের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমপি সাহেবের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১


অনেক দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটক দেখেছিলাম। সেখানে কোন এক গ্রামে একজন এমপি সাহেব যাবেন। এই জন্য সেখানে হুলস্থুল কান্ডকারখানা শুরু হয়ে যায়। নাটকে কতকিছুই না ঘটে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×