somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০ ফেব্রুয়ারি: অমর একুশের পূর্ব প্রস্তুতি

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সন্ধায় কাঁচাবাজার করতে গিয়ে বরাবরের মতো বাসা থেকে হেঁটে গেলাম; বরাবরের মতো রিক্সায় ফিরবো বলে। কিন্তু রাস্তাঘাট গাড়িতে ঠেসে গেছে। পাশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভাষা দিবসের প্রস্তুতি চলছে। ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের আনাগোনায় ব্যস্ত হয়ে গেলো আবাসিক এলাকাটি। কিছুদিন হলো তারা একটি শহীদ মিনারও উত্তোলন করেছে। বেশ ভালো লাগলো। ছেলেমেয়েদের হুইহুল্লার মধ্যে অমর একুশের শিহরণ-জাগানো গানটি শোনা যাচ্ছে। শহীদ দিবসের আবহ পুরোমাত্রায় পরিবেশকে গম্ভীর করে তোলেছে। কিন্তু ব্যস্ত গাড়িগুলোর অন্তহীন হুইসেল বাজানো চলতেই আছে। সামনে একটি জ্যান্ত গাড়ি এবং যানজট দেখেও এরা সামনে যাবার জন্য হুইসেল দিচ্ছে আর পথচারিকে শব্দদূষণে আক্রান্ত করে যাচ্ছে। কাণ্ডজ্ঞান এদের কবেই বা ছিল! এদেশে কবে যে, শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর কিছু হবে!

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মমতা-জাগানো কবিতা আবৃত্তি ও বক্তৃতা তখনও কানে লেগেছে। কয়েক বছর আগে শুধুমাত্র মমতার বিরোধীতার কারণে যখন ‘তিস্তা চুক্তি’ ভেস্তে গেলো, তখন তার নাম হয়েছিল ‘মমতাহীন মমতা বন্দোপাধ্যায়’। বাংলাদেশীরা বিষয়টিতে খুবই হতাশ ও আহত হয়েছিল সেবার। এবার বাংলাদেশীদের একটিই দাবি, “কবিতা নয়, তিস্তার পানি চাই দিদি”। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটিই ভেসে ওঠছে নিউজফিডে। মমতা হয়তো এদেশের মানুষের মনের চাওয়াটুকু ভালোভাবেই আঁচ করতে পেরেছেন। ‘বৈঠকি বাংলা’ নামের সাংস্কৃতিক আলোচনা সভায়, তিনি বললেন, ‘তিস্তা নিয়ে আস্থা রাখতে’ তার ওপর। আর নাকি চিন্তা করতে হবে না! অবশ্য এযাবৎ আস্থার মতো কিছুই করেননি তিনি। তবু আশা রাখতেই হয়, কারণ এবার তিনি বাংলাদেশের মাটিতে এসে দেশের মানুষের সামনে বসে কথাগুলো বলে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের ভাষাদিবসের আয়োজনে অংশ নিয়ে মমতা আগামিকালই নিজদেশে ফিরে গিয়ে একটি ভাষাস্তম্ভ উদ্বোধন করবেন।

একুশ নিয়ে ছাত্রজীবনের স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। একবার ফুল যোগাড় না হওয়ায় (ফুল চুরি করতে না পারায়), সারারাত জেগে রঙিন কাগজের ফুল দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করলাম পুষ্পস্তবক! সারারাত নির্দয় মশাদের কামড় আর ঘুমহীন কান্তি দূর হয়ে হয়ে গেলো আকাশে সকালের আভা দেখা দিতেই। নিজের বানানো পুষ্পার্ঘ্য নিয়ে যোগ দিলাম একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে! কত আবেগ ও উত্তেজনায় টগবগ করতে করতে এগিয়ে যাই! বন্ধুরা এবং শিক্ষকদের প্রশংসায় নিজের শ্রমের কথা ভুলে যাই। আমার কাগজের ফুলকে কেউ এতটুকু গুরুত্বহীন মনে করে নি। সজীব ফুলের সাথেই অর্পন করেছিলাম আমার হাতে-বানানো কাগুজে ফুল। বারবার তাকিয়ে দেখছিলাম নিজের পরিশ্রমে তৈরি ফুলের তোড়াটি। নবম-দশম শ্রেণীর কথা। স্কুল জীবনে জাতীয় দিবস পালনের স্মৃতিগুলোই আমার স্বদেশ প্রেমের গাঁথুনি। আমার ধারণা অনেকের ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য হবে।



একুশের শোকাবহ উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিয়ে ফের ৭২ঘণ্টার ব্রেকিং নিউজ আসলো। মঙ্গলবার পর্যন্ত আবারও হরতাল! প্রায় দু’মাস হতে চললো হরতাল আর অবরোধের। প্রতিটি সপ্তাহান্তে ভাবি, এবার হয়তো হরতাল আর আসছে না। হয়তো তারা জনদুর্ভোগ না ঘটিয়ে অন্য কোন উপায় বের করে থাকবে। অথবা হয়তো সরকার থেকে কোন বিশেষ উদ্যোগের কারণে হরতালের নতুন ঘোষণা আর আসবে না। এবার ঘোষণা আসতে একটু দেরি হওয়ায়, আমার প্রত্যাশাটি আরও শক্ত হয়। কিন্তু আবার তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো।

অনেকে বলে রাত্রি যত অন্ধকার হয়, সকাল তত কাছে আসে। আর কত অন্ধকার হলে বলা যায়, রাতের শেষ?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৩৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীকে সম্মান জানানোর আদি পাঠ: কেন সনাতন ধর্ম কেবল বিশ্বাস নয়, একটি জীবন বিজ্ঞান? সবাইকে আগাম শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!

লিখেছেন অতনু কুমার সেন , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৩

সনাতন ধর্ম: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাস নয়, বরং জীবনের এক শাশ্বত পথ

আমরা যখন "মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম" পাঠ করি বা এর গভীর ভাবার্থ উপলব্ধি করি, তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়—একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতে চলতে পথে ৬

লিখেছেন কবিতা ক্থ্য, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৭

প্রকৃতির নিষর্গ:



ওবেরন যাওয়ার পথে জুলাই মাসে নিউ সাউথ ওয়েলসের (NSW) মেফিল্ড গার্ডেনে ধারণ করা এই ছবিটি একটি শান্ত পুকুরের বুকে প্রকৃতির প্রতিবিম্বি - প্রাণবন্ত ঋতুভিত্তিক রঙের মাধ্যমে শীতকালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×