মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের ৯৫% হলো বেংগল রেজিমেন্টের বা ইপিআর'এর সাধারণ সৈনিক; খেতাবের ক্ষেত্রে বেশ বড় রকমের বৈষম্য হয়েছে; যেমন, 'জেড-ফোর্সের' মেজর জিয়া ও ক্যা: ওলি আহমেদ খেতাব পেয়েছেন, আরো অনেক সৈনিক খেতাব পেয়েছেন; কিন্তু স্টুডেন্ট প্লাটুনের ৫ জন শহীদ হওয়ার পরও, একজনও খেতাব পাননি; এর পেছেনে ব্যাখ্যা হলো, খেতাব ইতয়াদির কথা ভাবা হয়েছিল বিজয়ের পর, যখন সেনা বাহিনী ক্যানটনমেন্টে ফিরে গেছেন; তখন সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অফিসারেরা মাথা ঘামায়নি, তারা নিজেদের সৈনিকদের নামগুলো সংযুক্ত করেছেন; তাঁদের দক্ষতা কম ছিল; সবার তথ্য নিয়ে সঠিকভাবে করতে পারেননি।
খেতাব পেয়েছেন, বা পাননি বড় কথা নয়; ১৯৭২ সালে, বেংগল রেজিমেন্টের বা ইপিআর সৈনিকদের পরিবারের অর্থনীতি ও শিক্ষার কি অবস্হা ছিল? পরিবার প্রধান যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর, পরিবারের অবস্হা কি হয়েছিল? সামান্য সরকারী সাহায্য কি ঐসব পরিবারের অবস্হার কোন পরিবর্তন ঘটায়েছিল? পিতাহারা সন্তানেরা কি লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন? এসব পরিবারের সন্তানেরা যাতে "শিক্ষা" পায়, সেই ধরণের কিছু করেছিলেন শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেব? মোটেই না। আসলে, এসব পরিবারের বিধবা মাতারা সন্তানদের কিছু দেয়ার মতো অবস্হানে ছিলেন না; প্রায় পরিবারের সন্তানেরা শিক্ষা পাননি।
২২ হাজার শহীদ পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেয়ার দরকার ছিল শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেবের; তাঁদের ২ জনের মাথায় হয়তো এই ধরণের কোন দায়িত্ববোধ কোন কালেই আসেনি; এটাই প্রমাণ করেছে যে, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন ২ জনেই নিজেদের দায়িত্ব সঠিভাবে জানতেন না; যারা দায়িত্ব বুঝেন না, তারা কম বুদ্ধিমান; এজন্যই বাংলাদেশের শত্রুরা শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেবকে অত সহজে সরায়ে দিতে পেরেছিলেন।
আমরা যদি দেখি, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিনের সবচেয়ে নিকটতম পরিবার কাহারা ছিল? এই ২২ হাজার পরিবারই উনাদের জন্য সবচেয়ে ঘনিস্ততম পরিবার ছিলেন। তাঁরা ২ জনে ভুল করে, এসব পরিবারের সাথে কোনদিন দেখাও করেননি; কিন্তু জিায়র পরিবার, সেক্রটারীদের পরিবার, ফজলুল কাদেরের পরিবার নিয়ে সময় কাটায়েছিলেন; ফলাফল আপনারা দেখেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



