somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টালা ট্যাঙ্ক : বিশ্বের বৃহত্তম ওভারহেড রিজর্ভর

১৪ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ধীরে ধীরে কলকাতা যখন শহর হয়, তখন নাগরিক পরিষেবা বাড়ানো লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের । নাগরিক পরিষেবার মধ্যে অন্যতম ছিল পানীয় জল । এর জন্য কয়েকটি পুকুর কাটা হয়। হেঁদুয়া, ওয়েলিংটন স্কোয়ার, ভবানীপুরের পুকুর থেকে সে সময় জল সরবরাহ করা হতো । কিন্তু শহর যখন ক্রমশ বাড়তে শুরু করল, তখন জলের প্রয়োজনটাও বাড়ল ।
তৎকালীন পুর ইঞ্জিনিয়র মিস্টার ডেভেরাল একটি ট্যাঙ্ক (পড়ুন রিজর্ভর) তৈরির প্রস্তাব দেন । প্রস্তাবটি তৈরি করেছিলেন তাঁর সহকারি মিস্টার পিয়ার্স । প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত হয় বেঙ্গল গভর্নমেন্টও । ১৯০১ সালের প্রস্তাব কর্পোরেশন গ্রহণ করে ১৯০২ সালে । এর ঠিক এক বছর পর এই প্রস্তাবে সামান্য অদলবদল আনেন পুরসভার নয়া নিযুক্ত ইঞ্জিনিয়র ডব্লু বি ম্যাকক্যাবে । তাতে প্রস্তাবিত অঙ্কের পরিমাণ বেড়ে হয় ৬৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৭৪ টাকা । তবে আরও উন্নত জল পরিষেবা সম্ভব বলে তাতে সম্মত হয় পুরসভা ।

কিন্তু কোথায় হবে এই ওভারহেড ট্যাঙ্ক ? বেছে নেওয়া হয় টালাকেই । আজ টালা ট্যাঙ্ক যেখানে সেখানে তখন ছিল বেশ কয়েকটি পুকুর । ঠিক হয়, পুকুর বুজিয়ে গড়ে উঠবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ওভারহেড রিজর্ভর। ১১০ ফিট উঁচুতে । যেখান থেকে মাধ্যাকর্ষণের স্বাভাবিক নিয়মে জল পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে । অর্থাৎ বলা যেতেই পারে কলকাতাবাসীকে জল দিতে কয়েকটি পুকুরকে মাটি থেকে ১১০ ফুট উঁচুতে তুলে দিয়েছিল ব্রিটিশরা।

১৯০৯-এর ১৮ নভেম্বর টালা ট্যাঙ্ক নির্মাণের উদ্বোধন করেন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার এডওয়ার্ড বেকার । প্রথমেই শুরু হয় পুকুর বোজানো । পুকুরগুলিকে জলশূন্য করা হয়, চারদিকে শাল-বল্লার খুঁটি দিয়ে ২০-২৫ ফুট পাইল করে খোয়া দিয়ে ভর্তি করা হয় । ভারী স্টিম রোলার দিয়ে সমান করে তার ওপর খোয়া দিয়ে ৯ ইঞ্চি পুরু আরও একটি স্তর তৈরি করা হয় । এরপর আড়াই ফুট পুরু কংক্রিট সিমেন্টের ওপর ফ্ল্যাট স্টিল টাঁই-এর সঙ্গে বোল্ড স্টিল জয়েন্টের ওপর স্তম্ভগুলিকে দাঁড় করানো হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য টালা ট্যাঙ্কের ফাউন্ডেশনের কাজটি করে টি সি মুখার্জি অ্যান্ড কোম্পানি । কংক্রিট ফাউন্ডেশনের কাজটি করেন স্যার রাজেন্দ্রলাল মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি । বাকি কাজ করে লিডসের ক্লেটন কোম্পানি । ১৯১১-র ১২ জানুয়ারি কাজ শেষ হয় এবং সে বছরের ১৬ মে থেকে এটি চালু করা হয় । ট্যাঙ্কটি তৈরি করতে খরচ হয় ২২ লক্ষ ২৫ হাজার ৪১ টাকা ।

এবার আসা যাক কয়েকটি খুঁটি নাটি বিষয়ে। টালা ট্যাঙ্ক বিশ্বের বৃহত্তম ওভারহেড রিজর্ভর। মাটি থেকে ১১০ ফুট উঁচু । মানে প্রায় ১০ তলা বাড়ির সমান । আয়তন ১ লক্ষ বর্গফুট । একটি ফুটবল মাঠ অনায়াসে ঢুকে যাবে। গভীরতা ১৬ ফুট। একটি দোতলা বাড়ি যেখানে ঢুকে যাবে । জলধারণ ক্ষমতা ৯ লক্ষ গ্যালন। যে পরিমাণ জল ধরে তার ওজন ৪০ হাজার টন এবং লোহার খাঁচাটির ওজন ৮ হাজার ৫০০ টন, ট্যাঙ্কে যে পাইপ দিয়ে জল ঢোকে বেরোয় সেই পাইপ ধরেই ।
বলা বাহুল্য, ট্যাঙ্কটি চারটি কম্পার্টমেন্টে বিভক্ত যাতে জল সরবরাহ বন্ধ না রেথেই এক বা একাধিক কম্পার্টমেন্ট পরিষ্কার বা সারাই করা যেতে পারে। টালা ট্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে বিশেষ গ্রেডের ইস্পাত দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান টালা ট্যাঙ্কে বোমা ফেলে । জাপানি বোমায় টালা ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়নি । তাতে ৯টা মাত্র ফুটো হয় । ১৯৬২ ও ১৯৭১-এর যুদ্ধেও যথাক্রমে চিন ও পাকিস্তানের টার্গেট ছিল টালা ট্যাঙ্ক ।
এমনই শক্তিমান এই বিশাল জলাধার।

তথ্য সহায়তা : সৌমিত্র দাস; ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:০০
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×