
ট্রাম্প জংগীবাদের বিপক্ষে কথা বলা শুরু করে প্রাইমারীতে; কারণ, সে জানতো যে, এই পয়েন্টে সে অন্যদের চেয়ে ভালো করবে, বেশী ভোট পাবে! যেড বুশ, টেড ক্রুজ, মার্কো রুবিও, হিলারীরা কি জংগীবাদের পক্ষে বলছিলো? না, তারা জংগীবাদের পক্ষে নয়, তবে তারা তখন বা আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন জংগীদের বিরুদ্ধে যেটুকু করেছে, ট্রাম্প তার থেকে বেশী করবে বলেছে।
ট্রাম্প তার কথায় জংগী ও মুসলিম শব্দ দুটোকে সমান অর্থে ব্যবহার করেছে বেশ কিছুদিন, এবং সে ইচ্ছাপুর্বক করেছে। প্রথম প্রতিবাদ আসে "নেশান অব ইসলাম" থেকে; কিন্তু সমস্যা হলো, নেশান অব ইসলাম আরবের ইসলাম নয়, উনাদের নবীর নাম এলিজা মোহাম্মদ, ইনি আমেরিকান নাগরিক ছিলেন; এই কারণে, বাংলাদেশী, পাকিস্তানী ও আরবী মুসলমানেরা তাদের সাথে এক গলায় প্রতিবাদ জানাতে পারেনি।
আবার আরব ও পাকিস্তানী মুসলমানদের আমেরিকানরা মোটামুটি জংগীই মনে করে; ফলে, ওরা প্রতিবাদ জানালেও মানুষের তেমন সহানুভুতি ছিল না; কিন্তু সাধারণ আমেরিকানরা কখনোও ধর্ম নিয়ে "জেনারেলাইজেশনের" পক্ষে না; ফলে, সব সময় বড় প্রতিবাদ এসেছে আমেরিকানদের পক্ষ থেকেই।
ট্রাম্প কখনো মুসলামানদের ভোট আশা করেনি; কারণ, মুসলমানেরা ডেমোক্রেটিক রাজ্যে বসবাস করে সব সময়(নিউইয়র্ক, ইলিনয়, কালিফোর্নিয়া), এবং ভোটের সংখ্যা নগণ্য।
মুসলমানেরা মনে করেছিল যে, হিলারী জিতবে; ফলে, তারা ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলে ট্রাম্পকে থামাতে চায়নি, তার পক্ষে যাবার কথা ভাবেওনি। তারা কিছুটা চেস্টা করেছে বুঝাতে যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ট্রাম্প ধর্ম পালন করে না, ফলে কোনটা শান্তির, বা কোনটা অশান্তির, সেটা নিয়ে সে মাথা ঘামানোর লোক নয়, সে ভোট বাড়ানোর চেস্টা করছিলো মাত্র।
ট্রাম্পের মনে ২টি ঘটনা দাগ কেটেছে, ১টা হলো, পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত আমেরিকান মৃত সৈনিকের পিতার অকারণ বাড়াবাড়ি, ডেমোক্রেটদের কনভেনশনে গিয়ে বক্তৃতা দেয়া; ও সিএনএন হোস্ট ফরিদ জাকারিয়ার ভোটের দিনের বকবক, উনি বলেছেন যে, উনি হিলারীকে ভোট দেবেন। এই ২ জনের ভুমিকা ছিল ভয়ংকর ভুল; আর মুসলমান কম্যুনিটি ভুল হিসেব করেছিল যে হিলারী জিতবে; ফলে তাদের অবস্হাই ভুল ছিল; এখন সেটা নিয়েই বাঁচতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



