১৬০ কোটী মুসলমান, পুরো ইউরোপ, ৪০ ভাগ ইহুদী চায় যে, ফিলিস্তিন দেশ হোক, ফিলিস্তিন হচ্ছে না; সমস্যা কোথায়? এত মানুষের মিলিত শক্তি কাজ করে না কেন?
প্রথমে বাংলাদেশের একটা সেকশনের কথা বলি: বাংলাদেশের জামাতের আন্তর্জাতিক এজেন্ডার মাঝে আছে ফিলিস্তিন দেশ গঠনে সহযোগীতার প্রত্যয়; এখন দেখুন, ১৯৭১ সালে জামাত চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ যাতে না হয়; কিন্তু বাংলাদেশ হয়ে গেছে; তা'হলে দেখা যাচ্ছে যে, তাদের চাওয়ার মাঝে সমস্যা আছে; তারা ফিলিস্তিন চাইলে, ফিলিস্তিন হওয়ার সম্ভাবনা কম; তারা আধুনিক বিশ্ব, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝার মতো অবস্হানে নেই, তারা অনেক পেছনে।
এবার দেখুন একটা দেশ, পাকিস্তান; আশাকরি, ওরা সবাই ফিলিস্তিন চায়; কিন্তু ওরা বাংলাদেশে যে ধরণের হত্যা ও নারী নির্যাতন করেছে, তাদের ফিলিস্তিন ভাবনা চিন্তা, প্রত্যাশার কোন লজিক্যাল মিল আছে? অবশ্যই নেই। ওরা কোনদিন মাথা তুলে ইসরায়েলের বিপক্ষে কথা বলতে পারবে না ইউএন'এ, সবাই হাসবে।
বাকী মুসলমানদের অবস্হা, চাওয়া পাওয়া পাকিস্তান থেকে একটু ভালো, বা একটু খারাপ; ফলে, তাদের চাওয়ার মুল্য আসলে নেই। আপনি প্যালেস্টাইনের উপর ইউএন আলোচনাগুলো দেখবেন, যারা ফিলস্তিন নিয়ে কথা বলতে আসে, ওদের কারোই ক্রডিবিলিটি নেই নিজ দেশেই। ফলে, সংখ্যাটা ১৬০ কোটী হলেও ওজনের দিক থেকে নগন্য।
এবার বাংলাদেশ সরকারের কথা বলি, যতবার বাংলাদেশের সরকার প্রধানগণ ইউএন এ কথা বলেছে, বেশীর ভাগই সাহায্য চেয়ে কথা বলেছে; ভিক্ষা চাইলে কারো বড় গলা থাকে না; আবার দেখবেন, যখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সুদানের কেহ ইউএন'এ বক্তৃতা দেয়, কেহ তাদের কথা তেমন শোনে না; কারণ, তারা আগেই ধরে নিয়েছে যে, উল্লেখযোগ্য কোন কিছু থাকার সম্ভাবনা নেই; এসব দেশের বক্তাদের অদক্ষের তালিকায় রেখেছে ওরা।
এবার আসুন খৃস্টান জগৎ ইউরোপের কথায়; ইউরোপ যেভাবে চায় ফিলিস্তিন, আর হামাস, পিএলও, হিজবুল্লাহ যেভাবে চায়, তা মেটেই সম্পুরক নয়; ইরান, হিজবুল্লা, হামাস চায় ইসরায়েলকে ধ্বংস করে, তার উপর ফিলিস্তিন হবে; ইউরোপ কি তা চায়? বাংলাদেশ, পাকী, আফগানীরা ইউরোপে গিয়ে নিজ সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করে, ওখানে থাকার অনুমতি পায়; ইউরোপিয়ানদের কাছে মানুষের মুল্য অপরিসীম; তারা যদি বাংলাদেশের সামান্য একটা মানুষের জন্য হাত বাড়ায়, তারা কি চাইবে যে, হামাস ইহুদীদেরকে পাথর মারুক, রকেট মারুক, গৃহহারা করুক? কখনো চাইবে না।
ফলে, ইউরোপিয়ানদের চাওয়াকে স্বয়ং ফিলিস্তিনীরাই নাকচ করে দিচ্ছে; সুরংগ করে কাউকে মারুক, বোমা মারুক, কোনটাই চায় না ইউরোপ, ইউরোপ চায় যে, পাশাপাশি ২টি জাতি শান্তিতে থাকুক; কিন্তু হামাস চায় ১টি জাতি থাকবে। এখানেই ইউরোপিয়ান বক্তব্য দুর্বল হয়ে গেছে; তবুও তারা ১৯৯৩ সালে 'ওসলো চুক্তি' করে দিয়েছে যাতে ফিলিস্তিন হতে পারে।
বৃটিশের ইসরায়েল সৃস্টির ব্যাপারটা আমি একটা উদারঃরণ দিয়ে বুঝাতে চেস্টা করবো, দেখি আপনাদের মগজে স্হান পায় কিনা। ১৯৪৭ সালে, ভারত যুদ্ধ করে বৃটিশ কলোনী দখল করেনি; কিন্তু ১৭৭৬ সালে আমেরিকা যুদ্ধ করে বৃটিশ কলোনী দখল করে স্বাধীন দেশ প্রতিস্ঠা করে। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ নিজের ভারতীয় কলোনীকে ২টি দেশে বিভক্ত করে, কলোনী থেকে স্বাধীনতা দেয়; সেখনে ভারতীয়দের চাওয়া পাওয়া বৃটিশ পার্লামেন্টের মতানুসরেই হয়েছে।
বৃটিশ কলোনীতে কোন জাতি রাজ্য শাসন বা সরকার গঠনের মতো অধিকার পেতো না; নাগরিকেরা নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানা পেতো মাত্র। ১৯২০ সালে, বৃটিশ ভারতীয়দের হাতে ক্রমেই পার্লামেন্টারী ক্ষমতা দিচ্ছিল।
ফিলিস্তিন স্বাধীন দেশ ছিলো না, উহা ছিল অটোমান (ওসমানিয়া) সাম্রাজ্যের অংশ; বৃটিশ যুদ্ধ করে ইহা দখল করেছে, ফিলিস্তিনীদের থেকে নেয়নি; বৃটিশ কলোনীকে তারা স্বেচ্ছায় ২টি দেশে ভাগ করে, ইহুদীদের ও আরবদের দিতে গিয়েছিল; আরবরা নেয়নি, তারা পুরোটা চেয়েছিল।
****** আমার এক পাঠক আমাকে ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী বলেছেন, আমি উনাকে প্রশ্ন করেছি যে, কামাল পাশা কেমন মুসলমান ছিলেন; উনি এখনো উত্তর দেননি, দিলে এই পোস্টে দেবো। আমার ধারণা, আমি চেস্টা করছি, সঠিক এনালাইসিস করতে, যা মুসলামানদের সাহায্য করবে; হামাসের বা ইরানের অবস্হান মুসলমানদের ক্ষতি করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




