আজকে আমার ভাতিজার বার্থডে ছিল।পার্টি টা ছিল বসুন্ধরা সিটি তে ।সন্ধ্যার পার্টি ছিল তাই ফিরতে দেরি হয়ে গেল।দেরি মানে একদম রাত সাড়ে এগারোটা ।আমি আর দুলাভাই দাড়ায় আসি বসুন্ধরা সিটির সামনে।হঠাৎ করে শুরু হল সেইরাম ঝড় বৃষ্টি।সুন্দর ঠাণ্ডা বাতাস আর বৃষ্টির ছিটে ফোঁটা মুখে পরতে লাগল
এক কথায় পাঙ্খা ওয়েদার মাম্মা।ঠিক এই মুহূর্তে যখন আমি ওয়েদার এনজয় করতেসি তখন পুরান দিনের কথাগুলা মনে পরে গেল
ধুর।এইগুলা ভাল্লাগে আপনারাই কন।বিরক্তি ভোরে একটা সিগারেট ধরাইতে গেলাম তাও ধরল না ।কি আর করা?ফিরে গেলাম পুরানো দিনে
২০১১ সাল এর মার্চ মাসের মাঝা মাঝি সময়।এস এস সি পরীক্ষা শেষ তাই সব ফ্রেন্ড রা মিলে মাঞ্জা মাইরা ঘুরি সারাদিন
আমাদের ফ্রেন্ড দের মধ্যে একটা ফ্রেন্ড ছিল নাম ইমরান
নাম টা একটু কমন বাট আরমান মামা কিন্তু ছিল পুরাই চাল্লু এক খান চিজ
ব্যাটা ছিল খাঁটি প্লে বয় টাইপ পোলা।মেয়ে দেখলে নিজে তো ঝুলতই ঝুলত আর যদি ও ম্যানেজ করতে না পারত ( আরমান মামা পটানো কে ম্যানেজ ই বলত ) আর ওই মেয়ে যদি আমাদের কোন ফ্রেন্ড এর সাথে বেশি খাতির রাখত সে শুধুই একটা কথা অলত , "মাম্মা খাইয়ালা" ( শুদ্ধ বাংলায় ট্রান্সলেশন "বন্ধু মেয়েটাকে পটিয়ে ফেল " )
এভাবে দিন যায় ইমরান এর ডেট করা মেয়েদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন সময় চলে আসল যে ঢাকার বাইরে থেকে নতুন মেয়ে আনতে হবে ওর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য।কারন ওর এক্স গার্লফ্রেন্ড দের মধ্যে কেউ নিশ্চয় ওকে বিয়ে করতে চাইবে না ( বুঝেন তাইলে পোলা কেমন ছিল )
এরপর হঠাৎ একদিন নাবিলের ফেইসবুক প্রোফাইলে একটা ফটো দেখে ইমরান পুরা থ।আমাকে ফোন দিয়ে বলে " দোস্ত এইডা কিডা?"
আমি বললাম "বস আমি ক্যামনে কমু?পছন্দ হইসে? "
তারপর পুরা আধা ঘণ্টা ইমরান যা বকর বকর করল তার মাঝে বলার মত কথা হল এই যে তার ওই মেয়ে টা দরকার
এরপর নাবিল কে অনেক রিকুয়েস্ট করার পর ওই মেয়ের প্রোফাইল আই ডি পায় আরমান
এর পরের গল্প হচ্ছে ইতিহাস
ফোন নাম্বার নেওয়া,কথা বলা,দেখা করা ব্লা ব্লা ব্লা
এরপর ইমরান ধুম করে মেয়েটাকে বলে দেয় ওর মনের সুপ্ত বাসনা
এরপর মেয়েটা ওকে ছোট খাটো একটা বাঁশ হিসেবে এক কথায় ডিনাই করে দেয়
প্রথম তিন দিন ইমরান ভালই ছিল । ওর কথা হল , " আরেহ মাম্মা চিক রা প্রথমে একটু পার্ট নেয় ই " আমি বললাম " তাই বলে তোর সাথে তো পার্ট নেয় না কেউ । তাইলে এ এতো ঢং করে ক্যান? " ইমরান কিছু বলল না শুধু চুপ করে থাকল
তিনদিন কি হইসে কেউ জানে না ইমরান ব্যাটা পুরাই চেঞ্জ হয়ে গেল
যেই ইমরান জিন্দেগীতে কোন মেয়ের জন্য কোন গান ডেডিকেট করে নাই সেই ইমরান আর্টসেল এর বৃষ্টি ভেজা রাতে গান রেকর্ড করে ওই মেয়েটাকে শুনাইতে চলে গেল মেয়েটার বাসায়
বাসায় মানে একদম বাসার সামনের চায়ের দোকানে লাউড স্পীকারে গান বাজাইতে
শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষের জুতা থেকে বাঁচতে আমরা চলে আসি
আরেকদিনের গল্প বলি ইমরান আমি আর কএকজন বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছি।হঠাৎ ইমরানের নায়িকার ফোন আসল।ইমরান কিছুটা দূরে গেলেও আমি একটু একটু শুনতে পাচ্ছিলাম কথা গুলো
ইমরান বলতেসে , " জাস্ট ইম্যাজিন।দোতলা বাসার জানালার পাশে দাড়ায় আসি আমি আর তুমি।কিছুক্ষন পর ই সূর্য ডুববে।মাত্র বৃষ্টি থামল।আকাশ এর মেঘ পুরা লাল হয়ে আসে।তুমি আমি হাত ধরে আরায় আসি।ঠাণ্ডা বাতাস।আমি তোমার ঠোটে . . . . "
তারপর ওই মেয়ে টা ওই পাশ থেকে কি বলল কে জানে ইমরান থেমে গেল।তারপর আরও কি কি যেন বলল।ফোন রাখার পর ইমরান আসার পর আমি বললাম " মাম্মা চরম টাংকি মার তো তুমি? এত্ত ফিলিংস পাও কই তুমি??? "
ইমরান বলল " দ্যাখ মামা এমনে মজা নিস না।একে আমি সিরিয়াসলি লাইক করি"
আমি বললাম , মাম্মা তুমি সিরিয়াসলি ক্রাশ খাইস?? :# :# :#
মাথাই নষ্ট
সেই মেয়েটাকে নিয়ে ওর আরেকটা স্বপ্ন ছিল সেইটা বলি।ইমরান ওকে নিয়ে রাতের বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হাঁটতে চেয়েছিল
ইমরান আমার অনেক কাছে বন্ধু তাই আমি জানতাম পোলা সিরিয়াসলি ক্রাশ খাইসে । কাহিনি জিগাইলে ইমরান বলে মেয়েটার সাথে কথা বলতে বলতে সে নাকি হঠাৎ করে নতুন কিছু ফিল করে।মেয়েটা নাকি আসলেই স্পেশাল।তখনও কোন মেয়ের দিকে সহজ ভাবে তাকাইতে পারতাম না বলে বুঝি নাই ইমরান এর কথা গুলা।মন হচ্ছিল ফাউ প্যাচাল
এর পর মে মাসের একুশ তারিখ।২০১১ সালের একুশে মে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে এক ব্যাটা প্রেডিকশণ মারসিল
সেদিন সারা বিকাল মারাত্মক ভাবে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়
বিকালের ঠিক শেষে আকাশ টা পুরা লাল হয়ে ছিল ।একদম গোধূলি লাল যাকে বলে
বাইরে বের হলাম সজিবের সাথে চা খাইতে আর দেখতে পৃথিবী কত টুকু ধ্বংস হল দেখতে
কিছুক্ষণ পর ইমরানের ফোন।বলে " মামা একটু আইতে পারবি গুলশানে?একা একা নায়িকার বাড়ির সামনে দাড়ায় আসি বোর লাগতাসে" আমি কই , " সরি মামা ফাউ প্যাচালের টাইম নাই"
রাত নয় টায় বৃষ্টির মধ্যে আবার ফোন।খুলে দেখি ইমরান।মেজাজ গরম করে কিছুখন গালি দিলাম
পরের দিন ইমরানের মা ফোন ধরে বলে ব্যাটার জ্বর আসছে
দেখতে গেলাম ।ভাবলাম চার পাঁচটা গালি দিয়া আসি।আমাকে দেখে ব্যাটা আরও হাসে। আমি কই দোস্ত কাহিনি কি ক তো ???
কাহিনি যা শুনলাম তার সারমর্ম হচ্ছে নায়িকা ইমরানের এর সাথ্যে বেট লাগসিল যে ও আসে নাকি আসে না
কারন নায়িকা শিওর ছিল ইমরান ওর সাথে জাস্ট পার্ট টাইম টাংকি মারতেসে
পরে ইমরানের অবস্থা শুনে একটু নরম হইলেও নায়িকা বলে যে " ইমু আমার তো একটা ছেলেকে পছন্দ আমি ওর সাথেই আমার রিলেশনশিপে যেতে চাই "
ইমরান তো পুরাই চুপ
এরপর বেশ কয়েকদিন ইমরান নারী বিষয়ক কর্ম চাঞ্চল্য না দেখে আমরা ওকে খেপাতে শুরু করলাম "মাম্মা তুই ছ্যাক খাইসস "
ইমরান হাসত কিছু বলত না
আজকে এই ঘটনার প্রায় দুই বছর হয়ে গেল
আমাদের সব বন্ধুর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস চেঞ্জ হলেও ইমরান এখনো সিঙ্গেল
অন্যদের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ও খানিকটা একা হয়ে যায়
তাই যখন তখন বৃষ্টি হলে সবাইকে ফোন করে জালাইত
তাই একসময়ের বন্ধু মহলের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষটির ফোন নাম্বার ডিসপ্লে তে দেখার সাথে সাথে সবাই কেটে দিত
কেউ কেউ নাম্বার ও চেঞ্জ করে ফেলে
বিরক্ত ইমরান এখন আর কাউকে ফোন দেয় না
হায়রে কত কি মনে পরে গেল এই বৃষ্টি তে
কি আর করা? দেখি ইমরান কে একবার একটু ফোন ক্লরে দেখি ব্যাটা এখনো সেই আগের জিপি নাম্বার টা ইউজ করে নাকি
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




