অফিসের সময় খেলা দেখা যায় না, শুধুই স্ট্যাটাস দেখে হা-হুতাশ করা যায়। তারমধ্যে যদি নিজ দেশ ভালো খেলতে শুরু করে তবে তো অস্থিরতার অন্ত নেই। কিন্তু গতকালের খেলা ছিল উত্থান আর পতনের খেলা। অবশেষে বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত মূল্যবান বিজয়ের প্রেক্ষাপটে কিছু মজার ঘটনার মুখোমখি হয়েছি, গতকাল এবং আজ।
খেলা সম্পর্কে বাসা থেকে এসএমএস দিয়ে নিয়মিত আপডেট জানাচ্ছে আমার পরিবারের এক সদস্য। ইন্টারনেটে স্ট্যাটাস দেখে শান্তি নেই, ৫ মিনিট দেরিতে খবর আসে। খবর পেতে পেতে অনেক খবর আগেই হয়ে যায়। গতকালও তাই হয়েছে। ইংল্যান্ডের উইকেট পড়ছেই না। হঠাৎ দেখি ১৭৫ রানে ৬ উইকেট! বাসায় রাগ করে ফোন দিলাম, কেন খবর দিতে দেরি করলো! বাসা থেকে জানালো, বাংলাদেশের পরিস্থিতি খারাপ দেখে তারা কার্টুন দেখতে শুরু করেছিল। বুঝুন, কেমন দায়িত্বশীল দর্শক!
যা হোক, বিকাল ঠিক পাঁচটায় অফিস থেকে বের হলাম একটি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সভায় যোগ দিতে। গন্তব্য গুলশান থেকে কারওয়ান বাজার। গাড়ির রেডিওতে খেলার ধারাভাষ্য শোনার সুযোগ পেয়ে নিশ্চিন্তে হেলান দিয়ে বসলাম। ইংল্যান্ড ২১৫, উইকেট আর পড়ে নি। খেলা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হেফাজতে। কমপক্ষে দু'টি উইকেট এখনই না পড়লে বাংলাদেশের বিজয় অনিশ্চিত। ভাষ্যকারের কণ্ঠে হতাশা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ দু'টি উইকেট পেলেও পুরাতন জুটির একজন রয়েই গেছে। ফলে অনিশ্চয়তা কাটছে না ৭ উইকেট পাবার পরও। ইংল্যান্ড ২৩০ এর ওপরে। এদিকে 'হরতাল আর খেলার' কারণে রাস্তা প্রায় খালি। পৌঁছে গেলাম নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগে! পড়লাম বিপদে। গাড়ি থেকে নামলেই খেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। অতএব ড্রাইভারকে বললাম নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে, যেন গাড়ি থেকে না নামতে হয়। ভাষ্যকার জাফরুল্লাহ শারাফত, ওদিকে বোলার হলেন রুবেল। রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে শেষ দু'টি উইকেটের পতনে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হলো। গাড়ি থেকে বের হলাম। চারদিকে হইহই রব। ড্রাইভার, যাত্রী, ফেরিওয়ালা, দারোয়ান - সমস্বরে হর্ষধ্বনি। বিভিন্ন দিক থেকে ঢোল-ঢক্কি ও বিজয় মিছিলের শব্দ পাচ্ছি।
এর সাথে একটি মজার ঘটনা না বললেই নয়। সভাকক্ষে এসে দেখি ৮জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অনুপস্থিত। প্রায় ১৫মিনিট দেরিতে এসে তিনি জানালেন যে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভাবনীয় বিজয়ে খুশি হয়ে তার অফিসের সহকর্মীরা বায়ান্ন হাজার টাকা ওঠিয়েছে কেবল মিষ্টি খাওয়া বাবদ। 'যা কী খাবি কিনে খা' বলে সহকর্মীরা খুশি হয়ে যে টাকা ছুড়ে দেয়, তা হিসাব করলে মোট দাঁড়ায় বায়ান্ন হাজার টাকায়। এসব নিয়ে মজা করতে করতে তার দেরি হয়ে গেলো। এই সংবাদে সভা স্থগিত করে দিয়ে, সকলে আবারও বাংলাদেশের বিজয়ে নিজ নিজ অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ পায়।
ঘটনার পরের ঘটনা। বিজয় মিছিল করার জন্য আন্দোলনকারীরা ১২ঘণ্টার জন্য হরতাল প্রত্যাহার করেছে। আজ সকালে অফিসে এসে সহকর্মীদেরকে সেই বায়ান্ন হাজার টাকার খবর দিয়ে পড়লাম নতুন ফ্যাসাদে। তারা তৎক্ষণাৎ টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করলো। প্রায় সকলেই নিজ নিজ পকেট থেকে একশ' টাকা, দু'শ টাকা, পাঁচশ' টাকা বের করতে শুরু করেন। আনন্দ কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তা দেখে মজা পেলাম। জয় হোক বাঙালির, জয় হোক বাংলাদেশের।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




