
আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।
স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা যোগ করেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে সুনীল দা কিংবা অনিল কাপুরকে অনিল দা ডাকেন; এর কারণ কী?’
জবাবে কোলকাতার ভদ্রলোক বললেন— ‘দাদা মানে ভাই। দাদাকে ছোট করে দা বলি আমরা। তাতে কোনো সমস্যা আছে আপনার?’
বিরস বদনে নীরস কণ্ঠে মিনমিন করে জাপানি নাগরিক জবাব দিলেন— ‘না, তেমন কোনো সমস্যা না। আমার নাম বোকাচো আর আমার বাবার নাম আচো। এই আর কী।’
আরেকবার, স্বল্প-বাংলা-জানা এক পাকিস্তানি ছাত্র মগবাজারে জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেল বেড়াতে। গিয়ে জামায়াতের এক নেতাকে জিজ্ঞেস করল— ‘আচ্ছা, ইদানীং ঢাকায় এলেই যে আপনাদের মুখে রঠা-রঠা শুনি, এই রঠা জিনিশটা কী?’
জবাবে জামায়াতনেতা বললেন— ‘বাংলা অভিধানে বিভিন্ন শব্দের অর্থ পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের জনপ্রিয় উক্তি ব্যবহার করা হয়, উক্তির শেষে সংক্ষেপে লেখকের নামও উল্লেখ করা হয়; যেমন— ব চ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়), মা ম দ (মাইকেল মধুসূদন দত্ত), ঈ বি (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর), কা ন ই (কাজী নজরুল ইসলাম), র ঠা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। আমরা রবীন্দ্রবিদ্বেষী তো। রবীন্দ্রনাথের নাম শুনলেই আমাদের জ্বর আসে। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা রঠা বলি। বলে এক ধরনের আনন্দ পাই। ভালো লাগে। কেন? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রঠা বললে তোমার কোনো সমস্যা আছে?’
উত্তরে সেই পাকিস্তানি ছাত্র বলল— ‘না, তেমন কোনো সমস্যা না। কিন্তু আমার প্রিয় নেতা তো আবার গোলাম আজম।’
ব্লগে অনেকেই আছে, যাদের পোস্ট বা মন্তব্য পড়ে বোঝা যায় তারা কারা এবং কী তাদের পরিচয়। যারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সমর্থন করে, তারা পরিচয় গোপন করে না। আরেকটা দল আছে যারা পরিচয় গোপনের কারণে গুপ্ত হিসেবে স্বীকৃত। এই শ্রেণিটা রবীন্দ্রনাথকে রঠা বলে, কিন্তু গোলাম আজমকে গোআ বলতে দিতে চায় না। এরা নিজেরা সারাদিন জিন্নাহর গুণকীর্তন করলেও সমস্যা নেই, কিন্তু কেউ যদি রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা করে, ওদের পশ্চাৎদেশে আগুন ধরে যায়। যারা রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা করে তারা সাহিত্যবোধ থেকেই করে, রবীন্দ্রনাথকে পীর মানে না। কিন্তু যারা জিন্নাহ বা গোআর প্রশংসা করে তারা তাদের বাপ মানে।
১৯৪৭ বা ১৯৭১ কোনোটাই ওদের পছন্দের দল চায়নি, অথচ ওরা বলে রবীন্দ্রনাথ নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায়নি। কানায় আরেকজনকে কানা বলে। রবীন্দ্রনাথ ঢাবি বিরোধিতা করলেন আর ঢাবি তাকে দুইবার সংবর্ধনা দিলো আবার আজীবন সদস্য করলো?
নজরুল, মুজতবা আলী, জসীম উদদীন এমনকি ওই গুপ্তদের প্রিয় কবি আল মাহমুদও কিন্তু রবীন্দ্রপ্রেমী ছিলেন। অথচ কোথাকার কোন সলিমুদ্দির ছেলে বলে কলিমুদ্দি বলে রবীন্দ্রনাথ নাকি মুসলিমবিরোধীও ছিলেন! মূর্খরা জানে না নজরুল, মুজতবা আলী, জসীম উদদীনরা রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য ছিলেন। নজরুল, মুজতবা আলীরা রবীন্দ্রনাথকে পীর মানতেন বলা যায়।
ব্লগের কয়েকজন রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধীর নাম লিখছি। তাদের সম্পর্কে ব্লগারদের মতামত চাই। আমাকে বলুন কারা কেমন লেখে? কী লেখে? সোনা না বিষ্টা?
রবীন্দ্রপ্রেমী
শায়মা
শ্রাবণধারা
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ
নতুন
কলাবাগান১
ওমর খাইয়াম
স্বপ্নের শঙ্খচিল
সৈয়দ কুতুব
কিরকুট
মহাজাগতিক চিন্তা
রাজীব নুর
রবীন্দ্রবিরোধী
সৈয়দ মশিউর রহমান
দেশ প্রেমিক বাঙালী
তানভির জুমার
অনন্য দায়িত্বশীল আমি
অপলক
সামছুল আলম কচি
সুলাইমান হোসেন
পুরানমানব
আলামিন১০৪
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

