
উত্তর ট্টগ্রামের দিন-মুজুর মনামিয়া সকালে কাজে বের হয়ে, বিকেলে ঘরে ফেরেননি; তিনি চলে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে; ৬ মাসের বাচ্ছাসহ মনামিয়ার স্ত্রীর বিকেলের জন্য চাউল ছিলো না; একই গ্রামে বাপের বাড়ী, মনামিয়ার স্ত্রী বাচ্ছাটিকে কোলে করে হত-দরিদ্র বাবার ঘরে গিয়ে উঠলো। মনামিয়া রামগড়ে যুদ্ধ করেন; পরে, 'জেড-ফোর্সের' গেরিলা হিসেবে দেশের ভেতরে যুদ্ধ করেন; তিনি পাকী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ধরা পড়ার পরদিনই, উত্তর চট্টগ্রামে পাকী বাহিনী উনাকে হত্যা করে। যুদ্ধে মনামিয়ার কমান্ডার লোকমান খানও প্রাণ দেন।
যুদ্ধ শেষ হলো; মনামিয়ার স্ত্রী বিধবা, কোলে দেড় বছরের বাচ্ছা; বিধবার পিতা হত-দরিদ্র দিন-মুজুর; এই বিধবা ও তাঁর দেড় বছরের সন্তানকে সান্তনা দেয়ার দায়িত্ব কার ছিলো? দেড় বছরের সন্তানের দায়িত্ব কার নেয়ার কথা ছিল?
আমার ধারণা ছিলো, শেখ সাহেব কিংবা তাজুদ্দিন সাহেব মনামিয়ার স্ত্রীকে সান্তনা দেবেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেবেন, বাচ্ছাটিকে একবার কোলে তুলে আদর করবেন, এই পরিবারটির দায়িত্ব নেবেন। মনামিয়ার স্ত্রী বা গ্রামবাসী মনামিয়াদের অবদানের বিশালত্ব বুঝার অবস্হানে ছিলো না; কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেব এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য সবকিছু করবেন, পিতৃহীন শিশুকে জাতির সন্তান হিসেবে বড় করবেন।
কোনদিন বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্পুর্ণ কোন লোক মনামিয়ার স্ত্রীর খোঁজ খবর নেয়নি; যে মহান বীর নিজের প্রাণ দিয়ে গেলেন, তাঁর স্ত্রীকে সান্তনা দিতে কেহ এলো না, তাঁর সন্তানটিকে কেহ কোলে নিয়ে আদর করলো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


