
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি শেষমেষ হয়েও যায়, বছর দশেক চলেও, এবং সুন্দরবন যদি মোটামুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারপরও প্রকৃতি ফিরে আসবে; রামপাল একদিন বন্ধ হবে, সুন্দর বন আবার হবে; হয়তো ১০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এই ২০ বছরে ১০/১৫ লাখ মানুষ স্বদেশের অর্থনৈতিক সুনিধা থেকে বন্চিত হবে, সেই সুবিধাটা ভোগ করবে ভারতীয় ধনী ব্যক্তিরা।
রামপালের মোটমুলধনের ৭০% ঋণ হিসেবে নেয়া হবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে, গ্যারান্টর হচ্ছে বাংলাদেশ; বাকী ৩০% দেবে বাংলাদেশের পিডিপি ও ভারতীয় ইলেকট্রিক কোম্পানী; ঋণের দায়ও ২ কোম্পানী বহন করবে। ঋণের টাকা শোধ হবে আয় থেকে। আয় থেকে যদি শোধই হয়, এবং গ্যারান্টর যদি বাংলাদেশ সরকার হয়, ঋণের বিপরিতে লাভের অংশ ভারতীয় কোম্পানীকে কেন দেয়া হবে?
তাদেরকে ঋণের ভেতর কেন আনা হচ্ছে? তারা যে অংশ ক্যাশ দেবে সেটার মালিক হওয়ার কথা; আসলে, তাদের থেকে টাকা নেয়টাই অন্যায়; কারণ, ৭০% যদি ঋণই থাকে, এবং সেটা যদি আয় থেকে দেয়া হয়; তা'হলে সে অংশ তো বাংলাদেশের মানুষকে দেয়া উচিত, সাথে শর্তানুসারে ১৫% ক্যাশও বাংগালীরা দিতে পারতো। আমি যদি কোন কিছু মিস করে থাকি আপনারা জানাবেন।
ভারতের বিদ্যুৎ কোম্পানীকে কি কারণে নেয়া হয়েছে, তা আমার কাছে পরিস্কার নয়; ফাইন্যান্সের প্যাটার্ণ দেখলে মনে হচ্ছে যে, পুরোটাই বাংলাদেশ নিজেই করতে পারতো, বা সাথে সাধারণ মানুষের কনসোর্টিয়মা গঠন করে ক্যাশ ১৫% সহজেই যোগাড় করা যেতো। ১৫% ক্যাশ দিয়ে যদি আরো ৩৫% ঋণের অংশের মালিকানা নেয়া যায়, আমার মনে হয়, বাংলার মানুষের জন্য এটা ছিল বিশাল লাভজনক প্রজেক্ট!
দরিদ্র মানুষের শান্তির যায়গা হলো বনজংগল, বড়লোকদের জন্য হোটেল সোনার গাঁ, প্যারিস, আমেরিকা; সেই শান্তির শেষ যায়গা যখন বিপদের সন্মুখীন, সেখানে থেকে সামান্য খুদ-কুটা এলেও তো পেট ভরতো!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

