আজ অনেক দিন পর লিখতে বসলাম। লেখালেখির অভ্যাসটা যেন নাটাই ছেড়া ঘুড়ির মত পশ্চিম আকাশের দিকে ঢলে পরেছিল। যেন যেকোন সময় হারিয়ে যাবে। শেষ বিকেলের লাল সূর্যের আলো যেমন মলিন হয়ে যায়, সে রকম একটা মলিন অভ্যাস নিয়ে আজ আবার লিখতে বসেছি। যার জন্য আজ লিখতে বসেছি তার স্বপ্নের হলুদ পাখি গুলো এখন আর এই শহরে আসে না, তারা অনেক দূরে চলে গেছে। তার জানালার রেলিং এ বসে থাকে এক`শ একটা কালো রং এর কাক, যারা দিন রাত র্ককশ শব্দে চিৎকার করে। যার নাকে মুখে ঝাপটা দিয়ে ধরে ডেটল কিংবা ফিনাইল এর গন্ধ। যার চোখে মুখে থাকে একটা প্রাণ চণ্চল সকাল এর স্বপ্ন, যে সকালে খুব সহজেই গেয়ে ফেলা যায় পছন্দের কোন গান,শহরের যানজটে বসে দেখা যায় রাস্তার মানুষের বেচে থাকার চেষ্টা গুলোকে, যে সকালে পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই দেখা করে ফেলা যায় পছন্দের কোন মানুষের সাথে। আমি এমন একজনের কথা বলছি যার বেচে থাকার ইচ্ছে গুলো শহরের আকাশ ছোয়া দালান গুলোর উপরে উঠে বসে আছে। হাত বাড়ালেই তাদের ধরে এনে বেচে থাকা যায় না।
মোঃ ফয়সাল ইসলাম, সরকারি তিতুমীর কলেজ এর ব্যাবস্থাপনা বিভাগ এর তৃতীয় বর্ষের ছাএ। আমি জানি না ঈশ্বর এর দৃষ্টি ফেলার ব্যপারটা সত্য কিনা। ঈশ্বর এর শুভ দৃষ্টি আমরা সবাই কামনা করি, কিন্তু সবার প্রতি হয়তো তিনি সেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন না । তাই হয়তো বেচে থাকার ইচ্ছে গুলো যখন একটু একটু করে বুকের ভেতর জমে লাগাম ছাড়া হওয়ার কথা তখনই তার বেচে থাকাটা কষ্টের হয়ে পড়েছে, দুটি কিডনীই অকেজো হয়ে পড়েছে তার। র্বতমানে তিনি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ডাঃ সারোয়ার এর অধীন এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। সাপ্তাহে তিনবার তাকে ডায়ালাইসিস এর মত জটিল ও কষ্টকর প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন প্রতিস্তাপন করতে হবে দুটি কিডনীই। আমরা শুরু করে দিলাম অর্থের দন্ডে জীবনকে মাপার কাজ। তাকে নিয়ে যেতে হবে ইন্ডিয়া, সেখানে করতে হবে তার কিডনী প্রতিস্থাপনের কাজটি। তবেই হয়তো আবার তার স্বপ্নের হলুদ পাখি গুলো এই শহরে ফিরে আসবে। বেচে থাকার ইচ্ছেগুলো হয়তো আকাশ সমান উচু থেকে সরাসরি ঢুকে যাবে তার বুকের ভেতর। বৃষ্টির রাস্তায় পা ডুবিয়ে হেটে হেটে চলে যেতে পারবে অনেক দূর,যেখানে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কেউ। কিন্তু সব কিছুর মাঝখানে দাড়িয়ে ভেংচি কাটছে চল্লিশ লক্ষ টাকা! জীবন এখন চাপা পড়ে গেছে এক গাদা অর্থের নিচে। অর্থটাকে যখন মানবতা আর মনুষত্যের চেয়ে বড় করে দেখা হয় তখন হয়তো ব্যাপারটা এমনই হয়।
যে দেশে বিমান বন্দর এর নাম পরিবর্তন এর জন্য খরচ করা হয় বার‘শ কোটি টাকা, যে দেশে নিমিশে কোটি কোটি টাকা উধাও হয়ে যায় শেয়ার বাজার থেকে, আমি জানি না সে দেশের মানুষের কাছে চল্লিশ লাখ টাকা কম না বেশি? আমি জানি না, আমরা জানি কিনা এই টাকাগুলো আমাদের ই পকেট এর টাকা। আমি জানি না টাকার দন্ড দিয়ে মানুষের বেচে থাকা হিসাব করা টিক কি না। আমি শুধু জানি আমরা যারা নিজেদেরকে মানুষ বলে দাবি করি তারা এই অর্থ ও মানবতার যুদ্ধে হেরে যেতে পারি না। মানুষ হয়ে আমরা মানবতাকে অর্থের কাছে সর্মপণ করতে পারি না। অর্থের জালে আটকে পড়া একটি মানব জীবন কে মুক্ত করার মত মানবতার শক্তি যদি আমাদের মাঝে না থাকে তবে বেলা শেষে নিজেদের মানুষ বলতে কি আমাদের লজ্জা করবে না?
স্বাধ এবং সাধ্য কখনোই হয়তো মানুষের পরির্পূণ হয় না। ফয়সাল ভাই এর পরিবার বহন করতে পারবে প্রায় বিশ লক্ষ টাকার মত। বাকি যে অর্থগুলো দরকার তার ব্যাবস্থ্ করা কি আমাদের দায়িত্ব নয়? আমরা আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে কি এটা সম্ভব নয়? এক জীবনে মানুষ মহৎ কাজ করার সুযোগ খুব বেশি পায় বলে মনে হয় না, আর মানুষের জীবন রক্ষার চেয়ে বড় মহৎ কোন কাজ আছে কিনা আমার জানা নেই। আমাদের ছোট ছোট অবদান হয়তো মুছে দিতে পারে একজন মায়ের নোনা জলে ভেজা চোখ, ভুলিয়ে দিতে পারে একজন বাবার প্রত্যেক দিনের না পারার লজ্জা, থামিয়ে দিতে পারে একজন ভাই এর বিভ্রান্তের মত রাস্থায় হাটা, দূর করে দিতে পারে একজন বোনের সব ফেলে অজানায় হারিয়ে যেতে চাওয়ার অভিমান।
যদি শহরের সোডিয়াম আলো গুলোর মত রাতের শহরে জীবনী শক্তি থাকতো, তবে আমরা সারা রাত সেই জীবনী শক্তি কুড়িয়ে বুক পকেটে রাখতাম। যদি আকাশ থেকে বৃষ্টির বদলে টাকা পয়সা জড়ে পরত তবে তার ছোট ভাইটি হয়তো সারারাত ছাদে বসে থাকত বৃষ্টির অপেক্ষায়। যদি জীবনের বদলে জীবনের প্রথা থাকতো তবে হয়তো তার মা ঈশ্বরের কাছে তাই পার্থনা করতেন। যদি এমন কেউ থাকতো যার স্পর্শে সব ঠিক হয়ে যায় তবে তার বাবা হয়তো তাকেই খুজতে বের হয়ে পরতেন। আমি জানি বাস্তবে এর কিছুই হবে না। আমাদের মধ্যবিত্ত জীবন যে মিরাকল এর জীবন নয় সেটা আমরা ছেলেবেলা থেকেই বুঝে ফেলি।
তবু আমি বিশ্বাস করি ফয়সাল ভাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। কোন একদিন বৃষ্টিতে তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছাদে ছড়ে বসবেন। আকাশের দিকে দুহাত বাড়িয়ে বৃষ্টির গান গাইবেন। সবার চোখে থাকবে আনন্দের নোনা জল কিন্তু বৃষ্টির জন্য কেউ বুঝতেই পারবে না যে সবাই আনন্দে কাদছে। সেদিন আমরা ও থাকব সেখানে, আমরা সবাই সেখানে মানবতার সাক্ষী হয়ে থাকব।
পেইজটি লাইক ও শেয়ার করুন.............
View this link
আপনার সাহায্য পাঠান.........
MD.Saiful Islam
A/C No: 119.101.351461
Dutch Bangla Bank Ltd.
Dania Branch,Dhaka.
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





