১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, বিজয়ের দিন, যাঁদের বয়স ১৬ বছর, বা বেশী ছিল, তাদের মাঝ থেক্বে মাত্র ১ কোটী ৪০ লাখ মানুষ জীবিত আছেন আজ; এঁরা বিজয় দেখেছিলেন, অনুভব করেছিলেন, এঁরা বিজয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন, বিজয় এনেছিলেন।
১৯৭১ সালের ও তার পুর্বের জেনারেশনের ৯০ ভাগ মানুষের জন্মদিবসের তারিখটি ভুল; কারণ কি? শিক্ষার অভাব! যাক, তারপরও যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখটি সেই জেনারেশন ঠিক মতো মনে রাখতে পেরেছেন, সেই জন্য জেনারেশনকে ধন্যবাদ; আসলে, ঘটনাটি এতই বড় যে, সেই সময়ের পড়ালেখা না জানা মানুষগুলো জাতির এই বিজয়কে মনে রাখতে পেরেছেন; যদিও উনাদের জন্ম তারিখটিও ঠিক মতো লিপিবদ্ধ করার মতো পজিশনে ছিলেন না।
কিন্তু সেই জেনারেশন কি বিজয়ের আগের ৯ মাসের যুদ্ধ, যুদ্ধের কারণ, মানুষের ভুমিকা, মানুষের অবদান, মানুষের কস্ট, মানুষের ব্যর্থতা, প্রাপ্তি ইত্যাদি ঠিক মতো অবজার্বেশন, বিশ্লেষন করতে পেরেছিলেন? না, পারেননি। সেজন্যই আমরা ভিয়েতনাম হতে পারিনি, চীন হতে পারিনি, হতে পারিনি সামান্য মালয়েশিয়াও।
বিজয়ের গুরুত্ব মনে হচ্ছে, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেবও বুঝতে পারেননি; উনারা বুঝতে পারলে, উনাদের সরকারে, কমপক্ষে ১১ সেক্টরের ২২ জন মন্ত্রী থাকতেন; উনাদের প্রশাসনে ৯০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা থাকতেন; সেক্টেটারিয়েটে পাকী প্রশাসনে কাজ করা ১ জন সিএসপি'রও থাকার কথা ছিলো না। পাকীদের ফেলে যাওয়া সম্পতি আজও জাতীর সম্পদ হিসেবে থাকতো; ১০ জানুয়ারীর পর, বাংলাদেশে ১ জনও বেকার থাকতো না; ৫/৬ বছরের প্রতিটি শিশু ১৯৭২ সালে স্কুলে যেতো।
আমরা পাকী মিলিটারীর বিপক্ষে বিজয়ী হয়ে, সিআইএ, আইএসআই ও নিজেদের লোকদের কাছে পরাজিত হয়েছি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




