"আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু নীতি বদলায় না", এ ধারণাটি বাংলাদেশে চালু আছে; যদিও এটা ভয়ংকর একটি ভুল ধারনা, কিন্তু অনেক রাজনীতির প্রফেসর থেকে শুরু করে, টিউটোরিয়েল জেনারেশন'এর বিরাট অংশ এ ধারণাটি পোষণ করে আসছে। রাতের পরিস্কার আকাশে তাকালে নভোমন্ডলে যত তারকা দেখা যায়, তার সবগুলো তারকা নয়; এদের মাঝে গ্রহ, উপগ্রহও আছে, স্ট্রোনোমারেরা বুঝতে পারেন, কোনটা কি!
সাম্প্রতিক কালের ৪ জন প্রেসিডেন্টকে কেহ চিনলে, এবং তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বুঝলে, দেখা যাবে যে, প্রতিটি প্রেসিডেন্টের নীতি আলাদা; ১৯৮৮-১৯৯২ সময় কালে প্রেসিডেন্ট ছিলেন সিনিয়র বুশ; উনার ছেলে, বুশ জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০০-২০০৮ সময় কালে; সিনিয়র বুশ, সম্প্রতি নিজের আত্মজীবনীতে নিজের ছেলেকে দুর্বল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখায়েছেন; তিনি মনে করেছেন যে, ভাইস চেইনী ও ডিফেন্স সেক্রেটারী রামসফেল্ড হোয়াইট হাউজে নিজেদের নীতি চালু করেছিল।
প্রথম বুশ বিদায় নেয়ার সময়, আমেরিকা ভয়ানক রিসেশনে ছিল; ক্লিনটন এসে ৮ বছরে আমেরিকাকে পুনরায় ভালো অবস্হানে নেয়; ক্লিনটন মিডল-ইস্টের নীতিহীন ডিক্টেটরদের পেছনে আমেরিকান জীবন খরচ করতে চায়নি; কিন্তু বুশ জুনিয়র আমেরিকান সৈনিকদের এক অন্তন্থীন যুদ্ধে পাঠায়ে দেয়; এখানে ২ জনের মাঝে নীতির পার্থক্য ছিল অনেক অনেক।
২০০৮ সালে, আমেরিকাকে ভয়ংকর দুর-অবস্হার মাঝে নিয়ে যায় ওয়াল স্রীট; সেটাও ছিল ছোট বুশের ভুল নীতিকে ব্যবহার করে; ওবামা এসে ৬ বছরে আমেরিকাকে ক্লিনটনের চেয়েও ভালো পজিশনে এনেছে; এই বিরাট সাফল্যার পেছেন অনেক নীতিমালাকে কাজে লাগাতে হয়েছে।
বাংলাদেশের মিডিয়ার মফিজ মিয়াদের লেখা পড়ে, বা ঢা ইউনিভার্সিটির ক্যাডার প্রফেসরের লেখা থেকে আপনি যদি মুখস্হ করেন যে, "আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু নীতি বদলায় না", উহা ভুল ব্যতিত কিছুই নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



