ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মি. মিল্টন সম্প্রতি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মিরপুরের বিভিন্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী হকারদের উচ্ছেদ করে এলাকা দখলমুক্ত করেছেন। এই অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁকে চরম বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। হকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে, সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। কিন্তু মিল্টন সাহেব কোনো রক্তচক্ষু বা বাধার পরোয়া না করে সাহসের সাথে এগিয়ে গেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জনকল্যাণকর কাজের জন্য প্রশংসা তো দূরের কথা, উল্টো জামায়াতের স্থানীয় এমপিরা এবং দায়িত্বশীল নেতারা মি. মিল্টনের তীব্র সমালোচনা করছেন, তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এমনকি জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, তাঁদের এলাকায় অভিযান চালাতে হলে আগে পারমিশন নিতে হবে! সরকারি ও প্রশাসনিক কাজের জন্য পারমিশন নিতে হবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে? বিষয়টাই কি অদ্ভুত আর নজিরবিহীন নয়?
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরপরই হঠাৎ করে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা স্ট্রাইক ডেকে বসলো, যার প্রভাবে সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেল। তাঁদের মূল দাবি—সব প্রধান রাস্তায় অটোরিকশা অবাধে চালাতে দিতে হবে। কিন্তু এই হঠাৎ স্ট্রাইকের পেছনে আসল ফ্যাক্টর কী? সম্প্রতি একটি খবরে প্রকাশ পায়, জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের একারই মালিকানায় নাকি প্রায় ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে! যদি কেবল একজন নেতারই এত বিপুলসংখ্যক রিকশা থাকে, তবে পুরো দল বা তাদের সহযোগী নেতাদের অধীনে ঢাকার রাস্তায় কত হাজার অটোরিকশা চলে—তা সত্যিই এক বড় চিন্তার বিষয়।
এখন প্রশ্ন ওঠে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের পেছনের মূল রাজনীতিটা কী?
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৫ আসন (যেখানে বর্তমানে জামায়াত আমির সংসদ সদস্য), সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ ভোটার স্থানান্তর করে এনে বসানো হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের ভোটব্যাংক ভারী করা। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই মিরপুর ও তার আশপাশের এলাকায় বসবাস করে। এদের একটা অংশ রাস্তা দখল করে হকারি করে, আর অন্য অংশটি জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন এসব অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
মূলত এই বিশাল ভাসমান জনগোষ্ঠীকে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রয়োজনমতো এদেরকে মাঠে নামিয়ে দ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, হুট করে মব (Mob) তৈরি করা এবং রাজপথে সহিংসতা ছড়ানো তাদের মূল কৌশল। আবার কোনো কারণে পরিস্থিতি খারাপ হলে এদেরকে অনায়াসে কোরবানিও করে দেওয়া যায়—যাতে মূল দল বা তাদের ছাত্র সংগঠনের গায়ে কোনো বদনাম না আসে।
তাই মি. মিল্টন যখন হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাত মুক্ত করছেন বা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন, তখন মূলত আঘাত লাগছে জামায়াতের সেই সুসংগঠিত ক্যাডার নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক উৎসের ওপর। ফুটপাত দখল ও অবৈধ রিকশা বাণিজ্যের এই বিশাল চাঁদাবাজি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রক্সি-বাহিনীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই আজ এত হুলস্থুল ও ধর্মঘটের নাটক সাজানো হচ্ছে!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



