আধুনিক শিক্ষিত মানুষ মৃত্যুদন্ডের বিপরিতে অবস্হান নিয়েছে; সর্বাধিক বড় শাস্তি হলো যাবজ্জীবন, সভ্যরা এটা প্রতিস্ঠিত করার জন্য আইনী প্রচেস্টা চালাচ্ছে। ৯০ই দশকের, নিউইয়র্ক রাজ্যের জনপ্রিয় গভর্নর মারিও কুমো 'মৃত্যুদন্ডের' বিপক্ষে অবস্হান নিয়ে ১৯৯৪ সালে, প্রায় অপরিচিত রাজনীতিবিদ জর্জ পাটাকীর কাছে পরাজিত হয়; পাটাকী 'মৃত্যুদন্ডের" পক্ষে ছিল; নিউইয়র্কের মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তির লিস্টে আফ্রিকান আমেরিকানরা ভয়ংকরভাবে এগিয়েছিল।
এ সপ্তাহে, ২ জন রাজাকারের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার জন্য সরকার ও জাতি যেভাবে জ্বরে আক্রাণ্ত হয়েছিল, এটা প্রমাণ করেছে যে, জাতির মানসিক স্বাস্হ্য খুব একটা ভালো নয়; সরকার এত দ্রুত গতিতে সবকিছু কার্যকর করছিল যে, মনে হচ্ছিল সরকার যেন যুদ্ধাবস্হায় আছে।
মিডিয়া ও মানুষ যেভাবে ফাঁসি কার্যকরণের মহুর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল, এটা অবশ্যই অস্বাস্হ্যকর মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
মিডিয়া যেভাবে রসালোভাব 'জল্লদ'দের জীবনী প্রকাশ করছিল, তাদের ছবি দিচ্ছিল, এগুলো আসলে ভয়ানকভাবে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য বিতরণ।
মৃত্যুদন্ড অবশ্যই মানুষের জন্য মানবতাহীন শাস্তি; মানবতাহীন অপরাধের জন্য সভ্য সমাজ মানবতাহীন শাস্তি দিলে, অপরাধী ও শাস্তিদাতা একই পর্যায়ে চলে আসে।
যারা ভয়ংকর অপরাধ করে, তারা এক সময় নিজের অপরাধের গুরুত্ব বুঝতে পারে; এই বুঝতে পারার পর, সে যদি অনুতপ্ত হয়ে বাঁচতে চায়, এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চায়, তাকে বাঁচিয়ে রেখে সেই সুযোগ দেয়া দরকার।
আমরা বাংগালীরা মোটামুটি কম অপরাধ-প্রবন জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলাম; বর্তমানে অপরাধ বাড়ছে; এটাকে আইনীভাবে মোকাবেলা করার দরকার; কিন্তু মানবতাহীন শাস্তি এই যুগের মানুষের উপর কার্যকরী করা ঠিক হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




