
সোহাগী তনু'র মৃত্যুতে দারিদ্রতা একটা ভুমিকা রেখেছে, খুব ছোট ভুমিকা; ড: কামাল হোসেনের মেয়ে বিরাট ব্যারিস্টার, শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুল প্রতিবন্দ্ধীদের মুখপাত্র, কোকোর বড় মেয়েটি মালয়েশিয়া পড়ে; এরা জীবনে 'টিউসানী' করেনি, ঘরে ঘরে গিয়ে টিউসানী করেনি কোনদিন; কিন্তু হাজার হাজার তনুকে ঘরে ঘরে গিয়ে টিউশানী করতে হয়েছে, হচ্ছে। তনু ব্যতিত, ঢাকায় ৩/৪ বছর আগে আরেকটা মেয়েকে টিউশানী থেকে ফেরার পথে একই ভাবে, ধর্ষিত হয়েছিল; ওকে মেরে, পোড়ায়ে ফেলেছিল। ১৭ কোটীর মাঝে এই রকম ২টি ঘটনা বিরাট কিছু নয়; কিন্তু এটা জাতির অবস্হানের একটা 'ইনডিকেটর'।
আলম গ্রুপ ৩ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে মানুষের ঘরের সামনে; প্রতিবাদ করতে গিয়ে মানুষ মরেছে নিজের উঠানে; মানুষের বসত-ভিটার পাশে যদি বিদ্যুত কেন্দ্র করতে হয়, মানুষ নিজে করলে মনে কস্ট পাবে না; কিন্তু তারা যদি দেখে, তাদের বসত বাড়ী ধংস করে, চীনাদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে, আলম গ্রুপ লাভ করতে চায়, মানুষ তা মানতে পারে না; পুলিশ দিয়ে পিটায়ে, মেরে, সাময়িকভাবে জয়ী হলেও, জাতি তা মেনে নেবে না।
বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা গেছে, শিল্প ব্যাংক থেকে টাকা গেছে, সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা গেছে, রিজার্ভ থেকে টাকা গেছে দস্যুদের হাতে; জাতি যখন জেনেছে, জাতি হতাশ হয়েছে; জানেনি যে, সেই রকম ঘটনা অনেক অনেক। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা কি সরকার তনুদের স্কলারশীপ হিসেবে দিতো? দিতো না।
আমাদের দরিদ্র মেয়েদের সৌদীসহ অন্য আরবদেশে পাঠাচ্ছে কাজে; ভারত, পাকিস্তান ও দুবাইর পতিতালয়ে বিক্রি করা হচ্ছে কাজের নামে আইনীভাবে।
৪০ লাখ টাকা দিয়ে, দালালদের হাতে জীবন সপে মানুষ আমেরিকা যাচ্ছে; ৩ লাখ দিয়ে মালয়েশিয়ার পথে ট্রলারে উঠছে; ৭ লাখ টাকা দিয়ে ভুমধ্য-সাগর নৌকায় পাড়ি দিয়ে মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করছে; ইউরোপ বলছে, আর নয়, যা আছে, সেই ৮০ হাজার ফেরত নাও; ওরা টাকা দিয়ে ফেরত দিতে চাচ্ছে, আর রাতে ভুমধ্য-সাগর পাড়ি দিয়ে নতুন বাংগালী ওখানে যাচ্ছে; এগুলোর ভবিষ্যত কি?
পলুশানে দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে; সিলেট, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লায় ধানের জমিতে বাড়ী আর বাড়ী; ঢাকা শহর বাড়ছেই বাড়ছে; নদীর পানিতে বজ্য, বাতাসে ইটের ভাটার ধুয়া; দেশ ক্যানসারের রাজধানী; ওদিকে গ্লোবেল ওয়ার্মিং সময়ের সাথে গ্রাস করার জন্য প্রস্তুত, ভুমির অভ্যন্তরে পানির স্তর ভয়ংকর নীচে।
এতগুলো অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান কি আছে? অবশ্যই আছে; সেটা 'সামজিক অর্থনীতি'; দেশের প্রতিটি মানুষকে রাস্ট্রের অর্থনীতির সাথে, রাস্ট্রের ব্যবসার সাথে, রাস্ট্রের প্ল্যানের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। এখন ১৭ কোটীর বদলে আছে শুধু আলম গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, জহুরুল ইসলাম গ্রুপ, ফালু গ্রুপ, সালমান গ্রুপ, কর্ণেল ফারুক গ্রুপ, মেজের মান্নান গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, মির্জা আব্বাস গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, আওয়ামী গ্রুপ; কিন্তু এদের অর্থনৈতিক ভাবনা কখনো ১৭ কোটীর সমান নয়; ১৭ কোটীর সংযুক্তিকরণ হবে 'সামাজিক অর্থনীতির' প্রয়োগ; ১৭ কোটী মানুষের শ্রম ও অর্থকে ফাইন্যান্সের নিয়মের অধীনে আনলে, এটা হবে বিশাল এক শক্তি; এই শক্তি আমাদিগকে অরাজকতা, দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করবে?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


