
মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করতে লন্ডন থেকে চলে আসেন ডাক্তার জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরী; মনে হয়, লন্ডন, নিউইয়র্ক থেকে আর কেহ পড়ালেখা রেখে ফিরে আসননি ১৯৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করার জন্য আরো এসেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২য় বর্ষের ১ জন ছাত্র, নোয়াখালীর আবদুর বর (জাসদের রব নন) ; যথাসম্ভব, এটুকুই ডাক্তাদের অবদান। পুরো জাতির জন্য, পুরো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ডাক্তার জাফর উল্ল্যাহ ছিলেন এক বিরাট উৎসাহ; তিনি তাঁর পেশানুসারে আহতের সেবা করেছেন, শরণার্থীদের সেবা করেছেন।
যুদ্ধের পর, পুরো মেডিক্যাল সমাজে তিনি বীর; পারিবারিক দিক থেকে প্রভাবশালী ও ডাক্তার হওয়ার কারণে শেখ সাহেব, তাজুদ্দিন সাহেব থেকে শুরু করে সবার সাথে সম্পর্ক; উনাকে কোটী কোটী টাকার জায়গা দেয়া হয়েছে সাভাবে হাসপাতাল করার জন্য, দেয়া হয়েছে এনজিও'র টাকা; তিনি দেশের ঔষধ নিয়ন্ত্রনে ছিলেন জানতাম।
তারপর কখন শেখ সাহেবের দল ত্যাগ করে বিএনপি'র সমর্থক হয়ে গেছেন কে জানে, আমি অন্তত জানি না; হয়তো, জয়নাল হাজারী, ওসমান পরিবার, মিজানুর রহমানদের ভিড় এড়াতে জেনারেল জিয়ার দলে চলে গেছেন; এখন হাতে অনেক টাকা, অনেক সুযোগ, যুদ্ধের অবদানের জন্য বরারবরই উঁচু অবস্হানে আছেন; এবং থাকা উচিত।
সেদিন উনি বেগম খালেদা জিয়াকে একখানা খোলা চিঠি লিখেছেন; বিডি-নিউজ-২৫ এ খোলা চিঠি অনেকের মতো আমিও পড়েছি; চিঠি পড়ে আমার বারবার মনে হচ্ছিল, এ যেন এক সার্কাসের প্রকান্ড হাতির ভাঁড়ামী; বেগম জিয়া এত বড় হাতীকে কিভাবে শিকলে বাঁধলেন?
বেগম জিয়াকে উনি অনুরোধ করেছেন, বেগম জিয়া যেন পার্টিকে আরো গণতআন্ত্রিক করেন; বেগম জিয়া ৩৩ বছর পার্টির সভাপতি, এবারও সভাপতি হয়েছেন, সেই বেগম জিয়া যেন পার্টিকে আরো গণতান্ত্রিক করেন?
আরেকটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন, পার্টিকে পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে; ঠিক এই বাক্যের ৩ লাইন পরেই লিখেছেন, তারেক জিয়াকে দেশে আনার জন্য যেন পদক্ষেপ গ্রহন করেন, যাতে তারেক জিয়া পার্টিকে সংগঠিত করতে পারে!
২০ লাইনের রাজনৈতিক পত্র লিখতে গিয়ে যদি এই অবস্হা হয়, এত বড় হাতীকে অবশ্যই সামনের ২ পায়ে ভর করে, সার্কাসের লোকদের হাসানো ছাড়া আর কি কাজ দেয়া যেতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


