somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পের পাত্র পাত্রী আন্ডার এইটিন হইলেও এই গল্পে কিঞ্চিত 18+ কথা বার্তা আসে।সবাই নিজ দায়িত্বে পরুন :P আর হ্যাঁ গল্প কিন্তু ১০০% সত্য

২২ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




২০১০ সাল মাত্র ক্লাস টেন এ পড়ি
বয়েজ স্কুলে পড়তাম বলে মেয়েদের সাথে অতটা সখ্যতা গড়ে উঠার সুযোগ হয় নাই।শুধুমাত্র কোচিং সেন্টার এ যেইটুকু দেখা সাক্ষাত হইত সেইটুকুই

এরই মধ্যে কোচিং এর একটা মেয়ে কে পছন্দ করে ফেলি
বলে রাখা ভালো তখন আমার বয়স কিন্তু মাত্র ষোল :P
মানে ইঁচড়ে পাকা আর কি

এরপর শুরু হল আমার মাথা নষ্ট অবস্থা।যেই আমি একদিন কোচিং গেলে বাকি ৫ দিন যাইতাম না , পড়াশুনা করতাম ঠিক পরীক্ষার আগের রাতে সেই আমি রেগুলার কোচিং ক্লাসে উপস্থিত

আর ওকে ইমপ্রেস করতে মানে স্পটলাইটে আসতে মারাত্মক রুপে পড়া শুরু করলাম :P



ক্লাসের সবাই যখন গলা ফাটায়ে ধুম মাচালে গান গাইত , মারামারি করত আর ধুমায়া প্রেম করত সেই সময় আমি চুপ করে বসে সায়েমা কে দেখতাম আর কবিতা লেখতাম


এইজন্য আমার নামের শেষে হাফ লেডিস খেতাব জুড়ে দিতে দেরি হয় নাই


হ্যাঁ ওর নাম ছিল সায়েমা পুরা নাম বলব না কারন তাহলে আমাকে যারা চিনে তারা তাকে চিনে ফেলবে

আর তখন সে স্যান্ডেল নিয়া দৌড়ানি দিলে আমার আর কিছু বলার থাকবে না :P


প্রতিদিন ওর গোল গাল মুখটা দেখতাম আর ভাবতাম হায়রে ক্লসের সবচেয়ে শান্ত ছেলে অয়ন, পাগলা ছেলে সামিউল এমনকি ফার্স্ট বয় শান্ত ও প্রেম করতিসে আর আমি কি বইসা বইসা মুড়ি খামু ??? X((



কিন্তু ক্যামনে কি শুরু করে কিসুই জানি না :P

বলে রাখা ভালো আমি কিন্তু প্রচণ্ড টাইপের হাবাগোবা ছিলাম :P
(এখনো আসি তবে সামান্য :P )




তারপর সাহস করে শরণাপন্ন হলাম অয়ন এর
ও বলে শুনো হলিউডের মুভির মত ডেট এ নিয়া যাও মিয়া
ASK HER OUT


আমি কই ক্যামনে?আমার তো অত সাহস নাই।তুমি বলে দিবা???

অয়ন খুব ভাব নিয়া বলল ঠিক আসে চিন্তা নিও না বাকিটুকু আমি দেখে নিচ্ছি



এরপর দুইদিন অয়নের আর কোন পাত্তা নাই
দুইদিন পর উনি খবর নিয়ে আসলেন যে ইতু বলসে , " ওই হাফ্ লেডিস এর সাহস তো কমা না । আমাকে ডেট এ নিয়া যাইতে চায় "


ধুর ডাক নাম টা বলেই দিলাম
আচ্ছা থাক্ বলেই যখন দিসি ইতু নামেই বকি গল্পটুকু কমপ্লিট করি



এই গল্প শুনে তো আমি থ

কস কি মমিন ইতুও আমারে হাফ লেডিস কয় :(


মনের দুঃখে বসে আসি বাসায়। এমন সময় বাসার ল্যান্ড ফোনে আমাদের বন্ধুমহলে মামু নামে পরিচিত রাজীব ফোন দিল



মামু বলে আরে ব্যাটা ইতু তো আমার কাজিন।তুই আমাকে আগে বলবি না ? কবে তোর লাইন করে দিতাম


সেই ইতুর সাথে লাইন করার আশায় কত যে খাওয়াইসি মামুরে আল্লাহই জানে


এরপর অয়ন খবর দিল মামুর কাজিন তো দুরের কথা ইতু কে মামু জিন্দেগিতে দেখেই নাই :P


আমি কই কস কি মমিন :O :O :O


কেউ আমারে মাইরালা



এরপর অয়ন কয়েকদিন ইস্পিসাল ট্রেনিং দিয়ে আমাকে নিয়ে গেল ইতুর সামনে
উদ্দেশ্য ইতুকে সরাসরি প্রেম নিবেদন

ব্যাক আপ হিসেবে একটা চাবির রিং ও নিয়ে গেসিলাম
রিং এর শেষ মাথায় আবার এক ছড়ি পকেট সাইজ প্লাস্টিকের কলা


তো গিয়ে দেখি ইতুর আরেক শুভাকাঙ্ক্ষী (মানে ওই ব্যাটাও ক্রাশ খাইসে :P ) জয় ইতুর সাথে দেওয়ালে হেলান দিয়ে গল্প করতিসে


তো সেই মুহূর্তে আমাকে দেখে ইতু একটু গম্ভীর ভাব নিয়ে হাসি ঢাকার চেষ্টা করে বলল , " আরে সাদনান নাকি???অনেক চেঞ্জ হয়ে গেস"


আমিঃহ্যা এইতো আরকি
ইতুঃহঠাৎ কি মনে করে আমার কাসে?কিছু বলবা??
আমিঃ না মানে ইয়ে আরকি
তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড হবা ???


ইতুঃকিন্তু আমাকে গিফট না দিলে তো আমি তোমাকে বয় ফ্রেন্ড বানাব না
আমার জন্য কি নিয়ে আসছ???


আমি তো এইটার জন্যই ওয়েট করতাসিলাম্
অয়ন আগেই কইসিল এই কথা ।তাই আমি খুব কনফিডেনটলি পকেটে রাখা সেই বিখ্যাত কলা চাবির রিং এ হাত দিয়ে বললাম


কলা দিব।নিবা???


আমি একটু নাটকীয়তা করতে গিয়েই এই কথা বলে চরম পার্ট নিয়ে দাড়ায় আসি


তখন জয় সব কাহিনি গণ্ডগোল করে বলল , হে হে হে কোন কলা???যেইটা তোমার প্যান্টের ভিতর রাখস??? :P




আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারসেন জয় কন কলার কথা বলসে
আমি তো চরম অপ্রস্তুত

সামনে তাকায় দেখি ইতুর মুখ রাগে শক্ত হয়ে যাচ্ছে
ডানে তাকায় দেখি জয় হাসতেসে

বামে তাকায় দেখি অয়ন গায়েব

আর পিছে দেওয়াল


কিছু বুঝার আগেই গালে ঠাস করে শব্দ

ওইদিনের পর্ আর ইতুর সামনে যাই নাই



তারপর একটা গানের প্যারডি বানাইসিলাম

ক্যায়সে বাতায়ে কিউ তুঝক চাহে
ইয়ারা ব্যাটা না পায়ে
বাতে দিলো কি দেখ জো বাকি
আখে তুঝে সামঝায়ে
ইতু জানে না আ আ আ আ
ইতু জানে না আ আ আ আ




এরপর দুই বছর হয়ে গেসে ।যতদূর জানি ইতু এখন জয়ের গার্লফ্রেন্ড
আর আমার দেওয়া চাবির রিং টা কোথায় জানি না


তখন ওই কাহিনি তে একটু মন খারাপ করলেও এখন মনে পরলে হাসি পায় বস
হায়রে পুরানো দিন গুলা জোস ছিল



৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×