পাকিস্তান ভেংগে যাওয়াটা পাকিস্তানের মিলিটারী কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি; পাকিস্তানী মিলিটারীর সাথে সিআইএ'র খুবই ঘনিস্টতা ছিল; তারা এই শক্তিকে শেখ সাহেবের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেস্টা করে যাচ্ছিল; সত্তুর দশকে, সিআইএ'এর সবচেয়ে বড় কাজ ছিল যে কোন মুল্যে সোস্যালিজমকে থামানো; সোষ্যালিজম প্রতিস্ঠার জন্য যখন শেখ সাহেব 'বাকশাল' গঠন করেন, তখন সিআইএ, পাকিস্তানী মিলিটারী, বাংলাদেশ মিলিটারীর একাংশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাপিটেলিস্ট মনোভাবের লোকেরা এক হয়ে যায়; শেখ সাহেব তাদের সবার মিলিত টার্গেটে পরিণত হয়।
সিআইএ খুবই সুক্ষ্মভাবে অগ্রসর হয়েছে; তারা শেখ সাহেবের প্রতিটি ভুল পদক্ষেপকে উনার জনপ্রিয়তা কমানোর জন্য মানুষের সামনে তুলে ধরে; এ কাজে তারা দেশের সাংবাদিক, মিডিয়া ও পরাজিত শক্তিকে ব্যবহার করে; শেখ বিরোধীদের সৌভাগ্য, শেখ সাহেব একের পর একটা ভুল করে যাচ্ছিলেন; সবচেয়ে বড় ভুল, তিনি নিজকে ঢাকায় বন্দী করেন, মানুষ থেকে একেবারে দুরে; শেখ ফজলুল হক মনিসহ কিছু তরুণ, এবং কিছু ব্যুরোক্রেট উনাকে সাধরণ মানুষের নাগারেল বাহিরে নিয়ে যায়; মানুষর জন্য কোন দিক নির্দেশনা ছিল না; জাসদ, জামাত, পাকী প্রেমীরা মানুষের মাঝে যত রকম প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছিল।
লাখে লাখে যে সব মানুষ রেসকোর্সে, পল্টনে, লাল দিঘিতে, পলো গ্রাউন্ডে উনার সাথে ছিলেন, তাঁরা শেখ সাহেবকে কাছে পাচ্ছিলেন না; উনার কোন প্ল্যানের কথা, আশার বাণী শুনতে পাচ্ছিলেন না। উনার অলসতা ও নিস্ক্রিয়তার কারণে দেশে ১৯৭৪ সালে দেশে মংগা দেখা দেয়; শেখ বিরোধীরা এটার অপেক্ষায় ছিল।
সিআইএ বিশৃংখল মিলিটারীর নীচের র্যাংক থেকে কিছু ইঁদুরকে কেনে ফেলে উনাকে হত্যা করার জন্য; অবশ্য সিআইএ'এর ভাষায় ওরা দেশ প্রেমের অংশ হিসেবে এ কাজ করতে চায়।
সিআইএ সাথে সাথে দেশ চালানোর জন্য মিলিটারীর শক্ত জেনারেলকেও টোপ দেয়, বা ভয় দেখিয়ে তাদের দলে নিয়ে যায়।
১৯৭৫ সালে শেখ সাহেব বুঝতে পারেন যে, উনার পেছনে যে কোটী কোটী লোক জড়ো হয়েছিলেন, যেই কোটী কোটী মানুষ স্বাধীনতা এনেছেন রক্ত দিয়ে, তাঁদেরকে সমভাবে গড়ে তোলার দরকার, সবাইকে সমান সুযোগ দেয়ার দরকার; তখন তিনি সোস্যালিজম গড়ে তোলার জন্য মনস্হির করেন; তিনি সব রাজনীতিবিদদের এক করে 'সর্বদলীয়' সরকার গঠনের পদক্ষেপ নেন; গড়ে তোলেন 'বাকশাল'; কিন্তু এখনেও ভুল করেন, মানুষের সাথে কথা না বলে তিনি এগিয়ে যান; হয়তো উনার ধরণা ছিল, মানুষ বুঝবে; মানুষ বুঝতে পারেনি, মিডিয়া ও বাংলাদেশ বিরোধীরা বাকশালের বিপক্ষে ভয়ংকর প্রচারণা চালায়; তারা প্রচার করেছে, শেখ সাহেব গণতন্ত্র হতয়া করেছে, একদল করেছে; শেখ মাঠে আসেনি; প্রচারণা কাজ করেছে; অশিক্ষিত মানুষের মনে যা ঢুকে তা সহজে বদলায় না।
শেখ সাহেব সব বাংগালীর জন্য সমান সুযোগ করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন; যেই ২২ পরিবারের বিপক্ষে তিনি এত সংগ্রাম করলেন, সেই রকম ২২০০ পরিবার উনার আওয়ামী লীগেই আছে আজ; বাকীদের কথা বলে কি হবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




