
আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট হবে ইতিহাসের সবচয়ে বিচিত্রতম ও দুর্বল আমেরিকান প্রেসিডেন্ট; হিলারী ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেড ক্রুজ, বার্নি সেন্ডারস থেকে একজন প্রেসিডেন্ট হবেন; বা এর বাইর থেকে হওয়ার ৫% সম্ভাবনা আছে; যদি এই ৪ জনের বাইর থেকে কেহ হন, সেটা হবে 'কনটেস্টড কনভেনশনের' ফলে; তখন, হয়তো খুবই যোগ্য একজন ক্যানডিডেট বের হয়ে আসবেন।
ডেমোক্রেটদের হিলারী হলো রংগিন পানি, যা যেকোন পাত্রের আকার ধারণ করছেন, সবকিছু মেপে মেপে তোতার মতো বলছেন; আসলে, তার আগের ইতিহাস হলো দক্ষতাহীন মহিলা, যিনি স্বামীর কারণে বড় বড় পদ দখল করে এসেছেন; এবার সেটাকে ব্যবহার করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেস্টা করছেন; উনার সবকিছু বেগম খালেদা জিয়ার সাথে অনেকদিক থেকে মিলে যায়।
হিলারীর বিপক্ষে আছেন বার্ণি সেন্ডারস, যিনি সব ক্যান্ডিডেটগুলোর মাঝে যোগ্য, ও বিশাল ভাবনার ও তত্বের লোক; কিন্তু উনি এখনো বেশ পেছনে; উনার কিছু অবস্হানগত সমস্যা আছে, প্রথমটা হলো উনি সোস্যালিস্ট বলে নিজকে দাবী করেছেন; আমেরিকানরা 'সোস্যািস্ট' শব্দটাকে বাংগালীদের চেয়েও বেশী ভয় করে; উনার অন্য সমস্যা হচ্ছে, উনি ইহুদী; আমেরিকানরা কি ইহুদীকে শেষমেষ ভোট দেবে? ২০০০ সালে, ডেমোক্রেটদের ক্যানডিডেট আল গোর'এর পরাজয়ের পেছনে ১টা ফ্যাক্টর ছিলো, উনার উহুদী ভাইস।
রিপাবলিকানদের ডোনাল্ড ট্রাম্প'এর মুল প্রচারণ হচ্ছে, বর্তমান আমেরিকান রাজনীতিবিদদের বিপক্ষে, উনি বলছেন এরা বাংলাদেশ, পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের মতো; এরা বড় বড় কর্পোরেশনের মালিক ও নিজেদের ব্যতিত বাইরের কারো জন্য কেয়ার করে না; কমদামে উৎপাদন চালায় চীনে ও মেক্সিকোতে; উনার ২য় বৃহত্তম বক্তব্য হলো মুসলিমদের ও আরবদের বিপক্ষে; উনার যুক্তি হলো, ওরা খেতে না পেয়ে, ও বিতাড়িত হয়ে পশ্চিমে আসে; খেয়েদেয়ে ভালো থাকে, তারপর একদিন পশ্চিমের মানুষকে মারে, সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আমেরিকান মারে। ইনি সবকিছু ভালো করার আশ্বাস দিচ্ছেন; আশ্বাসের দিক থেকে হাসিনার মতো, কোন মাপজোপ নেই, সবই হবে, এটাই বড় কথা; কিন্তু জীবনে খুবই সফল; শেখ হাসিনাকে পার্টির সবাই ভয় পায়, নেত্রী ডাকে; কিন্তু ট্রাম্পকে তার নিজের পার্টি চাহে না; আজকে পুরো পার্টির বিপক্ষে বিরাট বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প, বলেছেন, পার্টির নেতারা অসৎ।
টেড ক্রুজ বহুরূপী মানুষ, ভালো বক্তা, ধর্মীয়; তবে, মিথ্যার আশ্রয় নেন; উনি ট্রাম্পের পেছনে; তবে, 'কনটেস্টড কনভেনশনের' ফলে উনি ক্যান্ডিডেট হয়ে যেতে পারেন; পার্টি উনাকেও কম পছন্দ করে।
'কনটেস্টড কনভেনশন' হলো, মানুষের ভোটে যদি কোন ক্যানডিডেট প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পায়; পার্টির স্পেশাল ডেলিগেইটরা ভোট দিবে কনভেনশনে। কনভেনশন হলো, ক্যানডিডেট নির্বাচনের সভা। রিপাবলিকানদের ক্যানডিডেট হতে হলে, ১২৩৭ ডেলিগেটের সমান ভোট পেতে হবে; ডেমোক্রেটদের ক্যানডিডেট হতে হলে,২৩৮৩ ডেলিগেটের সমান ভোট পেতে হবে। ক্যানডিডেট কোন রাজ্যে ভোটে জিতলে ঐ রাজ্যের ডেলিগেইট পেয়ে থাকেন, তবে এখানে অনেক ধরণের বন্টন ব্যবস্হা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


