somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুখে চকোলেট বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করা হয় X((X((

০১ লা আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুনিরা ছাত্রদের ধরে দুই কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় তারা চিৎকার করলে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয় চকোলেট বোমা। দেয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে তাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুখের ভেতরই চকোলেট বোমা বিস্ফোরিত হয়। ছয় ছাত্রের তিনজনের ওপর এভাবেই পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। যন্ত্রণায় তারা যখন কাতরাচ্ছিল, খুনিরা তখন উল্লাস করছিল।



ঢাকার অদূরে আমিনবাজারের কেবলার চরে ছয় ছাত্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্যাতনের রোমহর্ষক এসব ঘটনা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ওই ছয় ছাত্র যে গণপিটুনিতে নিহত হয়নি, তা পুলিশ ও তদন্ত দলের কাছেও স্পষ্ট হচ্ছে। খুনিরা দীর্ঘ সময় নিয়ে ছয় ছাত্রকে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যা করে। তাদের ওই বর্বরোচিত নির্যাতন খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নিহত স্বজনদের সাক্ষ্য নিতে গিয়ে তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেছেন, আমরা নিশ্চিত, ওরা ডাকাত হতে পারে না। তাদের ডাকাতি করতে যাওয়ার কোনো অবকাশই নেই। নিহত টিপুর বাবা আবদুর রশিদ জানান, সেদিনের ঘটনা কখনোই গণপিটুনি ছিল না। গণপিটুনি হলে কারও দুই হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হতো না। তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হতো। কিন্তু নিহত টিপুর দুই হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। পুলিশ, তদন্ত দল ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পবিত্র শবেবরাতের রাতে সাত বন্ধু কেবলার চরে ঘুরতে গেলে মাদক ব্যবসার পাহারাদারদের নজরে পড়ে তারা। তারা সাতজনকে র‌্যাবের সোর্স ভেবে আটকে দেয়। তাদের মোবাইল ফোনসহ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় তারা। মাদকের পাহারাদাররা মাদক ব্যবসায়ীদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সাতজনকে আটকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর শুরু করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাটিতে ফেলে কোপাতে থাকে। সাতজনের মধ্যে তিনজন রক্তাক্ত অবস্থায় উঠে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তারা সেখানকার বালু তোলার একটি ড্রেজিং মেশিনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তাদের পিছু নেয় মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল। রাতের আঁধারে তন্ন তন্ন করে খোঁজ করতে থাকে তিনজনকে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তিনজনকে ড্রেজিং মেশিনের আড়াল থেকে বের করে নিয়ে আসে। ধরা পড়ে যাওয়ার পর তারা সন্ত্রাসীদের পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চায়। কিন্তু সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের উন্মাদনা যেন আরও বেড়ে যায়। টেনে-হিঁচড়ে আখড়ায় নেওয়া হয় তাদের। ইতোমধ্যে বাকি চারজনকে পিটিয়ে-কুপিয়ে বালুর ওপর ফেলে রাখে তারা। তাদের ওপর লাফিয়ে কেউ কেউ উল্লাস করতে থাকে। বালুর ওপর পড়ে থাকা চারজনের দেহ একটু নড়েচড়ে উঠলেই লাঠিসোঁটা দিয়ে আবার পেটাতে শুরু করে খুনিরা। অপরদিকে ওই তিনজনের ওপর দীর্ঘ সময় নিয়ে চলে পৈশাচিক নির্যাতন। চাপাতি দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। একজনের দুই কব্জি ও পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় তারা চিৎকার করলে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয় চকোলেট বোমা। দেয়াশলাই কাঠি জ্বালিয়ে তাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুখের ভেতরই চকোলেট বোমা বিস্ফোরিত হতে থাকে। একে একে তিনজনের ওপরই চলে বর্বরোচিত নির্যাতন। আঘাতের পর আঘাত সহ্য করতে না পেরে ছয় ছাত্রের প্রাণ বেরিয়ে যায়। লাশের ওপর উল্লাস করতে থাকে খুনিরা। এরপর তারা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে লোকজন ডেকে নিয়ে আসে। বিগত কয়েক মাসে যাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছিল, তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশের ওপরই লাঠিসোঁটা দিয়ে প্রহার করতে থাকে। খুনিদের নেতৃত্বদানকারী আবদুল মালেক ও তার দলের সদস্যদের পুলিশ চিনলেও এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে নিহত ছাত্রদের পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বড়দেশী গ্রামবাসীর অনেকেই ঘটনা জানতে পেরে তদন্ত কমিটির কাছে গোপনে সাক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×