মোদী বাংলাদেশে আসার আগে আওয়ামী লীগ চেস্টা করছিলো যে, খালেদা জিয়া যেন মোদীর সাথে দেখা করতে না পারে, আর বিএনপি চেস্টা করছিলো যে, খালেদা যেন দেখা করতে পারে; আরো শত ঘটনাকে বাদ দিলেও, শুধু এ ঘটনা থেকে সহজে বুঝা যাচ্ছে যে, আওয়ামী শক্তি ও বিএনপি শক্তি নিজেরাই ভারতকে আমাদের রাজনীতির রক্ষক বানায়েছে ও বানাচ্ছে।
ভারতের ভৌগোলিক অবস্হান, অর্থনীতি, রাজনৈতিক অবস্হান এ ধরণের ভুমিকায় যেতে ভারতকে সাহায্য করছে; এবং বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হতে ভারত নিজকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখাতে এ ধরণের ভুমিকা ভারতের জন্যও দরকারী।
ভারত বাংলাদেশের জন্মের সাথে জড়িত ছিল; এক সময়ে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে নির্লিপ্ত ছিল; এখন ভারত আবার বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছে।
এখন পরিস্কার যে, শেখ সাহেবকে যারা ১৯৭০ সালে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একাংশও চায়নি যে, পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশ হোক; যারা ভোট দেয়নি, তারা তো চায়নি সেটা পরিস্কার।
যাক, দেশ হয়ে যাওয়ার পর, যদি সবাই সমানভাবে উপকৃত হতো, সবাই যদি শুখ শান্তির মুখ দেখতো, সবাই মানসিকভাবে দেশকে ভালোবাস তো; শুধু হয়তো পরাজিত জামাতী রাজাকারেরা একটা সমস্যা হয়ে থাকতো; কিন্তু দেশ খুবই সামান্য অংশের জন্য বে-আইনীভাবে ভালো করেছে, তাদেরকে বে-আইনী ক্ষমতা দিয়েছে সম্পদ ও ক্ষমতা দখলে; ফলে, মানুষের কাছে জাতি, দেশ, ঐক্য বড় হয়নি।
শেখ সাহেবকে হত্যা করে, জাতিকে ভুল পথে নিয়ে গিয়ে জিয়া ভয়ংকরভাবে জাতির ক্ষতি করেছিল; জিয়া সামরিক বুদ্ধি দিয়ে রাজনীতিকে আইয়ুবের আদলে সাজায়েছিল, সেই মডেল ভাংতে গিয়ে দেশের মেরুদন্ড আরো ভাংগে; কারণ, যারা দেশকে আবারও সঠিক পথে আনতে চেয়েছিল, তারা এরশাদের হাতে পরাজিত হয়। এরশাদ আসার পর থেকে মানুষ ক্রমে সরকার বিরোধী হয়ে যায়; মানুষ আজও সরকার বিরোধী; ফলে, সরকার যে, শুধু বিরোধী দলের ভয়ে থাকে তা নয়, ওরা মানুষের ভয়েও থাকে।
মানুষ ও বিরোধী দল থেকে টিকে থাকার পথ হলো ভারত নির্ভরশীল হওয়া; সেটাই এখন রাজনীতি; সেটাতে ভালো করছে আওয়ামী লীগ; বিএনপিও ভারতের আশীর্বাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অবশ্য এখন শেখ হাসিনা চাইলে মানুষই রাজনীতির ক্ষমতাবিন্দু হতে পারতো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৫ রাত ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




