যেসব অফিসারেরা শেখ সাহেবের হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল, তারা বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছে, দেশে বিদেশে ইন্টারভিউ দিয়েছে; সব যায়গায় তারা দাবী করতে চেয়েছে যে, তারা দেশ-প্রেমিক, তারা দেশের ভালো করার জন্য হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল।
কথাগুলো তাদের মনের কথা নয়, কথাগুলো সত্যও নয়; আসলে, তারা সবাই 'আলাদা আলাদাভাবে' সিআইএ ও আইএসআই'এর কাছে বিক্রয় হয়ে গিয়েছিল, কেহ কেহ জেনে শুনে, কেহ না বুঝে। এমন কি তাদের সবাই জানতো না যে, শেখ সাহেবকে মেরে ফেলা হবে।
শেখ সাহেবের উপর বাংগালীদের অগাধ বিশ্বাস ছিল ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী অবধি; কারণ, তখনো তিনি নেতা, তিনি সব আশার বাণী শোনাচ্ছেন; তাঁর জীবন, বাংগালীদের জীবন একই সুত্রে বাঁধা।
১১ই জানুয়ারী থেকে তিনি প্রশাসনের মালিক, অবস্হান বদল হয়ে গেছে; সেদিন থেকে তিনি মাইক্রোস্কোপের নীচে; ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি ৬ দফার ভিত্তিতে যেই সোনার বাংলার ছবি এঁকেছিলেন, তা করার দায়িত্ব ও ক্ষমতা তিনি পেয়েছেন; এবার ফল খাবার সময়। সবাই জানে যে, উনার গাছে ভালো ফল ধরেনি; শুরু হয়, হতাশা ও ক্ষোভ!
কিন্তু সময় ও সম্পদের দিক থেকে ভাবলে, ফল সম্পর্কে একটা ধরণা পাওয়া সম্ভব ছিলো; কিন্তু বাংলার মানুষের শিক্ষা ও সংস্কৃতি মানুষকে সাহায্য করেনি।
তারপরও রক্ষা হতো, যদি শেখ সাহেব বুঝায়ে বলতেন; উল্টো তিনি ভুল করলেন, অকারণে ৩ বছরের সময় চেয়ে; ৩ বছরে উনার মতো মানুষ কি করতে পারতেন, এখন বুঝা যাচ্ছে।
যাক, আইয়ুবের মানসপুত্ররা, যারা পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে রাজপুত্রের মতো জীবন যাপান করতেন, তারা বিজয়ী বাংলাদেশ থেকে কি চাইলেন? তাদের আশার সীমা ছিল না, কারণ তারা পাকিস্তানের রাজপুত হয়ে, সেই দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছেন; ফলে, তাদের চাওয়ার লিস্টের লেজ দৃস্টি সীিমার বাহিরে ছিল।
তাদের খুশী করার জন্য, তাদেকে ব্যস্ত রাখার জন্য ও তাদের থেকে উপকৃত হওয়ার একমাত্র উপায় ছিল তাদেকে প্রশাসনে নিয়ে আসা; শেখ সাহেব তা করেননি; উল্টো ক্যানটনমেন্টে অলস জীবনের মধ্যে ঠেলে দেন; তাদের মাথায় আইয়ুব খানের মন্ত্র ফিরে এসেছিল, দেশ তাদের, তারাই দেশ চালাবে।
পাকিস্তানের সেনা বাহিননীর লোকেরা, যারা কিছুদিন আগে এদেরই ভাইজান ছিল, তারা বাংলাদেশে এ ধরণের লোক খুঁজতেছিল; তাদের উদ্দেশ্য 'প্রতিশোধ'; শুধু পাকিস্তানী বাহিনী একা নয়, সাথে ছিল সিআইএ । সবাই সবাইকে ঠিক মতো খুঁজে নিয়েছিল। সবকিছুতে একটা কারণ যোগ করতে হয়, সেই কারণটা ছিল, 'দেশ প্রেম'; সিআইএ কোন প্রেমে আস্হা রাখে না, তারা কাজের লোককে টাকা দিয়ে কিনে; কারণ, তারা টাকায় বিশ্বাস করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



